9. The Treatises of Governement

জন লক-এর 'Two Treatises of Government' (১৬৮৯) (Download Link) আধুনিক উদারনীতিবাদ এবং গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। আপনার অনুরোধ অনুযায়ী বইটির প্রেক্ষাপট এবং অধ্যায়ভিত্তিক সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো:

১. লেখকের পরিচিতি ও জীবনকাল

জন লক (১৬৩২–১৭০৪):

  • জন্ম ও শৈশব: জন লক ১৬৩২ সালে ইংল্যান্ডের সমারসেটের এক পিউরিটান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন একজন আইনজীবী এবং গৃহযুদ্ধের সময় সংসদীয় বাহিনীর একজন ক্যাপ্টেন।

  • শিক্ষা ও কর্মজীবন: তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষালাভ করেন। তিনি চিকিৎসাবিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি আর্ল অফ শ্যাফ্টসবারির (Earl of Shaftesbury) ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও সচিব হিসেবে কাজ করেন, যা তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাধারায় গভীর প্রভাব ফেলে।

  • বইটির প্রকাশ ও প্রেক্ষাপট: ১৬৮৮ সালের ইংল্যান্ডের 'গৌরবময় বিপ্লব' (Glorious Revolution)-এর প্রেক্ষাপটে ১৬৮৯ সালে বইটি প্রকাশিত হয়। যদিও এটি বেনামে প্রকাশিত হয়েছিল, পরে লক এর লেখক হিসেবে স্বীকৃত হন। এটি মূলত রাজতন্ত্রের 'ঐশ্বরিক অধিকার' মতবাদের বিরুদ্ধে এবং জনগণের মৌলিক অধিকারের সপক্ষে একটি শক্তিশালী দলিল।

২. 'Two Treatises of Government' এর অধ্যায়ভিত্তিক সামারি

বইটি মূলত দুটি খণ্ডে (Treatises) বিভক্ত:

প্রথম খণ্ড: রাজতন্ত্রের ঐশ্বরিক অধিকারের খণ্ডন (First Treatise)

এই অংশটি মূলত স্যার রবার্ট ফিলমারের 'প্যাট্রিয়ার্কা' (Patriarcha) নামক বইটির একটি কঠোর সমালোচনা।

  • মূল কথা: ফিলমার দাবি করেছিলেন যে রাজারা সরাসরি আদমের উত্তরসূরি হিসেবে সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে শাসনের ক্ষমতা পান। লক এই 'ঐশ্বরিক অধিকার' (Divine Right of Kings) মতবাদকে যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করেন।

  • সারসংক্ষেপ: লক প্রমাণ করেন যে, জন্মগতভাবে কোনো মানুষই অন্য মানুষের ওপর প্রভুত্বের অধিকার নিয়ে জন্মায় না। তিনি বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রের আইনি ভিত্তি বাতিল করে দেন।

দ্বিতীয় খণ্ড: নাগরিক সরকারের প্রকৃত মূল ও লক্ষ্য (Second Treatise)

এটিই বইটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী অংশ। এখানে লক তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক তত্ত্ব তুলে ধরেন:

  • প্রকৃতির রাজ্য (State of Nature): লকের মতে, প্রকৃতির রাজ্য পুরোপুরি যুদ্ধের রাজ্য ছিল না। মানুষ সেখানে স্বাধীন এবং সমান ছিল। কিন্তু সেখানে কোনো অভিন্ন বিচারক বা সুনির্দিষ্ট আইন না থাকায় ব্যক্তিগত অধিকার রক্ষা করা কঠিন ছিল।

  • সামাজিক চুক্তি (Social Contract): মানুষ নিজেদের জীবন, স্বাধীনতা এবং সম্পত্তি (Property) রক্ষার জন্য পারস্পরিক চুক্তির মাধ্যমে সরকার গঠন করে।

  • সম্পত্তির অধিকার: লক বলেন, যখন মানুষ প্রকৃতির কোনো জিনিসের সাথে তার 'শ্রম' যোগ করে, তখন সেটি তার সম্পত্তিতে পরিণত হয়। জীবন, স্বাধীনতা এবং সম্পত্তি—এই তিনটি হলো মানুষের অবিচ্ছেদ্য প্রাকৃতিক অধিকার।

  • সরকারের লক্ষ্য ও সীমাবদ্ধতা: সরকারের একমাত্র কাজ হলো জনগণের প্রাকৃতিক অধিকার রক্ষা করা। সরকার জনগণের সম্মতির (Consent) ওপর নির্ভরশীল।

  • বিপ্লবের অধিকার (Right to Revolution): যদি সরকার জনগণের অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হয় বা স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে, তবে জনগণের অধিকার আছে সেই সরকারকে পরিবর্তন বা উৎখাত করার।

৩. সার্বিক সামারি ও মূল বক্তব্য

বইটির মূল বার্তা হলো—সরকার জনগণের ম্যান্ডেট বা সম্মতির ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়, কোনো ঐশ্বরিক শক্তির ওপর নয়। মানুষের তিনটি মৌলিক অধিকার (জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তি) অলঙ্ঘনীয়। যদি রাষ্ট্র বা শাসক এই অধিকার কেড়ে নেয়, তবে রাষ্ট্রের সাথে জনগণের চুক্তিটি ভেঙে যায় এবং জনগণের নতুন সরকার গঠনের অধিকার জন্মায়।

৪. হবস, লক ও রুশোর একটি সংক্ষিপ্ত তুলনা

আপনার পূর্বের প্রশ্নগুলোর প্রেক্ষিতে এটি বুঝতে সুবিধা হবে:

  • হবস: মানুষের জীবনকে 'পাশবিক' মনে করতেন, তাই নিরাপত্তার জন্য নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র সমর্থন করেছেন।

  • লক: মানুষের মৌলিক অধিকারকে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং সীমিত সরকার বা সাংবিধানিক গণতন্ত্রের পথ দেখিয়েছেন।

  • রুশো: সাধারণ ইচ্ছা বা 'General Will'-এর ওপর জোর দিয়ে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের কথা বলেছেন।

উপসংহার:

জন লকের এই বইটি আমেরিকার স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং ফরাসি বিপ্লবকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। আধুনিক বিশ্বের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে "জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস"—এই ধারণার সবচেয়ে শক্তিশালী তাত্ত্বিক ভিত্তি হলো লকের এই 'Two Treatises of Government'। (To read online click here)

Content of the book in Chapters:

জন লক-এর 'Two Treatises of Government' বইটি মূলত দুটি প্রধান খণ্ডে বিভক্ত। প্রতিটি খণ্ডের অধীনে থাকা অধ্যায়গুলোর শিরোনাম (অধ্যায় নম্বরসহ) নিচে দেওয়া হলো:

First Treatise (প্রথম খণ্ড)

এই খণ্ডটি মূলত রবার্ট ফিলমারের 'রাজতন্ত্রের ঐশ্বরিক অধিকার' মতবাদকে খণ্ডন করার জন্য লেখা। এর অধ্যায়গুলো হলো:

  1. Chapter I: (শিরোনামহীন ভূমিকা)

  2. Chapter II: Of Paternal and Regal Power (পিতৃতান্ত্রিক এবং রাজকীয় ক্ষমতা প্রসঙ্গে)

  3. Chapter III: Of Adam’s Title to Sovereignty by Creation (সৃষ্টির মাধ্যমে আদমের সার্বভৌমত্বের অধিকার প্রসঙ্গে)

  4. Chapter IV: Of Adam’s Title to Sovereignty by Donation (দানপত্রের মাধ্যমে আদমের সার্বভৌমত্বের অধিকার প্রসঙ্গে)

  5. Chapter V: Of Adam’s Title to Sovereignty by the Subjection of Eve (হাওয়ার বশ্যতার মাধ্যমে আদমের সার্বভৌমত্বের অধিকার প্রসঙ্গে)

  6. Chapter VI: Of Adam’s Title to Sovereignty by Fatherhood (পিতৃত্বের মাধ্যমে আদমের সার্বভৌমত্বের অধিকার প্রসঙ্গে)

  7. Chapter VII: Of Fatherhood and Property Considered Together as Fountains of Sovereignty (সার্বভৌমত্বের উৎস হিসেবে পিতৃত্ব এবং সম্পত্তি প্রসঙ্গে)

  8. Chapter VIII: Of the Conveyance of Adam’s Sovereign Monarchical Power (আদমের সার্বভৌম রাজতান্ত্রিক ক্ষমতার হস্তান্তর প্রসঙ্গে)

  9. Chapter IX: Of Monarchy, by Inheritance from Adam (আদমের উত্তরাধিকার সূত্রে রাজতন্ত্র প্রসঙ্গে)

  10. Chapter X: Of the Heir to Adam’s Monarchical Power (আদমের রাজতান্ত্রিক ক্ষমতার উত্তরাধিকারী প্রসঙ্গে)

  11. Chapter XI: Who Heir? (কে সেই উত্তরাধিকারী?)

Second Treatise (দ্বিতীয় খণ্ড)

এই খণ্ডটি আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভিত্তি, যেখানে লক তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা করেছেন। এর অধ্যায়গুলো হলো:

  1. Chapter I: (সারসংক্ষেপ এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার সংজ্ঞা)

  2. Chapter II: Of the State of Nature (প্রকৃতির রাজ্য প্রসঙ্গে)

  3. Chapter III: Of the State of War (যুদ্ধাবস্থা প্রসঙ্গে)

  4. Chapter IV: Of Slavery (দাসত্ব প্রসঙ্গে)

  5. Chapter V: Of Property (সম্পত্তি প্রসঙ্গে)

  6. Chapter VI: Of Paternal Power (পিতৃতান্ত্রিক ক্ষমতা প্রসঙ্গে)

  7. Chapter VII: Of Political or Civil Society (রাজনৈতিক বা নাগরিক সমাজ প্রসঙ্গে)

  8. Chapter VIII: Of the Beginning of Political Societies (রাজনৈতিক সমাজের সূচনা প্রসঙ্গে)

  9. Chapter IX: Of the Ends of Political Society and Government (রাজনৈতিক সমাজ এবং সরকারের লক্ষ্য প্রসঙ্গে)

  10. Chapter X: Of the Forms of a Commonwealth (রাষ্ট্রের বিভিন্ন রূপ প্রসঙ্গে)

  11. Chapter XI: Of the Extent of the Legislative Power (আইনসভার ক্ষমতার পরিধি প্রসঙ্গে)

  12. Chapter XII: Of the Legislative, Executive, and Federative Power of the Commonwealth (রাষ্ট্রের আইন, শাসন এবং ফেডারেল ক্ষমতা প্রসঙ্গে)

  13. Chapter XIII: Of the Subordination of the Powers of the Commonwealth (রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষমতার পারস্পরিক অধীনতা প্রসঙ্গে)

  14. Chapter XIV: Of Prerogative (বিশেষাধিকার বা স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রসঙ্গে)

  15. Chapter XV: Of Paternal, Political, and Despotic Power, Considered Together (পিতৃতান্ত্রিক, রাজনৈতিক এবং স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতার তুলনামূলক আলোচনা)

  16. Chapter XVI: Of Conquest (বিজয় বা জবরদখল প্রসঙ্গে)

  17. Chapter XVII: Of Usurpation (ক্ষমতা দখল বা জবরদস্তি প্রসঙ্গে)

  18. Chapter XVIII: Of Tyranny (স্বৈরাচার বা অত্যাচারী শাসন প্রসঙ্গে)

  19. Chapter XIX: Of the Dissolution of Government (সরকারের বিলুপ্তি বা পতন প্রসঙ্গে)

একটি ছোট নোট: আপনি যদি বর্তমান প্রেক্ষাপটে "বিপ্লব" বা "সরকার পরিবর্তন" নিয়ে আগ্রহী হন, তবে দ্বিতীয় খণ্ডের শেষ অধ্যায়টি (Chapter XIX: Of the Dissolution of Government) আপনার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে লক ব্যাখ্যা করেছেন কখন এবং কেন জনগণ একটি সরকারকে পরিবর্তন করার অধিকার লাভ করে।

Book-II: Treatise Two

CHAPTER I.

CHAPTER II.

CHAPTER III.

CHAPTER IV.

CHAPTER V.

CHAPTER VI.

CHAPTER VII.

CHAPTER VIII.

CHAPTER IX.

CHAPTER X.

CHAPTER XI.

CHAPTER XII.

CHAPTER XIII.

CHAPTER XIV.

CHAPTER XV.

CHAPTER XVI.

CHAPTER XVII.

CHAPTER XVIII.

CHAPTER XIX.


লক যখন ‘The two treatises of Government‘বইটি লিখেন তখন অলরেডি রাজা ২য় জেমস পরাজিত হন এবং সংসদীয় পদ্ধতির বিজয় হয়েছিল । সে সময় আরো কোন চিন্তাবিদ, রাজনীতিক বা দার্শনিক ছিলেন যারা রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াইতে রশদ যুগিয়েছিলেন । এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা কর ।

আপনার পর্যবেক্ষণ একদম সঠিক। ১৬৮৮ সালের গৌরবময় বিপ্লব (Glorious Revolution) এবং ১৬৮৯ সালে লকের বইটির প্রকাশ—এই পুরো সময়টি ছিল কয়েক দশকের বৌদ্ধিক ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফলাফল। লক এই বিপ্লবের "তাত্ত্বিক গডফাদার" হিসেবে পরিচিত হলেও, রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে এবং সংসদীয় সার্বভৌমত্বের পক্ষে লড়াই করার জন্য আরও অনেক চিন্তাবিদ ও গোষ্ঠী রসদ জুগিয়েছিলেন।

নিচে বিপ্লবকালীন সেই বৌদ্ধিক প্রেক্ষাপট এবং লকের সহযোদ্ধা ও পূর্বসূরিদের নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. দ্য লেভেলারস (The Levellers): সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর

১৬৪০ এবং ১৬৫০-এর দশকে লকের কয়েক দশক আগে 'লেভেলারস' নামক একটি আমূল সংস্কারবাদী রাজনৈতিক গোষ্ঠী মাথাচারা দিয়ে ওঠে। তাদের নেতা ছিলেন জন লিলবার্ন (John Lilburne)

  • রসদ: তারা দাবি করেছিলেন যে, ক্ষমতার উৎস রাজাও নন, সংসদও নয়; বরং ক্ষমতার উৎস হলো জনগণ। তারা 'Agreement of the People' নামক একটি খসড়া তৈরি করেন, যেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতা, আইনের চোখে সমান অধিকার এবং সর্বজনীন ভোটাধিকারের দাবি ছিল। লকের "জনগণের সম্মতি" (Consent of the People) ধারণার অনেক রসদ এখান থেকে এসেছিল।

২. আলজেরনন সিডনি (Algernon Sidney): বিপ্লবী শহীদ

লকের সমসাময়িক এবং রাজতন্ত্রের সবচেয়ে কট্টর বিরোধী ছিলেন আলজেরনন সিডনি। তিনি তাঁর 'Discourses Concerning Government' বইতে সরাসরি রাজতন্ত্রের ঐশ্বরিক অধিকারকে আক্রমণ করেন।

  • রসদ: তিনি দাবি করেন, জনগণই রাজাকে নির্বাচন করে এবং রাজা যদি চুক্তি ভঙ্গ করেন, তবে তাকে সরিয়ে দেওয়ার অধিকার জনগণের আছে। ১৬৮৩ সালে রাজাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের (Rye House Plot) মিথ্যা অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তার আত্মত্যাগ এবং লেখনী সংসদীয়পন্থীদের কাছে "বিপ্লবী বাইবেল" হিসেবে কাজ করেছিল।

৩. জেমস হ্যারিংটন (James Harrington): অর্থনৈতিক ভারসাম্য

তাঁর বিখ্যাত বই 'The Commonwealth of Oceana' (১৬৫৬)-তে তিনি রাজতন্ত্রের পতনের একটি সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দেন।

  • রসদ: হ্যারিংটন যুক্তি দেন যে, যার হাতে জমি বা সম্পত্তি আছে, ক্ষমতা তার হাতেই থাকবে। তিনি মনে করতেন ইংল্যান্ডে আভিজাত্য বা রাজার চেয়ে সাধারণ মানুষের (Gentry) হাতে সম্পদ বাড়ছে, তাই রাজনৈতিক ক্ষমতাও তাদের হাতে আসা উচিত। এটি লকের "সম্পত্তির অধিকার" এবং সরকারের কাঠামোগত পরিবর্তনের ধারণাকে প্রভাবিত করেছিল।

৪. হুইগ (Whig) দল ও আর্ল অফ শ্যাফ্টসবারি

লক একা ছিলেন না, তিনি ছিলেন তৎকালীন হুইগ (Whig) নামক রাজনৈতিক দলের একজন সক্রিয় তাত্ত্বিক। এই দলের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন লর্ড শ্যাফ্টসবারি

  • রসদ: হুইগরা বিশ্বাস করত যে রাজার ক্ষমতা পরম নয় এবং ক্যাথলিক দ্বিতীয় জেমসকে সিংহাসন থেকে সরিয়ে দেওয়া উচিত। তারা সংসদকে শক্তিশালী করার জন্য রাজনৈতিক প্রচার চালিয়েছিলেন। শ্যাফ্টসবারির রাজনৈতিক লড়াই এবং নির্বাসিত জীবনের অভিজ্ঞতা লকের তত্ত্বকে বাস্তবসম্মত করে তুলেছিল।

৫. রিচার্ড হুকার (Richard Hooker)

লক তাঁর 'টু ট্রিটিজ'-এ বারবার এই ধর্মতাত্ত্বিকের কথা উল্লেখ করেছেন। যদিও হুকার ছিলেন ১৬শ শতাব্দীর মানুষ, কিন্তু তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে কোনো বৈধ সরকারই জনগণের সম্মতি ছাড়া শাসন করতে পারে না। লক এই ধর্মীয় যুক্তিকে ব্যবহার করে রাজতন্ত্রের 'ঐশ্বরিক অধিকার' মতবাদকে ভেতর থেকে ভেঙে দেন।

৬. সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেন লককে সফল করল?

লকের আগে সিডনি বা লিলবার্ন যে কথাগুলো বলেছিলেন, তার জন্য তাদের জেল খাটতে বা ফাঁসি কাষ্ঠে যেতে হয়েছিল। কিন্তু লক যখন 'টু ট্রিটিজ' প্রকাশ করলেন (১৬৮৯), তখন পরিস্থিতি পাল্টে গিয়েছিল:

  • বিজয়ীদের দর্শন: ১৬৮৮ সালের বিপ্লবে দ্বিতীয় জেমস পালিয়ে যান এবং উইলিয়াম অফ অরেঞ্জ সিংহাসনে বসেন এই শর্তে যে তিনি 'Bill of Rights' মেনে চলবেন। লকের বই এই নতুন ব্যবস্থাকে একটি নৈতিক ও দার্শনিক বৈধতা দিয়েছিল।

  • বেনামে প্রকাশ: লক শুরুতে নিজের নাম ব্যবহার করেননি, কারণ তখনও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিরাপদ ছিল না। কিন্তু বিপ্লবের সাফল্য তাঁর দর্শনকে চিরস্থায়ী রূপ দেয়।

৭. এই লড়াইয়ে আরও যারা ছিলেন:

  • হেনরি নেভিল (Henry Neville): তিনি প্লেটো রেডাইভিয়াস (Plato Redivivus) বইতে রাজতন্ত্রের ক্ষমতা সীমিত করার এবং জনগণের অংশগ্রহণের পক্ষে লিখেছিলেন।

  • অ্যাকশন-ওরিয়েন্টেড রাজনীতিবিদ: জন সোমারস (John Somers) এবং চার্লস ব্ল্যাউন্ট (Charles Blount) যারা সংসদীয় দলিলগুলো ড্রাফট করেছিলেন, তারা লকের সমসাময়িক চিন্তার সাথে যুক্ত ছিলেন।

সারসংক্ষেপ:

রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে এই লড়াইতে লক ছিলেন একজন "সমন্বয়ক"। লেভেলারদের আমূল গণতন্ত্র, সিডনির বিপ্লবী স্পৃহা এবং হ্যারিংটনের অর্থনৈতিক যুক্তিকে একত্রিত করে লক একটি মধ্যপন্থী, স্থিতিশীল এবং আইনসম্মত রূপ দিয়েছিলেন। একারণেই অন্য অনেকের চেয়ে লকের দর্শন আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় স্থায়ী আসন পেয়েছে।

 

Next
Next

8. The Leviathan