4."Sovereign"- Whom does it belong? People or his representative?

রুশোর রাষ্ট্রদর্শনে 'সার্বভৌম' (Sovereign) ধারণাটি অত্যন্ত অনন্য। তাঁর মতে, সার্বভৌম কোনো ব্যক্তি (যেমন রাজা) নন, বরং এটি হলো চুক্তিবদ্ধ জনগণের সমষ্টিগত রূপ।

সার্বভৌম বা সার্বভৌমত্ব কী? (রুশোর দৃষ্টিতে)

রুশোর মতে, যখন ব্যক্তিরা সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে একত্রিত হয়, তখন তারা একটি "সাধারণ ইচ্ছা" (General Will) তৈরি করে। এই সাধারণ ইচ্ছার সক্রিয় রূপই হলো সার্বভৌমত্ব। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

  • জনগণের ক্ষমতা: সার্বভৌমত্ব অন্য কারো হাতে ন্যস্ত থাকে না; এটি জনগণের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

  • আইন প্রণয়ন: সার্বভৌম ক্ষমতার মূল কাজ হলো আইন তৈরি করা। রুশোর মতে, আইন হলো সাধারণ ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ।

  • অবিভাজ্য ও হস্তান্তর অযোগ্য: সার্বভৌমত্ব কারো কাছে হস্তান্তর করা যায় না এবং একে খণ্ডিত করাও সম্ভব নয়।

ধারণার উৎপত্তি ও বিকাশঃ

সার্বভৌমত্ব বা Sovereignty শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে ল্যাটিন শব্দ Superanus থেকে, যার অর্থ হলো ‘সর্বোচ্চ’ (Supreme)। রাজনৈতিক দর্শনে এর অর্থ হলো এমন এক চূড়ান্ত ক্ষমতা, যার ওপরে আর কোনো আইনগত কর্তৃপক্ষ নেই।

সার্বভৌমত্বের ধারণাটি ধাপে ধাপে বিবর্তিত হয়েছে। মধ্যযুগের শেষে যখন ইউরোপে ধর্মীয় শক্তির বদলে আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে উঠতে শুরু করে, তখন এই ধারণার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। নিচে প্রধান দার্শনিকদের ভূমিকা আলোচনা করা হলো:

১. জঁ বোদাঁ (Jean Bodin) – আধুনিক সার্বভৌমত্বের জনক

বোদাঁকে সার্বভৌমত্ব তত্ত্বের প্রথম প্রবক্তা মনে করা হয়।

  • সংশ্লিষ্ট বই:Six Books of the Commonwealth (১৫৭৬)।

  • কিভাবে ও কি অর্থে ব্যবহৃত: বোদাঁ ফ্রান্সে গৃহযুদ্ধ এবং ধর্মীয় হানাহানি থামানোর জন্য একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় ক্ষমতার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। তাঁর মতে, সার্বভৌমত্ব হলো একটি রাষ্ট্রের নাগরিক ও প্রজাদের ওপর সর্বোচ্চ, চিরস্থায়ী এবং আইন দ্বারা অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা

    • ব্যবহৃত অর্থ: তিনি এটিকে রাজার নিরঙ্কুশ ক্ষমতা হিসেবে দেখেন। সার্বভৌম ক্ষমতা আইন তৈরি করবে, কিন্তু সে নিজে আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে। তবে তিনি মনে করতেন, রাজাকে অবশ্যই স্রষ্টার আইন এবং প্রাকৃতিক আইন মেনে চলতে হবে।

২. টমাস হবস (Thomas Hobbes) – নিরঙ্কুশ ও আইনি সার্বভৌমত্ব

হবস সার্বভৌমত্বকে সম্পূর্ণ লৌকিক এবং নিরঙ্কুশ পর্যায়ে নিয়ে যান।

  • সংশ্লিষ্ট বই:Leviathan (১৬৫১)।

  • কিভাবে ও কি অর্থে ব্যবহৃত: হবস মনে করতেন, প্রকৃতির রাজ্যের (State of Nature) অরাজকতা থেকে বাঁচতে মানুষ নিজেদের মধ্যে একটি চুক্তি করে তাদের সমস্ত ক্ষমতা একজন সার্বভৌম শাসকের (লেভায়াথান) হাতে তুলে দেয়।

    • ব্যবহৃত অর্থ: হাবসের সার্বভৌমত্ব হলো চূড়ান্ত ও প্রশ্নাতীত। এখানে সার্বভৌম সত্তা চুক্তির কোনো অংশ নয়, সে চুক্তির ঊর্ধ্বে। তাঁর মতে, সার্বভৌম ক্ষমতা খণ্ডিত করা সম্ভব নয়। তিনি শান্তি রক্ষার জন্য জনগণের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বিসর্জনের বিনিময়ে শাসকের নিরঙ্কুশ ক্ষমতায় বিশ্বাসী ছিলেন।

৩. জন লক (John Locke) – সীমিত বা সাংবিধানিক সার্বভৌমত্ব

লক সার্বভৌমত্বকে জনগণের অধিকারের সাথে যুক্ত করেন।

  • সংশ্লিষ্ট বই:Two Treatises of Government (১৬৮৯)।

  • কিভাবে ও কি অর্থে ব্যবহৃত: লকের মতে, সার্বভৌমত্ব সরকারের হাতে থাকলেও তা শর্তহীন নয়। সরকার গঠিত হয় জনগণের সম্মতির (Consent) ভিত্তিতে।

    • ব্যবহৃত অর্থ: তিনি সরাসরি 'Sovereignty' শব্দের চেয়ে Supreme Power (সর্বোচ্চ ক্ষমতা) শব্দটি আইনসভার ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন। তবে তাঁর কাছে প্রকৃত সার্বভৌম হলো জনগণ। যদি সরকার জনগণের প্রাকৃতিক অধিকার (জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তি) রক্ষায় ব্যর্থ হয়, তবে জনগণ সেই সরকারকে বদলে দেওয়ার সার্বভৌম ক্ষমতা রাখে। এটিই আধুনিক সাংবিধানিক সার্বভৌমত্বের ভিত্তি।

৪. জঁ-জ্যাক রুশো (Jean-Jacques Rousseau) – জনগণের সার্বভৌমত্ব

রুশো সার্বভৌমত্বকে রাজার হাত থেকে সম্পূর্ণভাবে কেড়ে নিয়ে জনগণের হাতে ন্যস্ত করেন।

  • সংশ্লিষ্ট বই:The Social Contract (১৭৬২)।

  • কিভাবে ও কি অর্থে ব্যবহৃত: রুশো বলেন, সার্বভৌমত্ব কোনো ব্যক্তি বা শাসকের নয়, বরং এটি হলো জনগণের 'সাধারণ ইচ্ছা' (General Will)-এর বহিঃপ্রকাশ।

    • ব্যবহৃত অর্থ: তাঁর মতে, সার্বভৌমত্ব হলো জনগণের সার্বভৌমত্ব (Popular Sovereignty)। এটি হস্তান্তর অযোগ্য এবং অবিভাজ্য। জনগণের সমষ্টিগত ইচ্ছাই হলো সর্বোচ্চ আইন। এই ধারণাটি ফরাসি বিপ্লব এবং আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর মূল চালিকাশক্তি (যেমন: "জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস")।

৫. জন অস্টিন (John Austin) – আইনি সার্বভৌমত্ব

অস্টিন সার্বভৌমত্বকে একটি পরিষ্কার আইনি কাঠামো দান করেন।

  • সংশ্লিষ্ট বই:The Province of Jurisprudence Determined (১৮৩২)।

  • কিভাবে ও কি অর্থে ব্যবহৃত: তিনি কোনো দার্শনিক বা নৈতিক যুক্তি নয়, বরং আইনের কঠোর সংজ্ঞা দিয়ে সার্বভৌমত্ব ব্যাখ্যা করেন।

    • ব্যবহৃত অর্থ: তাঁর মতে, সার্বভৌম হলো এমন একজন সুনির্দিষ্ট মানুষ বা মানব-গোষ্ঠী, যার প্রতি সমাজের অধিকাংশ মানুষ স্বভাবগতভাবে অনুগত থাকে, কিন্তু সে নিজে অন্য কারোর প্রতি অনুগত নয়। তাঁর বিখ্যাত উক্তি: "Law is the command of the Sovereign" (আইন হলো সার্বভৌম শক্তির আদেশ)।

সারসংক্ষেপ টেবিল

দার্শনিক প্রধান গ্রন্থ সার্বভৌমত্বের ধরণ মূল বিষয়
জঁ বোদাঁ Six Books of the Commonwealth রাজতান্ত্রিক/নিরঙ্কুশ বিশৃঙ্খলা রুখতে রাজার সর্বোচ্চ ক্ষমতা।
টমাস হবস Leviathan নিরঙ্কুশ/চুক্তিভিত্তিক নিরাপত্তার বিনিময়ে নিরঙ্কুশ আনুগত্য।
জন লক Two Treatises of Govt সীমিত/সাংবিধানিক জনগণের সম্মতি ও অধিকার রক্ষার চুক্তি।
জঁ-জ্যাক রুশো The Social Contract জনগণের সার্বভৌমত্ব 'সাধারণ ইচ্ছা'ই হলো সার্বভৌম ক্ষমতা।
জন অস্টিন Province of Jurisprudence আইনি/একত্ববাদ সার্বভৌমত্ব হলো সুনির্দিষ্ট আইনি আদেশদাতা।

আপনি যদি বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সার্বভৌমত্ব খুঁজছেন, তবে রুশোর 'জনগণের সার্বভৌমত্ব' এবং লকের 'সাংবিধানিক সার্বভৌমত্ব'-এর সংমিশ্রণই হলো আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আদর্শ ভিত্তি। যখন শাসকরা নিজেদের সার্বভৌম ভাবতে শুরু করেন, তখনই রুশো ও লকের এই দর্শনগুলো বিপ্লবের পথ দেখায়।

  • Sociology Institute:

    November 11, 2025

    Link Click


সার্বভৌমত্বঃ সামাজিক চুক্তি বই মোতাবেক

'The Social Contract' বইয়ের কোন অধ্যায়ে এটি আলোচিত হয়েছে?

রুশো সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন মূলত প্রথম খণ্ডের সপ্তম অধ্যায় এবং দ্বিতীয় খণ্ডের প্রথম চার অধ্যায়ে। নিচে তার সুনির্দিষ্ট বিবরণ দেওয়া হলো:


১. প্রথম খণ্ড, সপ্তম অধ্যায় (Book I, Chapter VII): "The Sovereign"

এই অধ্যায়ে রুশো প্রথম দেখান যে, সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে কীভাবে একটি সার্বভৌম সত্তা গঠিত হয়। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, সার্বভৌম সত্তা এমন এক শক্তি যার স্বার্থ জনগণের স্বার্থের বাইরে হতে পারে না। তিনি এখানে নাগরিকের দ্বৈত ভূমিকার কথা বলেন—একই ব্যক্তি যখন আইন বানায় তখন সে 'সার্বভৌম'র অংশ, আর যখন আইন মেনে চলে তখন সে 'প্রজা'।


২. দ্বিতীয় খণ্ড (Book II): সার্বভৌমত্বের বৈশিষ্ট্য

সার্বভৌমত্বের প্রকৃত প্রকৃতি বুঝতে দ্বিতীয় খণ্ডের এই অধ্যায়গুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ:

  • অধ্যায় ১ (That Sovereignty is Inalienable): এখানে তিনি প্রমাণ করেছেন যে সার্বভৌমত্ব হস্তান্তর অযোগ্য। কোনো প্রতিনিধি বা রাজা জনগণের হয়ে সার্বভৌমত্ব ভোগ করতে পারে না।

  • অধ্যায় ২ (That Sovereignty is Indivisible): এখানে তিনি বলেছেন সার্বভৌমত্ব অবিভাজ্য। ক্ষমতাকে আইন বিভাগ বা শাসন বিভাগে ভাগ করা গেলেও সার্বভৌম ক্ষমতা মূলত একই থাকে।

  • অধ্যায় ৩ (Whether the General Will is Fallible): এখানে আলোচনা করা হয়েছে যে সাধারণ ইচ্ছা (General Will) সবসময় সঠিক কি না এবং কীভাবে তা সার্বভৌমত্বের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

  • অধ্যায় ৪ (The Limits of the Sovereign Power): এই অধ্যায়ে তিনি সার্বভৌম ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেছেন যে, সার্বভৌম ক্ষমতা ততক্ষণই বৈধ যতক্ষণ তা সবার জন্য সমান আইন তৈরি করে এবং কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর পক্ষপাতমূলক আচরণ করে না।


সহজ কথায়:

আপনি যদি সার্বভৌমত্বের গঠন দেখতে চান তবে Book I, Chapter VII পড়বেন। আর যদি এর বৈশিষ্ট্য ও আইনগত ভিত্তি বুঝতে চান তবে Book II, Chapters I-IV আপনার জন্য সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক।


বাংলাদেশের বিতর্কঃ কোনটি সার্বভৌম? সংসদ, সংবিধান, গণভোট এবং জনগণের উইল

এই বিতর্কের বিষয়টি অত্যন্ত গভীর এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মৌলিক কাঠামোর সাথে যুক্ত। আপনার করা চারটি পরিভাষা—জনগণ, সংসদ, গণভোট, এবং সংবিধান—এদের মধ্যে সার্বভৌমত্বের উৎস ও প্রয়োগের একটি নির্দিষ্ট অনুক্রম রয়েছে।

রুশোর দর্শনের আলোকে এবং আধুনিক সাংবিধানিক গণতন্ত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে এর একটি যৌক্তিক ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো:

১. সার্বভৌমত্বের প্রকৃত উৎস (রুশোর দর্শনের আলোকে)

রুশোর মতে, সার্বভৌমত্ব কেবল জনগণের (The People)। তিনি মনে করেন, সার্বভৌমত্ব হলো "সাধারণ ইচ্ছা" (General Will)-এর বহিঃপ্রকাশ।

  • রুশোর অবস্থান: রুশোর কাছে সংসদ বা কোনো প্রতিনিধিত্বমূলক সংস্থা সার্বভৌম নয়। তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টারি ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেছিলেন, "ইংল্যান্ডের মানুষ কেবল নির্বাচনের দিনই স্বাধীন, বাকি সময় সে দাস।" তাঁর মতে, জনগণ যখন সরাসরি আইন প্রণয়নে অংশগ্রহণ করে (যেটিকে আমরা আধুনিককালে গণভোট বা প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের একটি রূপ বলতে পারি), তখনই সার্বভৌমত্ব প্রকৃত অর্থ পায়।

২. চারটি উপাদানের প্রকৃতি ও ক্রমবিন্যাস

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় এদেরকে সার্বভৌমত্বের উৎস এবং প্রয়োগকারী—এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়:

উপাদান প্রকৃতি সার্বভৌমত্বের ভূমিকা
জনগণ মূল উৎস (Ultimate Source) সার্বভৌমত্বের মালিক। সংবিধান ও সংসদ তাদেরই সৃষ্ট।
সংবিধান দলিল (The Supreme Law) জনগণের ইচ্ছা বা সাধারণ ইচ্ছার লিখিত রূপ। এটি সার্বভৌম ক্ষমতার 'সীমাবদ্ধতা' ঠিক করে দেয়।
সংসদ প্রয়োগকারী (Delegate) এটি জনগণের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত। এটি 'নির্ভরশীল সার্বভৌম'; কারণ এর ক্ষমতা সংবিধান ও জনগণের ম্যান্ডেট দ্বারা সীমাবদ্ধ।
গণভোট প্রক্রিয়া (Mechanism) জনগণের প্রত্যক্ষ ইচ্ছার প্রকাশের মাধ্যম। এটি সরাসরি সার্বভৌমত্বের প্রয়োগ।


৩. কে সবচেয়ে স্বাধীন এবং কোনটি নির্ভরশীল?

  • সবচেয়ে স্বাধীন: জনগণ। কোনো রাষ্ট্র যদি জনগণের সম্মতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে জনগণের ইচ্ছা বা "সাধারণ ইচ্ছা"-ই হলো সর্বোচ্চ স্বাধীন সত্তা।

  • সবচেয়ে নির্ভরশীল:সংসদ। সংসদ সার্বভৌম নয়, এটি "আইনগত সার্বভৌম" (Legal Sovereign) মাত্র। সংসদ জনগণের দ্বারা সৃষ্ট সংবিধানের অধীন। যদি সংসদ সংবিধানবিরোধী কাজ করে, তবে তার বৈধতা হারিয়ে যায়। তাই সংসদ সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল।


৪. রাষ্ট্রব্যবস্থা ও জনকল্যাণে কোনটি দরকার?

একটি কার্যকর ও স্থিতিশীল রাষ্ট্রের জন্য এই চারটির মধ্যে একটি ভারসাম্য প্রয়োজন:

১. জনগণই ভিত্তি: রুশোর মতে, রাষ্ট্রের লক্ষ্য হবে "সাধারণ ইচ্ছা" বা জনকল্যাণ নিশ্চিত করা। জনগণ যদি সচেতন না থাকে, তবে রাষ্ট্রব্যবস্থা স্বৈরতন্ত্রে পরিণত হবে।

২. সংবিধান রক্ষাকবচ: সংবিধান হলো জনগণের সেই চুক্তি, যা শাসকের ক্ষমতার সীমারেখা বেঁধে দেয়। এটি সার্বভৌম না হলেও এটিই "সর্বোচ্চ আইন"। তাই সংসদ বা সরকার সংবিধানের ঊর্ধ্বে হতে পারে না।

৩. সংসদ হলো সেবক: সংসদ জনগণের প্রতিনিধি। সংসদ সার্বভৌমত্বের দাবি করতে পারে কেবল তখনই যখন সে জনগণের অর্পিত দায়িত্ব এবং সংবিধানের সীমানার মধ্যে কাজ করে।

৪. গণভোট হলো corrective mechanism: যখন সংসদ বা শাসকগোষ্ঠী জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যায়, তখন গণভোট বা প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনগণ তাদের সার্বভৌম ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।


রুশোর দৃষ্টিভঙ্গি বনাম আধুনিক বাস্তবতা

আপনি বাংলাদেশে যে বিতর্কের কথা উল্লেখ করেছেন, তার মূলে রয়েছে "কে কাকে নিয়ন্ত্রণ করবে?" এই প্রশ্ন।

  • রুশোর সমাধান: রুশো বলতেন, আইন জনগণের ইচ্ছা ছাড়া তৈরি হতে পারে না। তাই সংসদ যদি জনগণের সাধারণ ইচ্ছার প্রতিফলন না ঘটায়, তবে সেই সংসদ আর সার্বভৌম থাকে না।

  • জনকল্যাণের সমাধান: জনকল্যাণ তখনই নিশ্চিত হয় যখন জনগণ তাদের সার্বভৌমত্ব সংবিধানের মাধ্যমে প্রয়োগ করে এবং সংসদ সেই সংবিধান ও সাধারণ ইচ্ছার প্রতি অনুগত থেকে কাজ করে।


সারকথা:

সংসদ বা সরকার কখনোই সার্বভৌম নয়, তারা হলো ট্রাস্টি (Trustee)মালিক বা সার্বভৌম হলো জনগণ, আর সেই মালিকানার দলিলে যা লেখা আছে তা হলো সংবিধান। সংসদ সংবিধান লঙ্ঘন করলে সার্বভৌমত্বের আইনগত ও নৈতিক ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যায়। রাষ্ট্রের টিকে থাকার জন্য সংবিধানের শ্রেষ্ঠত্ব (Constitutional Supremacy) এবং জনগণের সার্বভৌমত্বের (Popular Sovereignty) সমন্বয় সবচেয়ে জরুরি।

The Social Contract: Download the PDF book (79 Pages)

Previous
Previous

(৫)সার্বভৌমত্বঃ বাংলাদেশে সৃষ্ট জটিলতা ও রুশোর সমাধান

Next
Next

(৩) ‘জেনরেল উইল’- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও জনগণের ক্ষমতার উৎসবিন্দু