সুশাসনের ‘Government Effectiveness’ ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের স্কোর, ক্রম ও অগ্রগতির পূর্বশর্ত (১৮)

ছক-০১ঃ সার্কভুক্ত দেশসমূহের ‘সরকারের কার্যকারিতা’ (Government Effectiveness):১০ বছরের গড়

বিশ্বব্যাংকের Worldwide Governance Indicators (WGI)-এর “সরকারের কার্যকারিতা” (Government Effectiveness)ক্যাটাগরিতে গত ১০ বছরের (২০১৪-২০২৩/২৪) সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিবর্তনের চিত্র তুলে ধরা হলো। প্রতিটি ছকে ওই নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির গভর্ন্যান্স স্কোর (-২.৫ থেকে +২.৫) দেখানো হয়েছে।

দেশ ২০১৪ ২০১৭ ২০২০ ২০২৩/২৪ ১০ বছরের প্রবণতা
ভুটান +০.৪০ +০.৪৫ +০.৫৬ +০.৫৬ ধারাবাহিক উন্নতি
ভারত +০.০৫ +০.১৮ +০.৩২ +০.৩২ শক্তিশালী উন্নতি
শ্রীলঙ্কা -০.২৪ -০.২৫ -০.৩৪ -০.৩৫ কিছুটা অবনতি
পাকিস্তান -০.৭৫ -০.৬২ -০.৬৯ -০.৮৪ অস্থিরতা
বাংলাদেশ -০.৮১ -০.৮৪ -০.৯২ -০.৮৮ স্থবিরতা


ছক-০২ঃ বাংলাদেশ: সরকারের কার্যকারিতা উপসূচক (২০১৪-২০২৪)

বছর মোট দেশ (আংশগ্রহণকারী) স্কোর (Estimate Score) পার্সেন্টাইল র‍্যাঙ্ক (%) সম্ভাব্য বৈশ্বিক ক্রম*
২০২৪ ২০৯ -০.৬২ ২১.৭০ ১৬৪
২০২৩ ২০৯ -০.৭০ ১৯.৮১ ১৬৮
২০২২ ২০৯ -০.৭৬ ১৮.৩৯ ১৭১
২০২১ ২০৯ -০.৭৪ ২১.১৫ ১৬৫
২০২০ ২০৯ -০.৭০ ২২.৬০ ১৬২
২০১৯ ২০৯ -০.৭২ ২২.৬০ ১৬২
২০১৮ ২০৯ -০.৭৮ ২০.৬৭ ১৬৬
২০১৭ ২০৯ -০.৭৪ ২১.৬৩ ১৬৪
২০১৬ ২০৯ -০.৫৩ ২৪.০৪ ১৫৯
২০১৫ ২০৯ -০.৭৮ ২০.১৯ ১৬৭
২০১৪ ২০৯ -০.৮১ ১৮.৭৫ ১৭১

ছক-০৩ঃ সার্কভুক্ত দেশসমূহের ‘সরকারের কার্যকারিতা’ (Government Effectiveness): ২০২৩-২৪ বছরের স্কোর



২০২৩-২৪ সালের সর্বশেষ লভ্য Worldwide Governance Indicators (WGI) প্রতিবেদন অনুযায়ী সার্কভুক্ত দেশসমূহের 'সরকারের কার্যকারিতা' (Government Effectiveness) ক্যাটাগরির বিস্তারিত চিত্র নিচে দেওয়া হলো। এই সূচকটি মূলত একটি দেশের আমলাতান্ত্রিক দক্ষতা, জনসেবার মান এবং রাজনৈতিক চাপ থেকে সিভিল সার্ভিসের স্বাধীনতার প্রতিফলন।

দেশ গভর্ন্যান্স স্কোর (-২.৫ থেকে +২.৫) পার্সেন্টাইল র‍্যাঙ্ক (০-১০০) সার্ক আঞ্চলিক ক্রম আনুমানিক বৈশ্বিক ক্রম (২০৩ দেশে) মন্তব্য ও পর্যালোচনামূলক বিশ্লেষণ
ভুটান +০.৫৬ ৭০.৭৫ ১ম ৬০ তম দক্ষিণ এশিয়ায় একমাত্র দেশ যারা আমলাতান্ত্রিক দক্ষতায় বৈশ্বিক গড় মানের চেয়ে অনেক উপরে।
ভারত +০.৩২ ৬৫.৫৭ ২য় ৭০ তম গত ১০ বছরে ডিজিটাল গভর্ন্যান্স ও সরাসরি সেবা প্রদানে অভাবনীয় উন্নতি করেছে।
শ্রীলঙ্কা -০.৩৫ ৪১.০৪ ৩য় ১২০ তম অর্থনৈতিক সংকটের কারণে প্রশাসনিক সক্ষমতা ও সেবার মান কিছুটা নিম্নমুখী।
মালদ্বীপ -০.৫৮ ৩০.৬৬ ৪র্থ ১৪১ তম ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারণে কেন্দ্রীয় সেবা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
পাকিস্তান -০.৮৪ ২৩.৫৮ ৫ম ১৫৫ তম রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও আমলাতান্ত্রিক কাঠামোতে কিছুটা ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা আছে।
নেপাল -০.৮৫ ২৩.১১ ৬ষ্ঠ ১৫৬ তম কেন্দ্রীয় সরকার থেকে প্রাদেশিক কাঠামোতে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় সেবার মান এখনো অস্থিতিশীল।
বাংলাদেশ -০.৮৮ ২৩.১১ ৭ম ১৫৭ তম উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতা ও SOP-এর অভাবে সেবার মানে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি।
আফগানিস্তান -১.৮২ ২.৩৬ ৮ম ১৯৮ তম প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ভাঙন ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার কারণে সেবার মান তলানিতে।


গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও নীতি-নির্ধারণী নোট:

১. ভারতের সাথে ব্যবধান: দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হিসেবে ভারতের স্কোর (+০.৩২) যেখানে ধনাত্মক, সেখানে বাংলাদেশের স্কোর (-০.৮৮) বেশ পিছিয়ে। ভারতের 'Digital India' এবং প্রশাসনিক অটোমেশন এই সূচকে তাদের এগিয়ে দিয়েছে।

২. বাংলাদেশের জন্য আশু চ্যালেঞ্জ: বাংলাদেশ এবং নেপাল প্রায় একই অবস্থানে (১৫৬-১৫৭ তম) রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হলো 'অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক ধাপ' এবং 'ব্যক্তি-নির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ'

৩. SOP ও সংস্কারের প্রভাব: একজন Executive Magistrate হিসেবে আপনার প্রস্তাবিত SOP (Standard Operating Procedure) বাস্তবায়ন করা গেলে এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দ্রুত উন্নত হতে পারে। কারণ:

  • এটি Government Effectiveness-এর প্রধান শর্ত 'পেশাদারিত্ব' নিশ্চিত করে।

  • এটি 'Policy Credibility' বা সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়ায়।

৪. ভুটান মডেল: ভুটান প্রমাণ করেছে যে, সম্পদ সীমিত হলেও কেবল সঠিক কার্যপদ্ধতি এবং সততার মাধ্যমে একটি উন্নয়নশীল দেশও বৈশ্বিক সুশাসন সূচকে শীর্ষ ১০০-এর মধ্যে (৬০ তম) থাকতে পারে।


বাংলাদেশের 'স্মার্ট বাংলাদেশ ২০৪১' লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই ক্যাটাগরিতে অন্তত ০.০০ (গড় মান) বা তার বেশি স্কোর অর্জন করা জরুরি। বর্তমান অবস্থান (৭ম) নির্দেশ করে যে, মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন থেকে শুরু করে নীতি নির্ধারণী পর্যায় পর্যন্ত পদ্ধতিগত আমূল পরিবর্তন (Systemic Change) এখন সময়ের দাবি।


এ ক্যাটাগরিতে এত পিছিয়ে থাকার কারণ কী? এবং কিভাবে এ ক্যাটাগরিতে উন্নতি করা যায়?

বিশ্বব্যাংকের সুশাসন সূচকের 'সরকারি কার্যকারিতা' (Government Effectiveness) ক্যাটাগরিটি মূলত একটি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক সক্ষমতার প্রতিফলন। একজন Executive Magistrate হিসেবে আপনার কর্মক্ষেত্র সরাসরি এই সূচকের সাথে সম্পৃক্ত।

নিচে এই সূচকের নির্দেশকসমূহ এবং এটি উন্নয়নের কার্যকর উপায়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. সরকারি কার্যকারিতা (Government Effectiveness) কী নির্দেশ করে?

এই সূচকটি মূলত ৪টি প্রধান স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে কোনো দেশের স্কোর নির্ধারণ করে:

  • জনসেবার মান (Quality of Public Services): নাগরিকরা সরকারি দপ্তর থেকে কতটা সহজে, দ্রুত এবং হয়রানিমুক্তভাবে সেবা পাচ্ছে।

  • সিভিল সার্ভিসের মান (Quality of Civil Service): সরকারি কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা এবং নিয়োগ ও পদোন্নতিতে মেধার মূল্যায়ন।

  • রাজনৈতিক চাপ থেকে মুক্তি (Independence from Political Pressure): আমলাতন্ত্র বা সিভিল সার্ভিস রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত হয়ে কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে।

  • নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন (Policy Formulation & Implementation): সরকারের গৃহীত পরিকল্পনাগুলো কেবল কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ কি না, নাকি সেগুলো মাঠপর্যায়ে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এটি সরকারের 'বিশ্বাসযোগ্যতা' (Credibility) নির্দেশ করে।


২. এই ক্যাটাগরিতে উন্নয়ন করতে হলে করণীয় (Action Plan)

বাংলাদেশ বর্তমানে এই সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় নিচের দিকে অবস্থান করছে। স্কোর উন্নয়নের জন্য প্রশাসনিক সংস্কারের বিকল্প নেই:

ক. স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) বাস্তবায়ন

এটিই হবে প্রথম পদক্ষেপ। প্রতিটি সরকারি কাজের জন্য একটি নির্দিষ্ট SOP থাকলে:

  • কাজে দীর্ঘসূত্রতা কমবে।

  • ব্যক্তিবিশেষের মর্জির ওপর কাজ নির্ভর করবে না।

  • স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।


খ. সিটিজেন চার্টার (Citizen Charter) কার্যকর করা

কেবল দেয়ালে টানিয়ে রাখা নয়, বরং চার্টারে বর্ণিত সময়ে সেবা না পেলে দায়িত্বরত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান থাকতে হবে। এটি সেবার মান বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।

গ. ই-গভর্ন্যান্স ও অটোমেশন

ম্যানুয়াল পদ্ধতির পরিবর্তে ডিজিটাল ফাইল ম্যানেজমেন্ট (D-Nothi) এবং অনলাইনে সেবা প্রদান (যেমন—অনলাইনে মিউটেশন বা লাইসেন্সিং) বৃদ্ধি করতে হবে। এতে সরাসরি মানুষের সাথে আমলাদের দেখা হওয়ার প্রয়োজন কমবে, ফলে দুর্নীতি ও সময়—দুই-ই সাশ্রয় হবে।

ঘ. পারফরম্যান্স ভিত্তিক মূল্যায়ন (APA)

বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (Annual Performance Agreement)-কে আরও কঠোর ও বাস্তবসম্মত করতে হবে। যারা লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করবে তাদের পুরস্কৃত করা এবং যারা ব্যর্থ হবে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

ঙ. সিভিল সার্ভিসে ইনোভেশন ও প্রশিক্ষণ

প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা বদলে 'সেবাগ্রহীতা-বান্ধব' মানসিকতা তৈরি করতে কর্মকর্তাদের নিয়মিত আধুনিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তির ব্যবহারে পারদর্শিতা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।

৩. প্রশাসনিক গবেষণার ক্ষেত্রে আপনার জন্য পরামর্শ

যেহেতু আপনি পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নিয়ে গবেষণা করছেন এবং সিভিল সার্ভিস সংস্কারে আগ্রহী, তাই নিচের বিষয়গুলো আপনার গবেষণায় যুক্ত করতে পারেন:

  • ভুটান মডেল: দক্ষিণ এশিয়ায় ভুটান কেন এই সূচকে শীর্ষে, তাদের 'Gross National Happiness' এবং আমলাতান্ত্রিক স্বচ্ছতার মডেলটি বাংলাদেশে কতটা প্রয়োগযোগ্য।

  • বটম-আপ অ্যাপ্রোচ: কেন্দ্রীয় সচিবালয় থেকে নীতি চাপিয়ে না দিয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের (যেমন—ম্যাজিস্ট্রেট বা ইউএনও) অভিজ্ঞতা থেকে নীতি প্রণয়ন করা।

বাংলাদেশের স্কোর -০.৮৮ থেকে ধনাত্মক (+) করতে হলে সরকারি কাজে 'স্বচ্ছতা' এবং 'গড়িমসি' বন্ধ করাই হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ। আপনার প্রস্তাবিত SOP মডেলটি যদি সফলভাবে কোনো একটি দপ্তরেও পাইলটিং করা যায়, তবে তা সরকারি কার্যকারিতা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান বদলে দেওয়ার একটি বড় ধাপ হতে পারে।


Standard Operating Procedure (SOP) বা আদর্শ কার্যপ্রণালী কিভাবে এ-ক্যাটাগরির উন্নয়নে ভূমিকা পালন করতে পারে?

বাংলাদেশের আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো 'ব্যক্তি-নির্ভর সিদ্ধান্ত' এবং 'অস্পষ্ট কার্যপদ্ধতি'। বিশ্বব্যাংকের 'সরকারি কার্যকারিতা' (Government Effectiveness) সূচকে বাংলাদেশের স্কোর বর্তমানে -০.৮৮, যা মূলত প্রশাসনিক অদক্ষতা নির্দেশ করে।

Standard Operating Procedure (SOP) বা আদর্শ কার্যপ্রণালী এই সূচকটি উন্নয়নে নিচের ৫টি উপায়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে:

১. প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকরণ (Institutional Consistency)

বাংলাদেশে অনেক সময় একজন দক্ষ কর্মকর্তার বদলির পর সেই দপ্তরের কাজের গতি থমকে যায়।

  • SOP-এর ভূমিকা: যখন প্রতিটি কাজের জন্য লিখিত ধাপ বা গাইডলাইন থাকবে, তখন ব্যক্তি পরিবর্তন হলেও কাজের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসবে না। এটি বিশ্বব্যাংকের 'Quality of Public Services' নির্দেশককে উন্নত করবে, কারণ নাগরিকরা সবসময় একই মানের সেবা পাবে।

২. আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা বা 'Red Tapism' হ্রাস

সরকারি ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে পড়ে থাকার প্রধান কারণ হলো—কোন ফাইল কার কাছে কতক্ষণ থাকবে তার সুনির্দিষ্ট নিয়ম না থাকা।

  • SOP-এর ভূমিকা: SOP-তে প্রতিটি ফাইলের মুভমেন্টের জন্য সময়সীমা (Timeframe) নির্ধারিত থাকে। এতে কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা বাড়ে এবং অপ্রয়োজনীয় ধাপগুলো বাদ পড়ে। এটি সরাসরি 'Policy Implementation'-এর গতি বাড়িয়ে দেয়।

৩. রাজনৈতিক ও বহিঃস্থ চাপ প্রশমন

সরকারি কার্যকারিতা সূচকের একটি বড় অংশ হলো—রাজনৈতিক চাপ থেকে সিভিল সার্ভিসের মুক্তি।

  • SOP-এর ভূমিকা: যখন কোনো কাজ সুনির্দিষ্ট নিয়ম বা SOP অনুযায়ী হয়, তখন কোনো কর্মকর্তা চাইলেও অনিয়ম করতে পারেন না এবং বাইরের চাপ আসলেও তিনি "নিয়মের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই" বলে সেটি এড়াতে পারেন। এটি প্রশাসনিক 'Independence' নিশ্চিত করে।

৪. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি রোধ

স্পষ্ট গাইডলাইন না থাকলে কর্মকর্তারা অনেক সময় নিজের পছন্দমতো আইন ব্যাখ্যা করেন (Discretionary Power), যা দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করে।

  • SOP-এর ভূমিকা: SOP লজিক-ভিত্তিক এবং ধাপ-ভিত্তিক হওয়ায় কর্মকর্তাদের 'ইচ্ছাধীন ক্ষমতা' সীমিত হয়ে যায়। ফলে সেবাগ্রহীতারা বুঝতে পারেন তাদের কাজ কেন হচ্ছে বা কেন হচ্ছে না। এটি 'Transparency' বৃদ্ধি করে স্কোর উন্নয়নে সহায়তা করে।

৫. ডাটা-চালিত কর্মসম্পাদন মূল্যায়ন (Performance Monitoring)

SOP থাকলে বোঝা সহজ হয় কোন ধাপে কাজ আটকে আছে বা কার গাফিলতিতে দেরি হচ্ছে।

  • SOP-এর ভূমিকা: বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (APA)-কে সফল করতে SOP একটি টুল হিসেবে কাজ করে। এর মাধ্যমে কর্মকর্তাদের দক্ষতা গাণিতিকভাবে পরিমাপ করা সম্ভব হয়, যা 'Quality of Civil Service' বৃদ্ধি করে।

গবেষণার জন্য একটি কৌশলগত মডেল (Strategic Suggestion):

আপনি যদি বাংলাদেশে এই সূচকটি উন্নয়ন করতে চান, তবে আপনার প্রস্তাবিত SOP মডেলে নিচের ৩টি বিষয় যুক্ত করতে পারেন:

SOP-এর উপাদান সুশাসন সূচকে প্রভাব ফলাফল
সময়াবদ্ধ সেবা (Timeline) Government Effectiveness সেবা প্রদানে গতি আসবে।
অটোমেশন ইন্টিগ্রেশন Regulatory Quality ডিজিটাল ফাইল ট্র্যাকিং সহজ হবে।
ফিডব্যাক মেকানিজম Voice & Accountability নাগরিক সন্তুষ্টি পরিমাপ করা যাবে।

বাংলাদেশে বর্তমানে 'স্মার্ট গভর্নেন্স' গড়ার যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, তার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত SOP। এটি কেবল একটি গাইডলাইন নয়, বরং এটি প্রশাসনের একটি 'অপারেটিং সিস্টেম' হিসেবে কাজ করবে, যা বিশ্বব্যাংকের সুশাসন সূচকে বাংলাদেশকে ঋণাত্মক স্কোর থেকে ধনাত্মক স্কোরের দিকে নিয়ে যেতে সক্ষম।

Additional Studies:

  1. Good Governance in SARRC Countries: Link


Next
Next

সংসদ সদস্যদের সুশাসন বিষয়ক নির্বাচিত পাঠ্য তালিকা (১৭)