সংসদ সদস্যদের সুশাসন বিষয়ক নির্বাচিত পাঠ্য তালিকা (১৭)
বৈশ্বিক সূচকঃ নারীদের নিরাপত্তা সম্পর্কিত (০৪টি)(১৭)
বৈশ্বিক সূচকঃ আইন শৃংখলার সাথে সম্পর্কিত (০৮টি) (১৬)
সুশাসন-ভিত্তিক ১১টি বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ও র্যাংকিং (১৫)
গালি নয় বুলি বদলান: আগামীর রাজনীতি হোক তথ্য ও সমাধানের (১৪)
পরিসংখ্যানঃ বাংলাদেশের নির্বাচন ও ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং এর অভিযোগ
সামাজিক চুক্তিঃ নির্বাচিত এমপিদের বৈধতার উৎস? (১২)
একটি দেশে যখন একদল প্রতিনিধি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে বসেন, তখন অনেক সময় তারা আত্মতৃপ্তিতে ভোগেন যে—ক্ষমতা এখন তাদের হাতে। কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ধ্রুপদী দর্শন বলছে অন্য কথা। ক্ষমতার আসল উৎস এবং এর নৈতিক সীমানা বুঝতে হলে আমাদের ফিরতে হবে মানব সভ্যতার সেই আদি 'সামাজিক চুক্তি'র ইতিহাসে।
‘লিগ্যালিটি বনাম লেজিটিমেসি’-স্বৈরাচারের গোড়াপত্তন ও অবসান (১১)
রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আইনশাস্ত্রে 'লিগালিটি' এবং 'লেজিটিমেসি' শব্দ দুটি প্রায়ই সমার্থক মনে হলেও এদের মধ্যে এক বিশাল তাত্ত্বিক ব্যবধান রয়েছে। সহজ কথায়, লিগালিটি হলো আইনের কঠোর অনুসরণ, আর লেজিটিমেসি হলো সেই আইনের নৈতিক ভিত্তি বা জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন। কোনো শাসন বা আইন 'লিগ্যাল' হয়েও 'ইললেজিটিমেট' (অবৈধ) হতে পারে, যা আমরা প্রায়শই বিপ্লবী পরিস্থিতিতে দেখতে পাই।
‘সামাজিক চুক্তি’- সার্বভৌমত্বের উৎসবিন্দু (১০)
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ইতিহাসে সামাজিক চুক্তি (Social Contract) তত্ত্বটিই প্রথম প্রচার করে যে, সার্বভৌমত্ব কোনো ঐশ্বরিক দান নয়, বরং এটি মানুষের নিজেদের মধ্যে করা একটি চুক্তির ফসল। অর্থাৎ, রাষ্ট্র বা সার্বভৌমত্বের আদি ও আসল উৎস হলো জনগণ।
সামাজিক চুক্তির প্রধান তিন দার্শনিক—হবস, লক এবং রুশো—সার্বভৌমত্বকে ভিন্ন ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
বিশ্বব্যাপী অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ১০টি গণভোট (৯)
বিশ্বব্যাপী সর্বশেষ অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ ১০টি গণভোটের (Referendum) ফলাফল নিচে ছক আকারে দেওয়া হলো। এই তালিকায় ২০২৬ সালের সাম্প্রতিকতম গণভোটসহ গত কয়েক বছরের উল্লেখযোগ্য নির্বাচনগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণঃ তত্ত্বাবধায়ক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন (৮)
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মোট ৪টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের (বা অন্তর্বর্তীকালীন নিরপেক্ষ কাঠামো) অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনটি একটি রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এটি সাংবিধানিক রূপ পায়।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণঃ বাংলাদেশের গণভোট (৭)
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় কোনো বিশেষ জাতীয় ইস্যুতে সরাসরি জনগণের রায় গ্রহণই হলো গণভোট। বাংলাদেশের ৫ দশকের ইতিহাসে আমরা দেখেছি, যখনই কোনো মৌলিক সাংবিধানিক পরিবর্তন বা শাসনতান্ত্রিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে, তখনই গণভোটের দ্বারস্থ হয়েছে রাষ্ট্র। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মোট ৩টি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি (আগামীকাল) চতুর্থ গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণঃ বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন ও ফলাফল (৬)
বাংলাদেশের রাজনীতি মূলত বড় দুটি দল—আওয়ামী লীগ ও বিএনপি-কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। তবে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। নিচে ১৯৭০ সালের মহাবিজয় থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রধান দলগুলোর পারফরম্যান্স ছক আকারে সাজানো হলো।
বাংলাদেশের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির বিবর্তন (১৯৭৩–২০২৪) (৫)
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাচন মানেই এক উৎসবমুখর পরিবেশ, আবার কখনও তা গভীর সংকটের প্রতীক। ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচন থেকে ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতির হারের দিকে তাকালে এক বৈচিত্র্যময় গ্রাফ ফুটে ওঠে, যা দেশের গণতন্ত্রের স্বাস্থ্য ও রাজনৈতিক আস্থার প্রতিফলন ঘটায়।
দূর্নীতির ধারণা সূচক বিশ্লেষণ (৪)
প্রতিটি নির্বাচনের আগে রাজঃনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে একটি বাক্য অভিন্ন থাকে— "দুর্নীতি দমন করা হবে।" কিন্তু জনমনে প্রশ্ন থেকে যায়, এই প্রতিশ্রুতি কি কেবলই কথার কথা, নাকি এর পেছনে কোনো বিজ্ঞানসম্মত কর্মপরিকল্পনা আছে? সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (TI) কর্তৃক প্রকাশিত ২০২৫ সালের (যা ২০২৬-এর শুরুতে আলোচিত) ‘দুর্নীতি ধারণা সূচক’ বা সিপিআই আমাদের এক রূঢ় বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ১০০-এর মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর মাত্র ২৪। যদিও গতবারের চেয়ে ১ পয়েন্ট বেড়েছে, কিন্তু বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আমরা এখনো দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় 'লাল তালিকায়' রয়ে গেছি।
জাতীয় নেতৃত্বের বক্তব্য মূল্যায়নের ০৮ চলক (৩)
একজন জাতীয় নেতার বক্তব্য কেবল শব্দের সমষ্টি নয়, বরং এটি একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ার ইশতেহার। প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল তার 'রেটোরিক' (Rhetoric) তত্ত্বে বলেছিলেন, একটি কার্যকর বক্তব্যের তিনটি স্তম্ভ থাকে: ইথোস (Ethos) বা বক্তার নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, লোগোস (Logos) বা যৌক্তিক প্রমাণ এবং পাথোস (Pathos) বা আবেগীয় সংযোগ। বর্তমানে রাজনীতিতে 'পাথোস' বা আবেগের বাড়বাড়ন্ত দেখা গেলেও ইথোস (নৈতিক গ্রহণযোগ্যতার) ও 'লোগোস' বা তথ্যের ঘাটতি প্রকট। একজন নেতার উচিত নিজেকে ইথোস এর মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হিসাবে গড়ে তোলা করা এবং আবেগকে তথ্যের আধারে পরিবেশন করা, যাতে তা কেবল হাততালি নয়, বরং জনমনে দীর্ঘমেয়াদী আস্থা তৈরি করে।
রাজনীতিবিদদের বিমূর্ত প্রতিশ্রুতি বনাম তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা (২)
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একজন রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য কেবল জনসভার বিনোদন নয়, বরং তা হওয়া উচিত রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার দালিলিক রূপরেখা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এখনো 'বিমূর্ত' (Abstract) ও আবেগনির্ভর বক্ততার আধিপত্য বেশি। "আমরা দারিদ্র্য দূর করব" কিংবা "উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দেব" বা, দূর্নীতির মূলোৎপাটন করব —এ জাতীয় গৎবাঁধা বুলিতে কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা বা ডেটা (Data) থাকে না। অথচ আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, একজন দায়িত্বশীল নেতার ভাষা হওয়া উচিত তথ্যভিত্তিক এবং পরিকল্পনা হওয়া উচিত বাজেট ও বেজলাইন-নির্ভর।
জননিরাপত্তা ও আইনের শাসনঃ নাগরিকের প্রধান দাবী (১)
একটি আধুনিক রাষ্ট্রের সার্থকতা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে আমরা প্রায়ই 'কল্যাণ রাষ্ট্র' (Welfare State) এবং 'আইনের শাসন'কে (Rule of Law) আলাদা করে দেখি। কিন্তু গভীর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষণে এটি স্পষ্ট যে, এই দুটি বিষয় আসলে একটি অবিচ্ছেদ্য ধারাক্রম। কল্যাণের প্রথম এবং প্রধান শর্তই হলো নিরাপত্তা ও আইনের শাসন। রাষ্ট্র যদি নাগরিকের জান-মালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে সেখানে সরাসরি অর্থ সাহায্য বা অন্য যেকোনো জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়ে। রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব হলো নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা; কারণ নাগরিকরা তাদের মেধা ও শ্রম দিয়ে নিজেদের জীবনের সংস্থান নিজেরাই করতে সক্ষম, যদি রাষ্ট্র তাদের নির্ভয়ে কাজ করার পরিবেশ দেয়।