11. The Third Wave: Democratization in the Late Twentieth Century- (S.P. Huntington)
বুক রিভিউ
The Third Wave: Democratization in the Late Twentieth Century
স্যামুয়েল পি. হান্টিংটনের "The Third Wave: Democratization in the Late Twentieth Century" বইটির একটি বিস্তারিত বুক রিভিউ নিচে দেওয়া হলো। এটি আপনার মতো একজন রাজনৈতিক নেতার জন্য জনসভার বক্তব্য বা নীতি নির্ধারণী আলোচনায় অত্যন্ত শক্তিশালী রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।
লেখক: স্যামুয়েল পি. হান্টিংটন
প্রকাশকাল: ১৯৯১
মূল বিষয়: বিংশ শতাব্দীর শেষে বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রীকরণের ঢেউ এবং এর কারণ ও প্রকৃতি।
১. সূচিপত্র (Table of Contents)
বইটি মূলত ছয়টি প্রধান অধ্যায়ে বিভক্ত:
What? (গণতন্ত্রীকরণ কী এবং এর তরঙ্গসমূহ)
Why? (তৃতীয় তরঙ্গের কারণসমূহ)
How? (উত্তরণের প্রক্রিয়া: স্বৈরতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রে যাওয়ার পথ)
How? (উত্তরণের কৌশল ও সমঝোতা)
How Long? (গণতন্ত্র কতদিন স্থায়ী হবে এবং সুসংহতকরণের চ্যালেঞ্জ)
Whither? (ভবিষ্যৎ: চতুর্থ তরঙ্গ নাকি পাল্টা তরঙ্গ?)
২. অধ্যায়ভিত্তিক সামারি
স্যামুয়েল পি. হান্টিংটনের "The Third Wave: Democratization in the Late Twentieth Century" বইটি আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একটি মৌলিক স্তম্ভ। ১৯৯১ সালে প্রকাশিত এই বইটিতে হান্টিংটন ১৯৭৪ সাল থেকে শুরু হওয়া বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক জোয়ারকে বিশ্লেষণ করেছেন।
নিচে বইটির প্রতিটি অধ্যায়ের বিস্তারিত সামারি দেওয়া হলো:
অধ্যায় ১: গণতন্ত্রীকরণ কী? (What?)
এই অধ্যায়ে হান্টিংটন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা এবং এর ঐতিহাসিক পর্যায়গুলো আলোচনা করেছেন।
মূল বক্তব্য: তিনি জোসেফ শুম্পিটারের অনুসরণে গণতন্ত্রকে একটি 'পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া' (Procedural Definition) হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন, যেখানে মূল ভিত্তি হলো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন।
গণতন্ত্রের তিন তরঙ্গ:
প্রথম তরঙ্গ (১৮২৮-১৯২৬): আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোতে ভোটাধিকার বিস্তার।
দ্বিতীয় তরঙ্গ (১৯৪৩-১৯৬২): দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মিত্রশক্তির বিজয় এবং ডিকলোনাইজেশনের মাধ্যমে এশিয়া-আফ্রিকায় গণতন্ত্র।
তৃতীয় তরঙ্গ (১৯৭৪-বর্তমান): পর্তুগাল, স্পেন, ল্যাটিন আমেরিকা এবং পূর্ব ইউরোপে গণতন্ত্রের বিশাল জোয়ার।
বিপরীত তরঙ্গ (Reverse Waves): হান্টিংটন দেখিয়েছেন যে প্রতিটি তরঙ্গের পর একটি পাল্টা ঢেউ আসে, যেখানে অনেক দেশ আবার স্বৈরতন্ত্রে ফিরে যায়।
অধ্যায় ২: কেন? (Why?)
তৃতীয় তরঙ্গ কেন নির্দিষ্ট ওই সময়েই শুরু হলো, তার পেছনে হান্টিংটন ৫টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন:
বৈধতার সংকট: কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলোর অর্থনৈতিক বা সামরিক ব্যর্থতার কারণে তাদের শাসনের নৈতিক ভিত্তি নষ্ট হওয়া।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: ষাটের দশকে বিশ্বব্যাপী নজিরবিহীন অর্থনৈতিক উন্নয়ন একটি শক্তিশালী মধ্যবিত্ত শ্রেণী তৈরি করে, যারা রাজনৈতিক স্বাধীনতা দাবি করতে শুরু করে।
ক্যাথলিক গির্জার পরিবর্তন: ভ্যাটিকান সিটির অবস্থানে পরিবর্তন এবং পোপ জন পল (দ্বিতীয়)-এর গণতন্ত্রকামী দেশগুলোতে সফরের প্রভাব।
আন্তর্জাতিক শক্তি: ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে গণতন্ত্রকে গুরুত্ব দেওয়া।
স্নোবলিং (Snowballing): এক দেশে গণতন্ত্র আসতে দেখে প্রতিবেশী দেশগুলোর অনুপ্রাণিত হওয়া।
অধ্যায় ৩: How? Processes of Democratization
স্বৈরতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রে যাওয়ার তিনটি প্রধান মডেল তিনি এখানে ব্যাখ্যা করেছেন:
Transformation (রূপান্তর): যখন ক্ষমতাসীন শাসক নিজেই সংস্কারের উদ্যোগ নেন (যেমন: স্পেন)।
Replacement (প্রতিস্থাপন): যখন গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় (যেমন: ফিলিপাইন বা রোমানিয়া)।
Transplacement (সমঝোতা): যখন সরকার এবং বিরোধী দল আলোচনার মাধ্যমে ক্ষমতার রূপান্তর ঘটায় (যেমন: পোল্যান্ড বা দক্ষিণ আফ্রিকা)।
অধ্যায় ৪: How? Characteristics of Transition
এই অধ্যায়ে হান্টিংটন উত্তরণের সময়কার রাজনৈতিক কৌশলগুলো আলোচনা করেছেন।
মূল বক্তব্য: সফল উত্তরণের জন্য চরমপন্থী অবস্থান ত্যাগ করে 'মডারেট' বা মধ্যপন্থী হওয়া জরুরি।
টর্চারার প্রবলেম (Torturer Problem): পুরনো শাসনের যারা অপরাধী বা অত্যাচারী ছিল, তাদের বিচার হবে নাকি সাধারণ ক্ষমা (Amnesty) দেওয়া হবে—এই কঠিন দ্বিধাটি তিনি এখানে বিশ্লেষণ করেছেন।
অধ্যায় ৫:How Long?
শুধুমাত্র নির্বাচন হলেই গণতন্ত্র দীর্ঘস্থায়ী হয় না। এই অধ্যায়ে তিনি গণতন্ত্রকে 'সুসংহত' (Consolidation) করার চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেছেন।
Two-Turnover Test: তাঁর মতে, একটি গণতন্ত্র তখনই সুসংহত হয় যখন এটি নির্বাচনের মাধ্যমে অন্তত দুবার এক দল থেকে অন্য দলের কাছে ক্ষমতা শান্তিপূর্ণভাবে হস্তান্তর করতে পারে।
চ্যালেঞ্জসমূহ: অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এবং জাতিগত সংঘাত গণতন্ত্রকে বিপন্ন করতে পারে।
অধ্যায় ৬: কোন দিকে? (Whither?)
বইটির শেষ অধ্যায়ে হান্টিংটন গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতা: তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে ইসলামি বা কনফুসীয় সংস্কৃতির দেশগুলোতে কি পশ্চিমা ধাঁচের গণতন্ত্র পুরোপুরি সফল হবে? (এটি তাঁর পরবর্তী 'Clash of Civilizations' তত্ত্বের বীজ বপন করেছিল)।
সতর্কবাণী: তিনি সতর্ক করেছেন যে, অর্থনৈতিক মন্দা বা বৈশ্বিক নেতৃত্বের অভাব থাকলে একটি 'তৃতীয় বিপরীত তরঙ্গ' (Third Reverse Wave) আসতে পারে, যেখানে অনেক দেশ আবার স্বৈরতন্ত্রে ফিরে যাবে।
সার্বিক বিশ্লেষণ ও আপনার জন্য বিশেষ বার্তা:
একজন রাজনৈতিক গবেষক হিসেবে আপনার জন্য এই বইটির অধ্যায় ৩ ও ৫ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অধ্যায় ৩ আপনাকে শিখাবে কীভাবে রাজনৈতিক সংস্কারের বিভিন্ন মডেল কাজ করে, আর অধ্যায় ৫ আপনাকে বুঝতে সাহায্য করবে কেন কেবল একটি সুষ্ঠু নির্বাচনই যথেষ্ট নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক স্থায়িত্ব (Consolidation) কেন বেশি জরুরি।
হান্টিংটনের এই কাঠামো ব্যবহার করে আপনি বাংলাদেশের বা দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করতে পারেন। আপনি কি এই বইয়ের কোনো নির্দিষ্ট 'উত্তরণ প্রক্রিয়া' (যেমন Transplacement) আপনার পরিচিত কোনো ঘটনার সাথে মেলাতে পারেন?
৩. সার্বিক সামারি (Executive Summary)
বইটির মূল কথা হলো—গণতন্ত্রীকরণ কোনো দৈব ঘটনা নয়। এটি আন্তর্জাতিক পরিবেশ, অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের কুশলী কৌশলের ফসল। হান্টিংটন প্রমাণ করেছেন যে, গণতন্ত্র কোনো স্থির অবস্থা নয়; এটি একটি নিরন্তর যুদ্ধ। যদি প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী না হয়, তবে 'তৃতীয় তরঙ্গে' আসা গণতন্ত্রগুলো 'পাল্টা তরঙ্গে' ভেসে যাবে এবং পুনরায় স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে (যাকে আমরা বর্তমানে 'হাইব্রিড রেজিম' বলছি)।
৪. গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও উদ্ধৃতি (Key Insights)
বিপ্লব বনাম সংস্কার: হান্টিংটন দেখিয়েছেন যে, রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের চেয়ে 'Transplacement' বা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার 'সমঝোতা'র মাধ্যমে আসা গণতন্ত্র বেশি স্থায়ী হয়।
অর্থনৈতিক জাদুদণ্ড: তিনি একটি নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক সীমার কথা বলেছেন। যখন কোনো দেশের মাথাপিছু আয় একটি নির্দিষ্ট স্তরে পৌঁছায় (Transition zone), তখন সেখানে গণতন্ত্র আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।
রাজনৈতিক নেতৃত্বের গুরুত্ব: তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, পরিস্থিতি অনুকূল থাকলেও যদি সাহসী এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব না থাকে, তবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।
নেতা হিসেবে আপনার জন্য বিশেষ টেকঅ্যাওয়ে (Takeaway)
আপনি যখন জনগণের সামনে দাঁড়াবেন, এই বইয়ের আলোকে বলতে পারেন:
"হান্টিংটন আমাদের শিখিয়েছেন যে, গণতন্ত্র কেবল রাজপথের স্লোগান নয়, এটি একটি পদ্ধতিগত উত্তরণ। আমাদের লক্ষ্য হতে হবে এমন এক সুসংহত গণতন্ত্র (Consolidation) যেখানে ক্ষমতার পরিবর্তন হবে ব্যালটে, বুলেটে নয়। আমরা যদি আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে (নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ) শক্তিশালী না করি, তবে আমরা 'পাল্টা তরঙ্গের' শিকার হয়ে স্বৈরতন্ত্রের কবলে পড়ে থাকব।"
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এই দুটি ক্লাসিক গ্রন্থ—হান্টিংটনের "The Third Wave" এবং লিঞ্জ ও স্টিফেনের "Problems of Democratic Transition and Consolidation"—থেকে বাছাইকৃত ১০টি করে মোট ২০টি তত্ত্ব নিচে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হলো। এই তত্ত্বগুলো আপনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং বিশ্লেষণ ক্ষমতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
প্রথম অংশ: স্যামুয়েল পি. হান্টিংটন-এর ১০টি তত্ত্ব
১. তরঙ্গ তত্ত্ব (Wave Theory): গণতন্ত্রের বিকাশ রৈখিক নয়, বরং ঢেউয়ের মতো। একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিশ্বে গণতন্ত্রের সংখ্যা বেড়ে যায় (জোয়ার), আবার পাল্টা ঢেউয়ে (Reverse Wave) অনেক দেশ স্বৈরতন্ত্রে ফিরে যায়।
২. দুই-পর্যায়ের ক্ষমতা বদল পরীক্ষা (Two-Turnover Test): একটি গণতন্ত্র তখনই সফল যখন এটি নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে অন্তত দুবার এক দল থেকে অন্য দলের কাছে ক্ষমতার রূপান্তর ঘটাতে পারে।
৩. প্রদর্শন প্রভাব বা স্নোবলিং (Snowballing Effect): এক দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতে দেখলে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর জনগণের মধ্যেও একই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ও সাহস তৈরি হয়।
৪. পারফরম্যান্স বৈধতা তত্ত্ব (Performance Legitimacy): স্বৈরতান্ত্রিক সরকারগুলো 'উন্নয়ন'-এর দোহাই দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকে। যখনই অর্থনৈতিক উন্নয়ন থমকে যায়, তখনই সরকারের নৈতিক বা পারফরম্যান্স বৈধতার সংকট তৈরি হয়।
৫. সমঝোতামূলক উত্তরণ (Transplacement Theory): যখন সরকার এবং বিরোধী দল উভয়ই বুঝতে পারে যে তারা একে অপরকে সম্পূর্ণ পরাজিত করতে পারবে না, তখন তারা আলোচনার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ বের করে।
৬. উদারীকরণ বনাম গণতন্ত্রীকরণ (Liberalization vs. Democratization): উদারীকরণ হলো স্বৈরতন্ত্রের ভেতর কিছু সুযোগ-সুবিধা পাওয়া (যেমন: বন্দি মুক্তি), আর গণতন্ত্রীকরণ হলো সম্পূর্ণ শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন। অনেক সময় উদারীকরণই গণতন্ত্রীকরণের পথ প্রশস্ত করে।
৭. সাংস্কৃতিক বাধা তত্ত্ব (Cultural Obstacle Theory): হান্টিংটন মনে করেন, কিছু নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংস্কৃতি (যেমন: প্রবল গোষ্ঠীগত আনুগত্য) গণতন্ত্রের পথে বাধা হতে পারে, যা কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন।
৮. মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ভূমিকা (Middle-Class Hypothesis): অর্থনৈতিক উন্নয়নের ফলে যখন একটি শক্তিশালী মধ্যবিত্ত শ্রেণী তৈরি হয়, তারাই গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বেশি চাপ সৃষ্টি করে এবং তা রক্ষা করে।
৯. আন্তর্জাতিক চাপ তত্ত্ব (International Pressure Theory): বাহ্যিক শক্তি বা পরাশক্তিগুলোর (যেমন: ইইউ বা ইউএস) সমর্থন বা চাপ একটি দেশের গণতন্ত্র উত্তরণে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।
১০. বৈধতার সংকট (Legitimacy Crisis): যখন শাসকগোষ্ঠীর কাজ আর জনগণের আকাঙ্ক্ষার মধ্যে বিশাল গ্যাপ তৈরি হয়, তখন শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।
দ্বিতীয় অংশ: লিঞ্জ ও স্টিফেনের ১০টি তত্ত্ব
১১. দ্য অনলি গেম ইন টাউন (The Only Game in Town): গণতন্ত্র তখনই সুসংহত হয় যখন সমাজের সব পক্ষ বিশ্বাস করে যে অগণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা দখলের আর কোনো সুযোগ বা যৌক্তিকতা নেই।
১২. পাঁচটি অপরিহার্য অঙ্গন (Five Arenas Theory): গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে হলে কেবল ভোট নয়, বরং সিভিল সোসাইটি, পলিটিক্যাল সোসাইটি, আইনের শাসন, আমলাতন্ত্র এবং অর্থনৈতিক সমাজ—এই পাঁচটি ক্ষেত্রের সমান্তরাল উন্নয়ন প্রয়োজন।
১৩. আচরণগত সুসংহতকরণ (Behavioral Consolidation): যখন কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী আর ক্যু বা সহিংসতার মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করে না, বরং নিয়মতান্ত্রিক পথে চলে।
১৪. মানসিক সুসংহতকরণ (Attitudinal Consolidation): যখন দেশের গরিষ্ঠসংখ্যক মানুষ চরম বিপদেও (যেমন: অর্থনৈতিক মন্দা) বিশ্বাস করে যে গণতন্ত্রই একমাত্র সমাধান।
১৫. সাংবিধানিক সুসংহতকরণ (Constitutional Consolidation): যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নিরসনে সংবিধানই শেষ কথা হিসেবে গণ্য হয় এবং সব পক্ষ তা মেনে নেয়।
১৬. রাষ্ট্রসত্তা বা স্ট্যাটনেস (Stateness Problem): যদি একটি ভূখণ্ডের মানুষের মধ্যে জাতীয় পরিচয় নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকে (কে নাগরিক আর কে নয়), তবে সেখানে গণতন্ত্র সুসংহত করা প্রায় অসম্ভব।
১৭. সংরক্ষিত এলাকা তত্ত্ব (Reserved Domains): উত্তরণের পরেও যদি সামরিক বাহিনী বা কোনো অগণতান্ত্রিক গোষ্ঠী নির্দিষ্ট কিছু ক্ষমতা (যেমন: বাজেট বা নীতি নির্ধারণ) নিজের হাতে রেখে দেয়, তবে তাকে পূর্ণ গণতন্ত্র বলা যায় না।
১৮. পেশাদার আমলাতন্ত্রের ভূমিকা (Professional Bureaucracy): একটি অরাজনৈতিক ও দক্ষ আমলাতন্ত্র ছাড়া গণতন্ত্র সাধারণ মানুষকে সেবা দিতে পারে না, যার ফলে জনগণের আস্থা নষ্ট হয়।
১৯. অর্থনৈতিক সমাজ তত্ত্ব (Economic Society): গণতন্ত্রের জন্য কেবল পুঁজিবাদ নয়, বরং এমন একটি বাজার ব্যবস্থা প্রয়োজন যেখানে আইনি কাঠামো ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত থাকে।
২০. রাজনৈতিক প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ (Political Institutionalization): রাজনৈতিক দলগুলোকে ব্যক্তি-নির্ভরতা থেকে বের করে একটি নির্দিষ্ট সিস্টেমের অধীনে আনা, যাতে দলগুলো ব্যক্তির চেয়ে শক্তিশালী হয়।
আপনার জন্য বিশেষ নোট (একজন নেতার ডায়েরি):
আপনি যখন কোনো বুদ্ধিজীবী মহলে বা জনসভায় কথা বলবেন, তখন এই তত্ত্বগুলো ব্যবহার করে বিশ্লেষণ করুন। যেমন:
"আমরা আজ গণতন্ত্রের Transition-এ আছি, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত Consolidation। আমরা যদি আমলাতন্ত্র ও সিভিল সোসাইটির মতো Arenas-গুলোকে সংস্কার না করি, তবে গণতন্ত্র আমাদের দেশে Only Game in Town হয়ে উঠবে না।"