গণতন্ত্র সূচকঃ বাংলাদেশের স্কোর ও র‍্যাঙ্কিং (১৪)

The Economist Intelligence Unit (EIU) Democracy Index is a comprehensive framework that evaluates the state of democracy in 167 countries and territories. Unlike simpler metrics that focus solely on the presence of elections, the EIU methodology incorporates the broader health of political institutions and culture.

Here is a detailed breakdown of how the index is measured:

1. The Core Framework: Five Categories

The index is built upon 60 indicators, which are grouped into five primary categories. Each category represents a different dimension of a democratic society:


  • Electoral Process and Pluralism: Focuses on the freedom and fairness of national elections, the right of citizens to form political parties, and the ability of the opposition to gain power.


  • Functioning of Government: Examines whether the freely elected government determines policy, the extent of transparency, and the absence of corruption.

  • Political Participation: Measures voter turnout, the percentage of women in parliament, and the level of engagement by citizens in political parties or non-governmental organizations.


  • Political Culture: Assesses the degree of popular support for democracy versus alternative systems (like military or authoritarian rule) and the consensus on democratic norms.


  • Civil Liberties: Evaluates freedom of expression, freedom of religion, the right to a fair trial, and the protection of minority rights.


2. Scoring Methodology

The scoring process follows a structured hierarchy to ensure a quantitative result:

  • Indicator Scoring: Each of the 60 questions has set answers, typically scored as 0, 0.5, or 1. These scores are based on expert assessments and, significantly, results from public opinion surveys (such as the World Values Survey).

  • Category Scores: Within each category, the indicator scores are summed, multiplied by 10, and divided by the total number of indicators in that category. This results in a score from 0 to 10 for each of the five categories.

  • Final Index Calculation: The overall Democracy Index is the simple average of the five category scores.

  • Deductions (The "Veto" Rules): There are specific "modifying dependencies." For example, if a country’s national elections are not considered free and fair, it receives a significant deduction in its "Functioning of Government" score, as a lack of electoral legitimacy undermines the entire democratic structure.


3. Classification of Regimes

Based on the final score (rounded to two decimal places), the EIU classifies countries into four types of regimes:

Regime Type Score Range Description
Full Democracy $8.01 - 10.0$ Civil liberties and fundamental political freedoms are respected and reinforced by a political culture conducive to democracy.
Flawed Democracy $6.01 - 8.0$ Elections are fair and basic liberties are respected, but there are significant weaknesses in other aspects (e.g., low political participation).
Hybrid Regime $4.01 - 6.0$ Elections have substantial irregularities that often prevent them from being both free and fair. Governance is weak and the judiciary is not independent.
Authoritarian Regime $0.0 - 4.0$ Political pluralism is absent or heavily restricted. Infringements on civil liberties are common, and the media is typically state-controlled.


4. Distinguishing Features

The EIU Index is noted for two specific methodological choices:

  1. Emphasis on Public Opinion: Unlike other indices that rely solely on legal documents or expert panels, the EIU incorporates survey data to see if the citizens actually value democracy.


  2. Breadth over Economics: The index focuses strictly on political and social factors. It does not include economic growth or living standards as criteria, arguing that a wealthy country is not inherently more democratic than a poor one.



বাংলাদেশের গণতন্ত্র সূচক (Democracy Index) মূলত ২০০৬ সাল থেকে লন্ডনভিত্তিক ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (EIU) প্রকাশ করে আসছে। স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে সামরিক শাসন এবং একদলীয় শাসন ব্যবস্থার আধিপত্য ছিল, যার ফলে ওই সময়ে কোনো আন্তর্জাতিক মানসম্মত সূচক পাওয়া যায় না।

তবে ২০০৬ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের স্কোর এবং র‍্যাংকিংয়ের একটি তুলনামূলক চিত্র নিচে দেওয়া হলো:

বাংলাদেশের গণতন্ত্র সূচক: ২০০৬ — ২০২৪

ক্রম বছর গ্লোবাল র‍্যাঙ্ক স্কোর (১০-এর মধ্যে) শাসনব্যবস্থার ধরন (Category) মন্তব্য
২০০৬ ৭৫ ৬.১১ ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র সূচক শুরু হওয়ার সময় বাংলাদেশ সেরা অবস্থানে ছিল।
২০০৮ ৮২ ৫.৮৭ হাইব্রিড শাসনব্যবস্থা ১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রভাব।
২০১০ ৮৩ ৫.৮৭ হাইব্রিড শাসনব্যবস্থা স্থিতিশীল কিন্তু হাইব্রিড ক্যাটাগরি।
২০১৪ ৮৫ ৫.৭৮ হাইব্রিড শাসনব্যবস্থা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বছর।
২০১৮ ৮৮ ৫.৫৭ হাইব্রিড শাসনব্যবস্থা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রভাব।
২০২০ ৭৬ ৫.৯৯ হাইব্রিড শাসনব্যবস্থা কিছুটা স্কোরের উন্নতি লক্ষ্য করা যায়।
২০২২ ৭৩ ৫.৯৯ হাইব্রিড শাসনব্যবস্থা র‍্যাংকিংয়ে উন্নতি কিন্তু ক্যাটাগরি একই।
২০২৩ ৭৫ ৫.৮৭ হাইব্রিড শাসনব্যবস্থা দুই ধাপ অবনমন।
২০২৪ ১০০ ৪.৪৪ হাইব্রিড শাসনব্যবস্থা সবচেয়ে বড় অবনমন (২৫ ধাপ)।

Bangladesh’s Score Indicators-wise in Democracy Index 2024; Source- The Economist Intelligence Unit.

ঐতিহাসিক পর্যায়ক্রমিক বিশ্লেষণ (সংক্ষেপে)

১. ১৯৭১-১৯৭৫ (উত্থান ও বাকশাল): স্বাধীনতার পর সংসদীয় গণতন্ত্র দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও ১৯৭৫ সালে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে 'বাকশাল' বা একদলীয় শাসন প্রবর্তিত হয়।

২. ১৯৭৫-১৯৯০ (সামরিক শাসন): দীর্ঘ ১৫ বছর দেশ মূলত সামরিক জান্তা বা সামরিক শাসনের অধীনে ছিল। এই সময়ে গণতন্ত্রের চর্চা ছিল অত্যন্ত সীমিত।

৩. ১৯৯১-২০০৬ (স্বর্ণযুগ): নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন হয়। ২০০৬ সালের ইআইইউ সূচকে বাংলাদেশ 'ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র' (Flawed Democracy) হিসেবে সেরা স্কোর অর্জন করে।

৪. ২০০৮-২০২৪ (হাইব্রিড যুগ): ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশ একটানা 'হাইব্রিড শাসনব্যবস্থা' ক্যাটাগরিতে রয়েছে। ২০২৪ সালের সর্বশেষ সূচকে বাংলাদেশ ১০০তম অবস্থানে নেমে এসেছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি বড় ধাক্কা।


  • ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (EIU) সংজ্ঞায় 'হাইব্রিড রেজিম' (Hybrid Regime) হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা যা না পুরোপুরি গণতান্ত্রিক, না পুরোপুরি একনায়কতান্ত্রিক। এটি গণতন্ত্র এবং কর্তৃত্ববাদের একটি মিশ্র রূপ।

    ১. হাইব্রিড রেজিম-এর অর্থ কী?

    সহজ কথায়, যে দেশে নির্বাচনের বাহ্যিক কাঠামো থাকে কিন্তু গণতন্ত্রের গুণগত মান অনুপস্থিত থাকে, তাকেই হাইব্রিড রেজিম বলে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

    • নির্বাচনী অনিয়ম: নিয়মিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও তাতে কারচুপি, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা বিরোধী দলের অংশগ্রহণের পথে বাধা সৃষ্টি করা হয়।

    • দুর্বল বিচার বিভাগ: বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না এবং প্রায়ই নির্বাহী বিভাগের চাপের মুখে থাকে।

    • গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ: সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সীমিত থাকে এবং সাংবাদিকদের হয়রানি বা সেন্সরশিপের শিকার হতে হয়।

    • ব্যাপক দুর্নীতি: সরকারি ও প্রশাসনিক স্তরে দুর্নীতির হার অনেক বেশি থাকে এবং জবাবদিহিতা থাকে না।

    • অনুগত প্রশাসন: সরকারি আমলাতন্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাষ্ট্রের চেয়ে বেশি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে।

  • ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (EIU) সংজ্ঞায় 'হাইব্রিড রেজিম' (Hybrid Regime) হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা যা না পুরোপুরি গণতান্ত্রিক, না পুরোপুরি একনায়কতান্ত্রিক। এটি গণতন্ত্র এবং কর্তৃত্ববাদের একটি মিশ্র রূপ।

    ২. বাংলাদেশের ওপর এর প্রভাব কী?

    হাইব্রিড রেজিমে থাকার ফলে একটি রাষ্ট্রের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে:

    • বিদেশের কাছে ভাবমূর্তি সংকট: গণতান্ত্রিক সূচকে নিম্ন অবস্থান থাকার ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে (যেমন—ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা জাতিসংঘ) বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা কমে যায়।

    • বৈদেশিক বিনিয়োগে বাধা: বড় বিনিয়োগকারীরা আইনি অনিশ্চয়তা এবং দুর্নীতির কারণে হাইব্রিড দেশগুলোতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ করতে ভয় পায়।

    • প্রতিভার বহির্গমন (Brain Drain): দেশের মেধাবী তরুণরা বাকস্বাধীনতা ও ন্যায্যতার অভাবে বিদেশে পাড়ি জমায়।

    • সামাজিক বিভাজন: রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বৃদ্ধি পায় এবং সহনশীলতা কমে গিয়ে সমাজে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়।

  • ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (EIU) সংজ্ঞায় 'হাইব্রিড রেজিম' (Hybrid Regime) হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা যা না পুরোপুরি গণতান্ত্রিক, না পুরোপুরি একনায়কতান্ত্রিক। এটি গণতন্ত্র এবং কর্তৃত্ববাদের একটি মিশ্র রূপ।

    ৩. কেন এ থেকে উত্তরণ জরুরি?

    বাংলাদেশকে যদি একটি উন্নত ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হয়, তবে এই 'হাইব্রিড' তকমা থেকে বেরিয়ে আসা অত্যাবশ্যক:

    ১. টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা: গণতন্ত্রহীন উন্নয়ন টেকসই হয় না। সুশাসন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বজায় রাখা অসম্ভব।

    ২. জনগণের ক্ষমতায়ন: হাইব্রিড ব্যবস্থায় ক্ষমতা কিছু মানুষের হাতে কুক্ষিগত থাকে। প্রকৃত গণতন্ত্র এলে সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণে অংশ নিতে পারে।

    ৩. মানবাধিকার রক্ষা: নাগরিক স্বাধীনতা ক্যাটাগরিতে স্কোর বৃদ্ধি পেলে সাধারণ মানুষ বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে মুক্তি পাবে।

    ৪. রাজনৈতিক স্থায়িত্ব: নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ প্রশস্ত হলে দেশে রাজনৈতিক সংঘাত ও সহিংসতা চিরতরে বন্ধ হবে।

    শিক্ষার্থীদের জন্য সারসংক্ষেপ:

    বাংলাদেশ বর্তমানে ১০০তম অবস্থানে থেকে একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এই অবস্থান থেকে 'ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র' (Flawed Democracy) এবং পরবর্তীতে 'পূর্ণ গণতন্ত্র' (Full Democracy)-তে উত্তরণ করতে হলে উপরে আলোচিত ৬০টি মানদণ্ডের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রয়োজন।

  • রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশ্যে এই আলোচনাটি একটি 'গণতান্ত্রিক রোডম্যাপ' হিসেবে কাজ করতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়া বা তাইওয়ানের মতো দেশগুলো একসময় কঠোর একনায়কতন্ত্র বা হাইব্রিড ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আজ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

    হাইব্রিড শাসনব্যবস্থা থেকে পূর্ণ গণতন্ত্রে উত্তরণের জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের যে ৫টি সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা নিচে তুলে ধরা হলো:

    হাইব্রিড থেকে পূর্ণ গণতন্ত্রে উত্তরণের ৫টি রাজনৈতিক কৌশল

    ১. প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতায়ন (Institutional Power over Personal Power)

    ব্যক্তি বা দলের চেয়ে প্রতিষ্ঠানকে বড় করে দেখা। যখন একজন নেতা আইনসভা, বিচার বিভাগ এবং নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেন, তখন সেই প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রের পাহারাদার হিসেবে কাজ করে।

    • নেতাদের কাজ: নির্বাচন কমিশন বা বিচার বিভাগের ওপর থেকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ চিরতরে বন্ধ করার আইনি গ্যারান্টি দেওয়া।

    ২. অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি (Inclusive Politics vs zero-sum game)

    "বিজয়ী সব পাবে আর পরাজিত জেলে যাবে"—এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার গণতন্ত্রে উত্তরণের বড় শক্তি ছিল বিরোধী দলের সাথে আপস এবং জাতীয় ঐক্য।

    • নেতাদের কাজ: রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে 'শত্রু' নয়, বরং 'অংশীদার' হিসেবে দেখা। সংসদে বিরোধী দলকে অর্থবহ ভূমিকা রাখার সুযোগ দেওয়া।

    ৩. জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার সংস্কৃতি (Culture of Transparency)

    জনগণ যখন দেখে তাদের ট্যাক্সের টাকা কোথায় খরচ হচ্ছে এবং দুর্নীতি করলে নেতারও বিচার হচ্ছে, তখন রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিক আস্থা বৃদ্ধি পায়।

    • নেতাদের কাজ: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সরকারি ব্যয় উন্মুক্ত করা এবং শক্তিশালী লোকপাল বা ওমবাডসম্যান নিয়োগ দেওয়া।

    ৪. নাগরিক স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের সুরক্ষা (Guarding Civil Liberties)

    গণতন্ত্রের প্রাণ হলো ভিন্নমত। দক্ষিণ কোরিয়া বা তাইওয়ান তখন এগিয়ে গেছে যখন তারা সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করা বন্ধ করেছে।

    • নেতাদের কাজ: এমন আইন বাতিল করা যা বাকস্বাধীনতা বা মুক্ত সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করে। সমালোচনাকে ভয় না পেয়ে তা থেকে শিক্ষা নেওয়া।

    ৫. রাজনৈতিক সহনশীলতা ও উত্তরাধিকার পরিকল্পনা (Succession Planning)

    গণতন্ত্র মানেই হলো শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতার হস্তান্তর। কোনো নেতা চিরস্থায়ী নন—এই সত্যটি মেনে নেওয়াই গণতন্ত্রের প্রথম পাঠ।

    • নেতাদের কাজ: দলের ভেতরে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র চর্চা করা এবং নতুন নেতৃত্বকে জায়গা করে দেওয়া।

    রাজনৈতিক নেতাদের জন্য উদ্দীপনামূলক বার্তা:

    "ইতিহাস সাক্ষী, যেসব নেতা শুধুমাত্র ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে চেয়েছেন, তারা শেষ পর্যন্ত অস্থিতিশীলতা রেখে গেছেন। কিন্তু যেসব নেতা প্রতিষ্ঠান গড়ে দিয়ে গেছেন, তারা ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে আছেন। দক্ষিণ কোরিয়া আজ বিশ্বের ১০ম বৃহত্তম অর্থনীতি শুধুমাত্র তাদের শক্তিশালী গণতন্ত্রের কারণে। বাংলাদেশ যদি আজ ১০০তম অবস্থান থেকে শীর্ষ ৫০-এ উঠে আসতে পারে, তবে বিদেশি বিনিয়োগ যেমন বাড়বে, তেমনি দেশের সাধারণ মানুষ আপনাদের যুগ যুগ ধরে স্মরণে রাখবে।"

  • আপনার অনুরোধ অনুযায়ী, গণতান্ত্রিক সংস্কারের ১০ দফা রোডম্যাপটি ক্রমিক নম্বরসহ একটি সুন্দর অনুচ্ছেদ আকারে নিচে দেওয়া হলো। এটি আপনি যেকোনো স্থানে সহজেই কপি-পেস্ট করে ব্যবহার করতে পারবেন:

    গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও সুশাসনের ১০ দফা রোডম্যাপ

    ১. একটি আধুনিক ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র গড়তে প্রথমেই একটি শক্তিশালী ও স্থায়ী স্বতন্ত্র নির্বাচনী কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যা যেকোনো সরকারের প্রভাবমুক্ত থেকে জনগণের অবাধ ভোটাধিকার নিশ্চিত করবে।

    ২. উচ্চ ও নিম্ন আদালতে বিচারক নিয়োগে একটি নিরপেক্ষ 'জুডিশিয়াল কাউন্সিল' গঠন করে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

    ৩. সংসদকে কার্যকর করতে বিরোধী দলীয় সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির নেতৃত্বে এনে সরকারের কাজের স্বচ্ছতা ও সংসদীয় নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে।

    ৪. বাকস্বাধীনতা ও মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ডিজিটাল নিরাপত্তা সংক্রান্ত সকল দমনমূলক আইন বাতিল করে নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা দিতে হবে।

    ৫. প্রশাসনের কেন্দ্রিকতা পরিহার করে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে এবং স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করে তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রের চর্চা নিশ্চিত করতে হবে।

    ৬. দুর্নীতি দমন কমিশনকে (ACC) পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।

    ৭. বিরোধী মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে রাজনৈতিক সহনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে এবং রাজনৈতিক কারণে হয়রানি ও মামলা চিরতরে বন্ধ করতে হবে।

    ৮. প্রতিটি রাজনৈতিক দলের ভেতরে নিয়মিত কাউন্সিল ও ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও মেধাভিত্তিক রাজনীতি নিশ্চিত করতে হবে।

    ৯. সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা আনয়ন এবং জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিটি দপ্তরের তথ্য উন্মুক্ত করে তথ্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

    ১০. একটি বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে ধর্মীয় ও নৃগোষ্ঠীসহ সকল সংখ্যালঘুদের বিশেষ সুরক্ষা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। এই ১০ দফা সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমেই বাংলাদেশ একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বমঞ্চে মাথা তুলে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।

কেন এই অবনমন? (২০২৪-এর প্রেক্ষিতে)

ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের স্কোর ৪.৪৪-এ নেমে আসার প্রধান কারণগুলো হলো:

  • নির্বাচনী প্রক্রিয়া: ২০২৪-এর বিতর্কিত নির্বাচন এবং বিরোধী দলের অংশগ্রহণহীনতা।

  • নাগরিক স্বাধীনতা: মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ।

  • সরকারের কার্যকারিতা: বিরোধী কণ্ঠ রোধ এবং জবাবদিহিতার অভাব।



আধুনিক, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার '১০ দফা ডেমোক্রেসি রিফর্ম চেকলিস্ট'

রাজনৈতিক নেতাদের জন্য একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার '১০ দফা ডেমোক্রেসি রিফর্ম চেকলিস্ট' নিচে দেওয়া হলো। এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করলে বাংলাদেশ দ্রুত 'হাইব্রিড রেজিম' থেকে বেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে একটি সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে।

সারণীঃ গণতান্ত্রিক সংস্কারের চেকলিস্ট (Democracy Reform Checklist)

লক্ষ্য সুনির্দিষ্ট সংস্কার পদক্ষেপ প্রত্যাশিত ফলাফল
১. নিরপেক্ষ নির্বাচন একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন স্থায়ী নির্বাচনী কাঠামো তৈরি করা, যা কোনো সরকারের অধীনে থাকবে না। সকল দলের অংশগ্রহণ ও জনগণের আস্থা।
২. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালতের বিচারক নিয়োগে একটি নিরপেক্ষ 'জুডিশিয়াল কাউন্সিল' গঠন। ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
৩. সংসদীয় নজরদারি বিরোধী দলীয় সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া। সরকারের কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ।
৪. বাকস্বাধীনতা রক্ষা ডিজিটাল নিরাপত্তা সংক্রান্ত সকল বিতর্কিত ও দমনমূলক আইন বাতিল বা আমূল সংস্কার করা। মুক্ত সাংবাদিকতা ও চিন্তার স্বাধীনতা।
৫. ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ জেলা ও উপজেলা পরিষদকে শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় বাজেটের ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দেওয়া। তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রের চর্চা।
৬. দুর্নীতি দমন দুর্নীতি দমন কমিশনকে (ACC) রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা এবং স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করা। সরকারি অর্থের অপচয় রোধ ও সুশাসন।
৭. রাজনৈতিক সহনশীলতা রাজনৈতিক কারণে মামলা বা হয়রানি বন্ধ করা এবং সুস্থ রাজনৈতিক আলোচনার সংস্কৃতি গড়ে তোলা। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সংঘাত হ্রাস।
৮. দলীয় গণতন্ত্র রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে নিয়মিত কাউন্সিল ও ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন বাধ্যতামূলক করা। পরিবারতন্ত্রের বদলে মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব তৈরি।
৯. তথ্য অধিকার প্রতিটি সরকারি দপ্তরের ডাটা ওপেন সোর্সে প্রকাশ করা যাতে সাধারণ মানুষ উন্নয়ন কাজ তদারকি করতে পারে। স্বচ্ছতা ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি।
১০. সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা সংখ্যালঘু ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সংসদে ও প্রশাসনে বিশেষ সুরক্ষা ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন সমাজ।

নেতাদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা মূলক সমাপনী:

"গণতন্ত্র কোনো গন্তব্য নয়, এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া। দক্ষিণ কোরিয়া বা তাইওয়ানের নেতারা যখন এই সংস্কারগুলো শুরু করেছিলেন, তখন তাদের অর্থনীতিও ভঙ্গুর ছিল। কিন্তু তারা বুঝেছিলেন, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব। আপনি যদি আজ এই সংস্কারের সাহস দেখান, তবে বাংলাদেশ কেবল দক্ষিণ এশিয়ার নেতা নয়, বিশ্বের অন্যতম সফল রাষ্ট্র হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াবে।"


২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের গণতন্ত্র সূচকে ০৫টি ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের অর্জিত স্কোর

মানদণ্ড (Five Categories) ২০২২ সালের স্কোর ২০২৩ সালের স্কোর ২০২৪ সালের স্কোর
১. নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও বহুদলীয় ব্যবস্থা ৭.৪২ ৭.৪২ ৩.৩৩
২. সরকারের কার্যকারিতা ৬.০৭ ৬.০৭ ৫.৩৬
৩. রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ৫.৫৬ ৫.৮৩ ৫.৫৬
৪. রাজনৈতিক সংস্কৃতি ৫.৬৩ ৫.৬৩ ৪.৩৮
৫. নাগরিক স্বাধীনতা ৫.২৯ ৪.৭১ ৪.৪১
মোট গড় স্কোর (Overall Score) ৫.৯৯ ৫.৮৭ ৪.৪৪
গ্লোবাল র‍্যাংকিং (Global Rank) ৭৩তম ৭৫তম ১০০তম
শাসনব্যবস্থার ধরন (Regime Type) হাইব্রিড হাইব্রিড হাইব্রিড


দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর গণতন্ত্র সূচক ২০২৪: গ্লোবাল র‍্যাংকিং ও স্কোর

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর গণতন্ত্রের বর্তমান অবস্থা বোঝার জন্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (EIU) সর্বশেষ গণতন্ত্র সূচক ২০২৪ (প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারি ২০২৫) এর তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো।

এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ভারতের অবস্থান সবচেয়ে সংহত হলেও বাংলাদেশের জন্য ২০২৪ সালটি ছিল ঐতিহাসিক একটি বছর—যেখানে দেশটি সূচকে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি অবনমনের শিকার হয়েছে।

ক্রম গ্লোবাল র‍্যাঙ্ক দেশ স্কোর (১০-এর মধ্যে) শাসনব্যবস্থার ধরন মন্তব্য
৪১ ভারত ৭.৪১ ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষে।
৬৭ শ্রীলঙ্কা ৬.১৭ ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয়।
৭৯ ভুটান ৫.৭১ হাইব্রিড শাসনব্যবস্থা স্থিতিশীল রাজতন্ত্র ও গণতন্ত্র।
৯৬ নেপাল ৪.৫৬ হাইব্রিড শাসনব্যবস্থা অস্থিতিশীল জোট রাজনীতি।
১০০ বাংলাদেশ ৪.৪৪ হাইব্রিড শাসনব্যবস্থা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি অবনমন (২৫ ধাপ)।
১২৪ পাকিস্তান ২.৮৪ কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা ৬ ধাপ পিছিয়ে এই ক্যাটাগরিতে।
১৬৭ আফগানিস্তান ০.৩২ কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা বিশ্বের সর্বনিম্ন স্কোর।

তুলনামূলক বিশ্লেষণ: কেন বাংলাদেশ ও পাকিস্তান পিছিয়ে?

আপনার কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য এই বিশ্লেষণটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইআইইউ-এর রিপোর্টে দক্ষিণ এশিয়ার ৩টি দেশের জন্য ২০২৪ সালটি ছিল অত্যন্ত সংঘাতপূর্ণ:

১. বাংলাদেশ (রেকর্ড অবনমন): ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের স্কোর ১.৪৪ পয়েন্ট কমেছে। ইআইইউ-এর মতে, এটি ওই বছর বিশ্বের যেকোনো দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় স্কোর পতন। বিরোধী দল দমন এবং নির্বাচনী অনিয়ম এর প্রধান কারণ।

২. পাকিস্তান (ক্যাটাগরি পরিবর্তন): পাকিস্তান এবার 'হাইব্রিড' থেকে নেমে সরাসরি 'কর্তৃত্ববাদী' (Authoritarian) ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। নির্বাচনে কারচুপি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে তাদের স্কোর ২.৮৪-এ নেমে এসেছে।

৩. ভারত ও শ্রীলঙ্কা (স্থিতিশীলতা): ভারত তার ৪১তম স্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ব্যতিক্রম। শ্রীলঙ্কাও তাদের অর্থনৈতিক সংকটের উত্তরণ ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সচল রেখেছে।

প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য কুইজ বা গ্রুপ ওয়ার্ক:

"উপরের সারণীটি লক্ষ্য করুনঃ

*ভারত ও শ্রীলঙ্কা 'ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র' (Flawed Democracy) হওয়া সত্ত্বেও কেন তারা বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে?

*বাংলাদেশের স্কোর ৪.৪৪ হওয়া সত্ত্বেও কেন এখনো একে 'হাইব্রিড' বলা হচ্ছে, কেন 'কর্তৃত্ববাদী' নয়?"


গণতন্ত্র সূচকের ৫টি মানদণ্ড

গণতন্ত্র সূচক মূলত ৫টি প্রধান স্তম্ভ বা মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। প্রতিটি মানদণ্ডের অধীনে অনেকগুলো উপ-প্রশ্ন থাকে (মোট ৬০টি প্রশ্ন)। মানদণ্ডগুলো হলো:

১. নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং বহুদলীয় ব্যবস্থা (Electoral Process and Pluralism):

নির্বাচন কি অবাধ ও সুষ্ঠু? বিরোধী দলগুলো কি সমান সুযোগ পায়? ভোটাররা কি ভয়ভীতিহীনভাবে ভোট দিতে পারে?

২. সরকারের কার্যকারিতা (Functioning of Government):

নির্বাচিত সরকার কি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে? সরকারি কাজে দুর্নীতির প্রভাব কতটা? প্রশাসনের ওপর সামরিক বাহিনী বা বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ আছে কি না?

৩. রাজনৈতিক অংশগ্রহণ (Political Participation):

জনগণ রাজনীতিতে কতটা আগ্রহী? নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার কেমন? নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার কতটা নিশ্চিত?

৪. গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি (Democratic Political Culture):

দেশের মানুষ কি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে? তারা কি কোনো 'শক্তিশালী একক নেতা' বা সামরিক শাসনের পক্ষে? রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহনশীলতা আছে কি না?

৫. নাগরিক স্বাধীনতা (Civil Liberties):

গণমাধ্যম কি স্বাধীন? বাকস্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা কতটা? বিচার বিভাগ কি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে?

কিভাবে স্কোরিং করা হয়? (পদ্ধতি)

স্কোরিং প্রক্রিয়াটি মূলত তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়:

ধাপ ১: ৬০টি প্রশ্নের উত্তর

বিশেষজ্ঞরা ৬০টি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দেন। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরের জন্য মূলত তিনটি মান থাকে:

  • ১ নম্বর: যদি পরিস্থিতি পুরোপুরি গণতান্ত্রিক হয়।

  • ০.৫ নম্বর: যদি পরিস্থিতি আংশিক গণতান্ত্রিক বা ত্রুটিপূর্ণ হয়।

  • ০ নম্বর: যদি পরিস্থিতি পুরোপুরি অগণতান্ত্রিক বা একনায়কতান্ত্রিক হয়।

ধাপ ২: মানদণ্ড ভিত্তিক গড় স্কোর

প্রতিটি মানদণ্ডের অধীনে থাকা প্রশ্নগুলোর উত্তরের গড় বের করা হয়। এভাবে ৫টি মানদণ্ডের ৫টি আলাদা স্কোর (০ থেকে ১০-এর স্কেলে) পাওয়া যায়।

ধাপ ৩: চূড়ান্ত ইনডেক্স স্কোর

এই ৫টি মানদণ্ডের স্কোরের গড় করে একটি দেশের চূড়ান্ত স্কোর নির্ধারণ করা হয়।

একটি বিশেষ নিয়ম: যদি 'নির্বাচনী প্রক্রিয়া' এবং 'নাগরিক স্বাধীনতা'—এই দুটি মৌলিক মানদণ্ডের কোনো একটিতে স্কোর খুবই কম (৪-এর নিচে) হয়, তবে বাকিগুলোতে ভালো করলেও দেশটি পূর্ণ গণতন্ত্রের তকমা পায় না।

বাংলাদেশের ২০২৪-এর স্কোরের একটি উদাহরণ (কাল্পনিক ও সম্ভাব্য ব্রেকডাউন):

২০২৪ সালে বাংলাদেশের স্কোর ৪.৪৪ হওয়ার পেছনে মানদণ্ডভিত্তিক চিত্রটি সম্ভবত এমন ছিল:

  • নির্বাচনী প্রক্রিয়া: খুবই নিম্ন (বিরোধী দলহীন নির্বাচনের কারণে)।

  • নাগরিক স্বাধীনতা: নিম্ন (ডিজিটাল সিকিউরিটি বা গণমাধ্যমের ওপর চাপের কারণে)।

  • রাজনৈতিক অংশগ্রহণ: মাঝারি (ভোটার উপস্থিতি কম হলেও রাজনৈতিক সক্রিয়তা ছিল)।


রেফারেন্সঃ

১) জেমিনি (www.gemini.google.com)

২) The Economist Intelligence

3) The Democracy Index Report 2024 by EIU

Previous
Previous

গণতন্ত্র ম্যাপিং- বৈশ্বিক অবস্থা (১৫)

Next
Next

গণতন্ত্র সূচক ২০২৪ঃ মুসলিম বিশ্বের অবস্থান বিশ্লেষণ (১৩)