গণতন্ত্র সূচকঃ ০৩ বছরে ০৫টি মানদন্ডে বাংলাদেশের স্বতন্ত্র স্কোর এবং ৬০টি প্রশ্ন (১৬)

ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (EIU) সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশ গত তিন বছরে (২০২২-২০২৪) বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে, যার প্রতিফলন দেখা গেছে গণতন্ত্র সূচকের স্কোরগুলোতে।

নিচে বাংলাদেশের গত ৩ বছরের (২০২২, ২০২৩ এবং ২০২৪) সূচকের ৫টি ভিন্ন ভিন্ন মানদণ্ডের স্কোরের তুলনামূলক ছক দেওয়া হলো:

সারণীঃ বাংলাদেশের গণতন্ত্র সূচক: ৩ বছরের স্কোর ব্রেকডাউন

মানদণ্ড (Five Categories) ২০২২ সালের স্কোর ২০২৩ সালের স্কোর ২০২৪ সালের স্কোর
১. নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও বহুদলীয় ব্যবস্থা ৭.৪২ ৭.৪২ ৩.৩৩
২. সরকারের কার্যকারিতা ৬.০৭ ৬.০৭ ৫.৩৬
৩. রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ৫.৫৬ ৫.৮৩ ৫.৫৬
৪. রাজনৈতিক সংস্কৃতি ৫.৬৩ ৫.৬৩ ৪.৩৮
৫. নাগরিক স্বাধীনতা ৫.২৯ ৪.৭১ ৪.৪১
মোট গড় স্কোর (Overall Score) ৫.৯৯ ৫.৮৭ ৪.৪৪
গ্লোবাল র‍্যাংকিং (Global Rank) ৭৩তম ৭৫তম ১০০তম
শাসনব্যবস্থার ধরন (Regime Type) হাইব্রিড হাইব্রিড হাইব্রিড


স্কোর বিশ্লেষণের মূল পয়েন্টসমূহ:

১. নির্বাচনী প্রক্রিয়া (Electoral Process): ২০২৪ সালের সূচকে সবচেয়ে বড় ধস নেমেছে এই খাতে। ২০২৪ সালের জানুয়ারির অংশগ্রহণহীন ও বিতর্কিত নির্বাচনের কারণে এই স্কোর ৭.৪২ থেকে কমে ৩.৩৩-এ নেমে এসেছে।

২. নাগরিক স্বাধীনতা (Civil Liberties): এই মানদণ্ডে স্কোর ধারাবাহিকভাবে কমছে (৫.২৯ থেকে ৪.৪১)। এটি নির্দেশ করে যে দেশে গত কয়েক বছরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মৌলিক মানবাধিকার সংকুচিত হয়েছে।

৩. রাজনৈতিক সংস্কৃতি (Political Culture): ২০২৪ সালে এই খাতেও বড় অবনমন (৪.৩৮) হয়েছে, যা রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অভাবকে নির্দেশ করে।

৪. গড় স্কোরের বড় পতন: ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে গড় স্কোর ৫.৮৭ থেকে ৪.৪৪-এ নেমে আসা বিশ্বজুড়ে যেকোনো দেশের জন্য একটি বিরল ও নেতিবাচক রেকর্ড।


প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য কৌশলগত প্রশ্ন:

"ছকটি ভালো করে লক্ষ্য করুন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্কোর যখন ৪-এর নিচে নেমে যায়, তখন একটি রাষ্ট্র কেন 'হাইব্রিড' থেকে 'কর্তৃত্ববাদী' ক্যাটাগরির খুব কাছাকাছি চলে যায়? এই ৪.৪৪ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশ কি পরবর্তী বছরগুলোতে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে?"


ক্যাটাগরিভিত্তিক মোট ৬০ প্রশ্ন (Indicators) এর তালিকাঃ একনজরে

  • ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (EIU) গণতন্ত্র সূচকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হলো 'নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও বহুদলীয় ব্যবস্থা' (Electoral Process and Pluralism)। এই ১২টি প্রশ্নের উত্তরের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হয় একটি দেশে প্রকৃত অর্থে জনগণের শাসন চলছে কি না।

    নিচে এই ১২টি প্রশ্নের তালিকা দেওয়া হলো:

    ১. জাতীয় নির্বাচন কি অবাধ ও সুষ্ঠু? (জাতীয় সংসদ বা রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন কি কোনো কারচুপি ছাড়া সম্পন্ন হয়?)

    ২. নির্বাচন কমিশন কি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ? (সরকারের প্রভাবমুক্ত হয়ে কি কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করতে পারে?)

    ৩. নির্বাচনী আইন কি স্বচ্ছ এবং সবার জন্য সমান? (আইনগুলো কি কোনো বিশেষ দল বা ব্যক্তিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে?)

    ৪. ভোটাররা কি কোনো ভয়ভীতি বা চাপ ছাড়াই ভোট দিতে পারে? (নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভোটারদের বাধা না দেওয়া।)

    ৫. বিরোধী দলগুলোর কি প্রচারণার সমান সুযোগ আছে? (রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং জনসভার ক্ষেত্রে সবাই সমান সুযোগ পায় কি না?)

    ৬. নির্বাচনে কি একাধিক শক্তিশালী রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে? (প্রকৃত বহুদলীয় প্রতিযোগিতার পরিবেশ আছে কি না?)

    ৭. নির্বাচনী ফলাফল কি স্বচ্ছভাবে প্রকাশিত হয়? (ভোট গণনা এবং ফলাফল ঘোষণা কি জনসমক্ষে ও স্বচ্ছতার সাথে হয়?)

    ৮. পরাজিত দল কি নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেয়? (যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়, তবে পরাজিত পক্ষ কি তা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে?)

    ৯. সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের কি ভোটাধিকার আছে? (জাত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই কি ভোট দিতে পারে?)

    ১০. নির্বাচনে জয়ী দল কি প্রকৃত ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারে? (বিজয়ী দল কি সরকার গঠন করে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে?)

    ১১. ভোটার তালিকা কি সঠিক ও আপডেট করা? (ভোটার তালিকায় মৃত বা ভুয়া ভোটারের আধিক্য আছে কি না?)

    ১২. নির্বাচনী বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কি নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনাল আছে? (কোনো অভিযোগ থাকলে তা কি আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হয়?)

  • ১. নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কি সরকার পরিচালনার প্রকৃত ক্ষমতা আছে? (নাকি পর্দার আড়ালে সামরিক বাহিনী বা অন্য কোনো অসাংবিধানিক শক্তি সিদ্ধান্ত নেয়?)

    ২. আইনসভা বা সংসদ কি সরকারের ওপর প্রকৃত নজরদারি করতে পারে? (সরকার কি সংসদের কাছে দায়বদ্ধ?)

    ৩. সরকারের সিদ্ধান্ত কি কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা প্রভাবশালী চক্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত? (নাকি জনস্বার্থে নেওয়া হয়?)

    ৪. সরকারি প্রশাসনে বা ব্যুরোক্রেসিতে কি দুর্নীতির বিস্তার ব্যাপক? (দুর্নীতি কি নীতি নির্ধারণকে বাধাগ্রস্ত করে?)

    ৫. প্রশাসন বা সিভিল সার্ভিস কি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে পারে? ৬. সরকার কি তার প্রণীত নীতিগুলো দেশব্যাপী কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম? ৭. সরকারের কর্মকাণ্ডে কি স্বচ্ছতা আছে? (নাগরিকরা কি সরকারি তথ্য সহজে পায়?)

    ৮. জনসাধারণের কি সরকারের কোনো কাজের জবাবদিহিতা চাওয়ার অধিকার বা সুযোগ আছে? ৯. সরকার কি জননিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সক্ষম? ১০. সরকার কি বাইরের কোনো দেশ বা আন্তর্জাতিক শক্তির চাপের ঊর্ধ্বে থেকে সিদ্ধান্ত নিতে পারে? ১১. রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কি সরকারের নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত? ১২. সরকার কি নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কার্যকর অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করতে পারছে?

    ১৩. সরকারি নিয়োগ কি মেধার ভিত্তিতে হয়, নাকি রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে?

    ১৪. সরকারের মধ্যে কি চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স (ক্ষমতার ভারসাম্য) বজায় রাখার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা আছে?

    এই মানদণ্ডটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ অনেক সময় নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করা হলেও তারা যদি দুর্নীতি (প্রশ্ন ৪) বা অদৃশ্য শক্তি (প্রশ্ন ১) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে সেই দেশের গণতন্ত্র সূচকে স্কোর কমে যায়। যেমন—ইরাক বা লিবিয়ার মতো দেশগুলোতে নির্বাচন হলেও সরকারের কার্যকারিতা কম হওয়ার কারণে তাদের র‍্যাঙ্কিং নিচে থাকে।

  • জনগণ রাজনীতিতে কতটা সক্রিয় এবং অন্তর্ভুক্ত, তা এই ৯টি প্রশ্নের মাধ্যমে যাচাই করা হয়:

    ১. নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার কেমন? (জাতীয় নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।)

    ২. নারীরা কি রাজনীতিতে সমান সুযোগ পায়? (সংসদে নারী সদস্যের হার এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বে অংশগ্রহণ।)

    ৩. নৃগোষ্ঠী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা কি রাজনীতিতে অংশ নিতে পারে?

    ৪. জনগণ কি রাজনৈতিক দল বা নাগরিক সংগঠনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত?

    ৫. নাগরিকদের রাজনৈতিক চেতনা বা সচেতনতা কেমন?

    ৬. জনগণ কি রাজনৈতিক মিছিলে বা সমাবেশে স্বাধীনভাবে যোগ দিতে পারে?

    ৭. সরকারের নীতি নির্ধারণে জনগণের মতামত কি প্রতিফলিত হয়?

    ৮. রাজনৈতিক দলগুলোর সদস্য সংখ্যা কি সন্তোষজনক?

    ৯. নাগরিকরা কি সরকারকে প্রভাবিত করার জন্য আইনি পথে চাপ দিতে পারে?

  • গণতন্ত্রের স্থায়িত্ব নির্ভর করে দেশের মানুষের মানসিকতার ওপর। এই ৮টি প্রশ্ন তা পরিমাপ করে:

    ১. জনগণ কি গণতন্ত্রকে সর্বশ্রেষ্ঠ শাসনব্যবস্থা মনে করে? (নাকি তারা একনায়কতন্ত্রে বিশ্বাসী?)

    ২. দেশের মানুষ কি সামরিক শাসনের পক্ষপাতী?

    ৩. জনগণ কি মনে করে যে একজন শক্তিশালী নেতার হাতে সব ক্ষমতা থাকা ভালো?

    ৪. ধর্ম ও রাষ্ট্রকে আলাদা রাখার বিষয়ে জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি কী?

    ৫. রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একে অপরের প্রতি সহনশীলতা কেমন?

    ৬. গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মানুষের আস্থা কতটুকু?

    ৭. জনগণ কি মনে করে সংসদীয় পদ্ধতি দেশের জন্য কার্যকর?

    ৮. বিরোধ নিষ্পত্তিতে জনগণ কি সহিংসতা নাকি আলাপ-আলোচনা পছন্দ করে?

  • এটি গণতন্ত্র সূচকের সবচেয়ে বড় এবং স্পর্শকাতর মানদণ্ড। এখানে ১৭টি প্রশ্নের মাধ্যমে ব্যক্তির স্বাধীনতা যাচাই করা হয়:

    ১. গণমাধ্যম (টিভি, পত্রিকা) কি পুরোপুরি স্বাধীন?

    ২. সাংবাদিকদের ওপর কি কোনো ধরণের দমন-পীড়ন বা হুমকি আছে?

    ৩. ইন্টারনেট ব্যবহারে কি সরকারের কোনো কড়া সেন্সরশিপ আছে?

    ৪. বিচার বিভাগ কি নির্বাহী বিভাগ বা সরকারের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত?

    ৫. নাগরিকদের কি শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার আছে?

    ৬. নাগরিকরা কি অহেতুক আটক বা হয়রানি থেকে মুক্ত?

    ৭. বাকস্বাধীনতা বা নিজের মতামত প্রকাশের জন্য কি কোনো শাস্তির ভয় আছে?

    ৮. ধর্মীয় স্বাধীনতা কি সংবিধানে এবং বাস্তবে সুরক্ষিত?

    ৯. বিদেশে যাতায়াত বা দেশের ভেতরে চলাফেরার স্বাধীনতা কেমন?

    ১০. ট্রেড ইউনিয়ন বা শ্রমিক সংগঠন করার অধিকার আছে কি না?

    ১১. ব্যক্তিগত গোপনীয়তা কি রাষ্ট্র দ্বারা লঙ্ঘিত হয়?

    ১২. নারী-পুরুষের সমান আইনি অধিকার নিশ্চিত কি না?

    ১৩. সংখ্যালঘুদের কি তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি পালনের অধিকার আছে?

    ১৪. সরকার কি মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়?

    ১৫. নিরাপত্তা বাহিনী কি জনগণের সাথে মানবিক আচরণ করে?

    ১৬. আইনের দৃষ্টিতে সবাই কি সমান সুযোগ পায়?

    ১৭. যৌক্তিক কারণ ছাড়া সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ভয় আছে কি না?

  • ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (EIU) সাধারণত তাদের সূচক তৈরির জন্য সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে না। তবে, বাংলাদেশে তাদের তথ্যের প্রাথমিক উৎস হিসেবে তারা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (CPD)-এর মতো থিঙ্ক-ট্যাংক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ডাটাবেজ ব্যবহার করে।

    সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, কোনো একটি প্রতিষ্ঠানকে ইআইইউ-এর আনুষ্ঠানিক "একমাত্র সহযোগী" বলা কঠিন, কারণ তারা তথ্যের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে একাধিক উৎসের সহায়তা নেয়। তবে নিচের প্রতিষ্ঠানগুলোর ডেটা ইআইইউ-এর মূল্যায়নে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়:

    ১. সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (CPD)

    বাংলাদেশে বেসরকারি পর্যায়ে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও সুশাসন বিষয়ক থিঙ্ক-ট্যাংক। সিপিডি-র বিভিন্ন সমীক্ষা, যেমন—ব্যবসায়িক পরিবেশ, দুর্নীতি এবং সুশাসন সংক্রান্ত রিপোর্টগুলো ইআইইউ তাদের বিশ্লেষণে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে।

    ২. টিআইবি (Transparency International Bangladesh)

    দুর্নীতি ও সুশাসন সংক্রান্ত তথ্যের জন্য ইআইইউ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের বার্ষিক রিপোর্টগুলোকে অন্যতম মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে।

    ৩. বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB)

    বাংলাদেশের সরকারের কার্যকারিতা (Functioning of Government) এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা মাপার জন্য ইআইইউ এই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ডাটাবেজ ব্যবহার করে।

    ৪. বিশেষজ্ঞদের প্যানেল (Expert Analysts)

    ইআইইউ বাংলাদেশে অবস্থানরত কিছু নির্দিষ্ট একাডেমিক বিশেষজ্ঞ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের একটি গোপন প্যানেলের মাধ্যমে তাদের ৬০টি প্রশ্নের উত্তর সংগ্রহ করে। নিরাপত্তার খাতিরে ইআইইউ এই ব্যক্তিদের নাম বা তালিকা কখনোই প্রকাশ করে না।

    প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য একটি বিশেষ তথ্য:

    ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনের পর এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে, ইআইইউ-এর গবেষকরা বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ (Civil Society) এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর রিপোর্টের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।


রেফারেন্সঃ

১) প্রশ্নগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে জেমিনি হতে (www.gemini.google.com)

২) The Economist Intelligence

3) The Democracy Index Report 2024 by EIU

Previous
Previous

বিশ্লেষণঃ ৩০০ সংসদীয় আসন কী বেশি না কম? (১৭)

Next
Next

গণতন্ত্র ম্যাপিং- বৈশ্বিক অবস্থা (১৫)