বিশ্বব্যাপী অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ১০টি গণভোট (৯)

বিশ্বব্যাপী সর্বশেষ অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ ১০টি গণভোটের (Referendum) ফলাফল নিচে ছক আকারে দেওয়া হলো। এই তালিকায় ২০২৬ সালের সাম্প্রতিকতম গণভোটসহ গত কয়েক বছরের উল্লেখযোগ্য নির্বাচনগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

বিশ্বের সর্বশেষ ১০টি গণভোট ও ফলাফল:


ক্রম

দেশ

গণভোটের বিষয়

তারিখ

হ্যাঁ (Yes)

না (No)

বাতিল/অন্যান্য

সিদ্ধান্ত (গৃহীত/বাতিল)
   
১   
   
২   
   
৩   
   
৪   
   
৫   
   
৬   
   
৭   
   
৮   
   
১   
   
বাংলাদেশ   
   
জুলাই ন্যাশনাল চার্টার   (সংবিধান সংস্কার)   
   
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   
   
৬৮.৫৯%   
   
৩১.৪১%   
   
৯.৫৫%   
   
গৃহীত   
   
২   
   
মলদোভা   
   
ইউরোপীয় ইউনিয়নে (EU) যোগদানের   লক্ষ্য   
   
২০ অক্টোবর ২০২৪   
   
৫০.৩৫%   
   
৪৯.৬৫%   
   
১.২৭%   
   
গৃহীত   
   
৩   
   
সার্বিয়া   
   
বিচার বিভাগীয় পরিবর্তন   (সংবিধান সংশোধন)   
   
১৬ জানুয়ারি ২০২২   
   
৬০.৪৮%   
   
৩৯.৫২%   
   
১.০১%   
   
গৃহীত   
   
৪   
   
নিউ ক্যালেডোনিয়া   
   
ফ্রান্স থেকে স্বাধীনতা লাভ   
   
১২ ডিসেম্বর ২০২১   
   
৩.৫০%   
   
৯৬.৫০%   
   
২.৯৯%   
   
বাতিল   
   
৫   
   
উজবেকিস্তান   
   
নতুন সংবিধান ও মেয়াদের পরিবর্তন   
   
৩০ এপ্রিল ২০২৩   
   
৯০.২১%   
   
৯.১৮%   
   
০.৬১%   
   
গৃহীত   
   
৬   
   
কাজাখস্তান   
   
পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র   নির্মাণ   
   
৬ অক্টোবর ২০২৪   
   
৭১.১২%   
   
২৮.৮৮%   
   
২.৪৩%   
   
গৃহীত   
   
৭   
   
চিলি   
   
নতুন সংবিধানের প্রস্তাব   (দ্বিতীয়বার)   
   
১৭ ডিসেম্বর ২০২৩   
   
৪৫.৬১%   
   
৫৪.৩৯%   
   
৪.৭৫%   
   
বাতিল   
   
৮   
   
সুইজারল্যান্ড   
   
বায়োডাইভার্সিটি ইনিশিয়েটিভ   
   
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪   
   
৩৭.২০%   
   
৬২.৮০%   
   
০.৯০%   
   
বাতিল   
   
৯   
   
অস্ট্রেলিয়া   
   
আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি   (Voice)   
   
১৪ অক্টোবর ২০২৩   
   
৩৯.৯৪%   
   
৬০.০৬%   
   
০.৯৭%   
   
বাতিল   
   
১০   
   
কিউবা   
   
নতুন পারিবারিক আইন (সমকামী   বিবাহ বৈধতা)   
   
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২   
   
৬৬.৮৫%   
   
৩৩.১৫%   
   
২.৫৩%   
   
গৃহীত   

গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ:

 

১) বাতিল ভোটের হার: অধিকাংশ উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে (যেমন সুইজারল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়া) বাতিল ভোটের হার খুবই কম থাকে (সাধারণত ১%-এর নিচে)। তবে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বা জটিল ব্যালট পেপার থাকলে এই হার ৫% থেকে ১০% পর্যন্ত হতে পারে।

 

২) বাংলাদেশের গণভোট (২০২৬): এই গণভোটে বাতিল বা অকার্যকর ভোটের হার ছিল ৯.৫৫%, যা তুলনামূলকভাবে বেশি। ভোটারদের অসচেতনতা বা নতুন ব্যালট সিস্টেম এর কারণ হতে পারে।

 

 ৩) চিলি ও অস্ট্রেলিয়া: এই দুটি দেশে জনগণ সরকারের বড় সংস্কার প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে (না ভোট বেশি)।

 

৪)  প্রস্তাবসমূহ: বাংলাদেশ, কাজাখস্তান এবং উজবেকিস্তানের মতো দেশগুলোতে বড় ব্যবধানে প্রস্তাবগুলো গৃহীত হয়েছে। বিশেষ করে উজবেকিস্তানে সমর্থনের হার ছিল অভাবনীয় (৯০%+)।

 

৫) বাতিল প্রস্তাবসমূহ: অস্ট্রেলিয়া এবং চিলিতে ভোটাররা সরকারের আনা গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবগুলো সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে, নিউ ক্যালেডোনিয়া ফ্রান্সের সাথেই থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্বাধীনতার প্রস্তাবটি বিশাল ব্যবধানে বাতিল হয়।

 

৬) তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা: মলদোভাতে ফলাফল ছিল অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি, যেখানে মাত্র ০.৭০% ভোটের ব্যবধানে ইইউ-পন্থী প্রস্তাবটি জয়ী হয়।

Previous
Previous

‘সামাজিক চুক্তি’- সার্বভৌমত্বের উৎসবিন্দু (১০)

Next
Next

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণঃ তত্ত্বাবধায়ক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন (৮)