রেফারেন্সঃ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক(৭)

ক) রেফারেন্সঃ জাতীয়- বাংলাদেশ

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক তথ্যের জন্য নির্ভরযোগ্য সরকারি রেফারেন্স এবং সেগুলোর অনলাইন ডাউনলোড লিংক নিচে দেওয়া হলো। বর্তমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট এবং আগের বছরের পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যানগুলোর সরাসরি উৎস এখানে পাবেন:

১. অর্থ বিভাগ (Finance Division)

বাজেট সংক্রান্ত যাবতীয় মূল বই এবং বার্ষিক অর্থনৈতিক সমীক্ষার জন্য এটিই প্রধান উৎস।

  • বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা (Bangladesh Economic Review): এটি অর্থনীতির সবচেয়ে বিস্তারিত বার্ষিক প্রতিবেদন।

    • ডাউনলোড লিংক: Economic Review Archive (এখানে ২০২৪ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ এবং ২০২৫-এর খসড়া রিপোর্ট পাওয়া যায়)।

  • বাজেট ডকুমেন্টস (২০২৫-২৬): বাজেট বক্তৃতা এবং বাজেটের সংক্ষিপ্তসার এখান থেকে সরাসরি ডাউনলোড করা সম্ভব।

২. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)

জিডিপি, মূল্যস্ফীতি এবং জনসংখ্যার সঠিক পরিসংখ্যানের জন্য বিবিএস-এর প্রকাশনাগুলো রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

  • Statistical Yearbook of Bangladesh: কয়েক বছরের তথ্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণের জন্য এটি সেরা বই।

  • GDP & National Accounts: জিডিপি প্রবৃদ্ধির সর্বশেষ আপডেট পেতে।

৩. বাংলাদেশ ব্যাংক (Bangladesh Bank)

আর্থিক খাতের গতিপ্রকৃতি এবং ব্যাংকিং ডাটার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদন ও মুদ্রানীতি গুরুত্বপূর্ণ।

  • Annual Report (Bangladesh Bank): কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বার্ষিক বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন।

  • Monetary Policy Statement (MPS): মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ বুঝতে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ নোট:

  1. অর্থনৈতিক সমীক্ষা: আপনি যদি গবেষণার জন্য একটি মাত্র বই রেফারেন্স হিসেবে চান, তবে 'বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা' সংগ্রহে রাখা সবচেয়ে ভালো। এতে প্রতিটি খাতের ১০-১৫ বছরের তুলনামূলক উপাত্ত সারণি আকারে দেওয়া থাকে।

  2. মোবাইল অ্যাপ: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং অর্থ বিভাগের সমন্বয়ে "Amar Budget" নামক একটি অ্যাপও রয়েছে, যা গুগল প্লে-স্টোর থেকে নামিয়ে দ্রুত ডেটা দেখা যায়।


খ) আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক তথ্যের জন্য একক কোনো নির্দিষ্ট বইয়ের চেয়ে বরং বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত কয়েকটি সংস্থা এবং তাদের ফ্ল্যাগশিপ (Flagship) প্রতিবেদনগুলোই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স হিসেবে গণ্য হয়। নিচে এই সংস্থাগুলোর নাম এবং তাদের প্রতিবেদন ডাউনলোডের সরাসরি লিংক দেওয়া হলো:

১. আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)

বিশ্ব অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বোঝার জন্য আইএমএফ-এর রিপোর্টগুলো সবচেয়ে জনপ্রিয়।

  • World Economic Outlook (WEO): এটি বছরে দুইবার (এপ্রিল ও অক্টোবর) প্রকাশিত হয়। এতে বিশ্ব অর্থনীতি এবং দেশভিত্তিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ থাকে।

  • International Financial Statistics (IFS): এটি আন্তর্জাতিক আর্থিক পরিসংখ্যানের অন্যতম বড় উৎস।

২. বিশ্ব ব্যাংক (World Bank)

উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচন সংক্রান্ত তথ্যের জন্য এটিই প্রধান উৎস।

  • World Development Indicators (WDI): এটি একটি বিশাল ডাটাবেস এবং বার্ষিক রিপোর্ট, যেখানে ১৬০টিরও বেশি দেশের কয়েক দশকের অর্থনৈতিক উপাত্ত থাকে।

  • Global Economic Prospects: বছরে দুইবার প্রকাশিত এই রিপোর্টে উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির ঝুঁকিগুলো বিশ্লেষণ করা হয়।

৩. জাতিসংঘ (United Nations - UN DESA)

জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগ (DESA) প্রতি বছর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট প্রকাশ করে।

  • World Economic Situation and Prospects (WESP): এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির একটি নিরপেক্ষ এবং টেকসই উন্নয়নভিত্তিক চিত্র দেয়।

৪. বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO)

বিশ্বের বাণিজ্য নীতি এবং পণ্য ও সেবার রপ্তানি-আমদানি সংক্রান্ত তথ্যের জন্য।

  • World Trade Report: বার্ষিক এই প্রতিবেদনে বিশ্ব বাণিজ্যের সাম্প্রতিক ধারা ও নীতিগুলো আলোচনা করা হয়।

৫. OECD (উন্নত দেশগুলোর জন্য)

বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল ৩৬টি দেশের অর্থনৈতিক পলিসি গবেষণার জন্য ওইসিডি-র রিপোর্ট অত্যন্ত মানসম্পন্ন।

  • OECD Economic Outlook: উন্নত দেশগুলোর অর্থনীতির সামষ্টিক তথ্যের জন্য।

পরামর্শ:

আপনি যদি দ্রুত তথ্য দেখতে চান, তবে ডাটাবেসের ক্ষেত্রে World Bank Open Data এবং বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে IMF World Economic Outlook-কে প্রধান রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। অধিকাংশ সংস্থাই তাদের রিপোর্টগুলো PDF আকারে ফ্রিতে ডাউনলোডের সুযোগ দেয়।


Previous
Previous

জিডিপিঃবাজেটঃরাজস্ব আয়ঃনন-ট্যাক্স রেভিনিউ : সার্কভুক্ত ও নন-সার্কভুক্ত ১০টি দেশ(৮)

Next
Next

রাজস্ব বৃদ্ধি: উন্নয়ন ও আশঙ্কার দ্বৈরথ; এবং ১২টি দেশের ০৪টি প্রধান খাতের বরাদ্দের তুলনামূলক বিশ্লেষণ(৬)