এলিট থিওরীঃ সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও জননীতিতে এর ব্যবহার(১৩)

এলিট তত্ত্ব (Elite Theory) রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান এবং জননীতি বিশ্লেষণের একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী তাত্ত্বিক কাঠামো। এই তত্ত্বের মূল কথা হলো—একটি সমাজের ক্ষমতা কখনোই সবার হাতে সমানভাবে থাকে না; বরং এটি সবসময় একটি ক্ষুদ্র, সুসংগঠিত এবং প্রভাবশালী গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে। এই ক্ষুদ্র গোষ্ঠীকে বলা হয় ‘এলিট’ (Elite), আর বাকি বিশাল জনগোষ্ঠীকে বলা হয় ‘সাধারণ মানুষ’ (Mass)।

নিচে আপনার জিজ্ঞাসিত বিষয়গুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:

১. এলিট তত্ত্বের মূল ধারণা

এলিট তত্ত্ব বিশ্বাস করে যে, গণতন্ত্র হোক বা একনায়কতন্ত্র, সমাজ সবসময় দুটি স্তরে বিভক্ত থাকে:

  • এলিট (The Rulers): যারা সংখ্যালঘু কিন্তু সম্পদ, শিক্ষা, সামাজিক মর্যাদা বা ক্ষমতার কারণে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী।

  • সাধারণ মানুষ (The Ruled): যারা সংখ্যাগুরু কিন্তু অসংগঠিত এবং নীতি নির্ধারণে যাদের কোনো সরাসরি প্রভাব নেই।

এলিটদের ক্ষমতা কেবল গায়ের জোরে নয়, বরং তাদের দক্ষতা, বুদ্ধিমত্তা এবং কৌশলগত সংহতির ওপর ভিত্তি করে টিকে থাকে।

২. কোন কোন শাখায় এলিট তত্ত্ব আলোচনা করা হয়?

এলিট তত্ত্ব মূলত তিনটি প্রধান একাডেমিক শাখায় গভীরভাবে আলোচিত হয়:

  • সমাজবিজ্ঞান (Sociology): এখানে দেখা হয় সমাজের গঠন কীভাবে এলিট তৈরি করে। এলিটদের মনস্তত্ত্ব, তাদের পারিবারিক ও সামাজিক নেটওয়ার্ক এবং কীভাবে তারা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ক্ষমতা ধরে রাখে—তা সমাজবিজ্ঞানের মূল বিষয়।

  • রাষ্ট্রবিজ্ঞান (Political Science): রাজনীতিতে ক্ষমতার বণ্টন, রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় এলিটদের ভূমিকা এখানে আলোচনা করা হয়। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরেও কীভাবে এলিটরা প্রভাব বিস্তার করে, তা এর উপজীব্য।

  • জননীতি (Public Policy): এখানে দেখা হয় সরকারি নীতিগুলো আসলে কার স্বার্থে তৈরি হয়। থমাস ডাই-এর মতে, জননীতি জনগণের চাহিদা নয়, বরং এলিটদের পছন্দ ও মূল্যবোধের প্রতিফলন।

৩. এলিট তত্ত্বের বিস্তারিত ব্যাখ্যা (তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট)

বিখ্যাত তাত্ত্বিকদের দর্শনের ভিত্তিতে এই তত্ত্বের তিনটি প্রধান দিক রয়েছে:

ক. ধ্রুপদী এলিট তত্ত্ব (Classical Elite Theory)

এটি ১৯ শতকের শেষের দিকে ইতালীয় সমাজবিজ্ঞানীদের দ্বারা বিকশিত হয়:

  • ভিলফ্রেডো প্যারেটো (Vilfredo Pareto): তিনি বলেছিলেন, মানুষ সবসময় অসম। তিনি এলিটদের দুই ভাগে ভাগ করেছেন—'লায়ন' (যারা বলপ্রয়োগ করে) এবং 'ফক্স' (যারা বুদ্ধি ও কূটকৌশল ব্যবহার করে)। তিনি 'Circulation of Elites' তত্ত্বের জন্য বিখ্যাত, যেখানে তিনি দেখান যে এক এলিট গোষ্ঠী চিরকাল থাকে না, বরং সময়ের সাথে অন্য এলিট দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।

  • গেতানো মোসকা (Gaetano Mosca): তিনি যুক্তি দেন যে, একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী সবসময় সংগঠিত থাকে বলেই তারা বিশাল অসংগঠিত জনতার ওপর শাসন করতে পারে।

খ. আধুনিক এলিট তত্ত্ব (Modern/Critical Elite Theory)

  • সি. রাইট মিলস (C. Wright Mills): তাঁর বিখ্যাত বই The Power Elite-এ তিনি দেখিয়েছেন যে, আধুনিক আমেরিকায় তিনটি শক্তির শীর্ষ ব্যক্তিরা (কর্পোরেট প্রধান, উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা এবং কেন্দ্রীয় রাজনীতিবিদ) মিলে একটি 'পাওয়ার এলিট' গঠন করে, যারা পুরো দেশকে নিয়ন্ত্রণ করে।

গ. জননীতিতে এলিট তত্ত্ব (Thomas R. Dye)

জননীতির প্রেক্ষাপটে এর বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

  • নীতি উপর থেকে নিচে (Top-down) প্রবাহিত হয়।

  • এলিটরা স্থিতিশীলতা পছন্দ করে, তাই তারা নীতিতে বড় কোনো বিপ্লব না এনে ধীরে ধীরে পরিবর্তন (Incremental Change) আনে।

  • সাধারণ মানুষ নীতি সম্পর্কে খুব কম জানে এবং তারা নিষ্ক্রিয় থাকে।

৪. এলিট তত্ত্বের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ (এক নজরে)

১. সমাজ শাসক (এলিট) এবং শাসিত (জনতা)—এই দুই ভাগে বিভক্ত।

২. এলিটরা উচ্চবিত্ত শ্রেণি থেকে আসে এবং তাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতি সাধারণ মানুষের চেয়ে ভিন্ন হয়।

৩. জননীতি জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী নয়, বরং এলিটদের স্বার্থ অনুযায়ী তৈরি হয়।

৪. এলিটদের মধ্যে কোনো নতুন সদস্য নিতে হলে তাকে অবশ্যই এলিটদের মূল্যবোধ ও আদর্শ গ্রহণ করতে হয়।

৫. নির্বাচন বা বিপ্লব কেবল এলিটদের চেহারা পরিবর্তন করে, ক্ষমতার চরিত্র পরিবর্তন করে না।

উপসংহার ও সমালোচনা

এলিট তত্ত্বকে প্রায়ই সমালোচনার মুখে পড়তে হয়, বিশেষ করে বহুত্ববাদ (Pluralism) তাত্ত্বিকরা মনে করেন যে ক্ষমতা কোনো একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে নয়, বরং বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে থাকে। তবে বাস্তব রাজনীতি ও জননীতি বিশ্লেষণে এলিট তত্ত্ব এখনও একটি অত্যন্ত শক্তিশালী হাতিয়ার, যা পর্দার আড়ালের ক্ষমতার খেলা বুঝতে সাহায্য করে।


সমাজবিজ্ঞান এবং পাবলিক পলিসি—উভয় ক্ষেত্রেই 'এলিট তত্ত্ব' (Elite Theory)-র মূল সুর এক হলেও এদের প্রয়োগের ক্ষেত্র এবং ফোকাস বা দৃষ্টিভঙ্গিতে কিছু সূক্ষ্ম ও গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

আপনার বোঝার সুবিধার্থে নিচে এদের তুলনা ও আমার মতামত তুলে ধরছি:

১. সমাজবিজ্ঞানের এলিট তত্ত্ব (Sociological Elite Theory)

সমাজবিজ্ঞানে এলিট তত্ত্ব মূলত 'সামাজিক কাঠামো' এবং 'ক্ষমতার উৎস' নিয়ে আলোচনা করে।

  • মূল প্রশ্ন: সমাজে ক্ষমতা কার হাতে থাকে এবং কেন থাকে?

  • তাত্ত্বিক: ভিলফ্রেডো প্যারেটো, গেটানো মোসকা এবং সি. রাইট মিলস।

  • ফোকাস: সমাজবিজ্ঞানীরা দেখেন ক্ষমতার মনস্তাত্ত্বিক ও কাঠামোগত দিক। যেমন— প্যারেটো দেখিয়েছেন মানুষের চারিত্রিক গুণাবলী (লায়ন বনাম ফক্স) কীভাবে তাকে এলিট বানায়। সি. রাইট মিলস তাঁর The Power Elite বইতে দেখিয়েছেন কীভাবে কর্পোরেট প্রধান, সামরিক নেতা এবং রাজনীতিবিদদের মধ্যে একটি 'অশুভ আঁতাত' বা সামাজিক নেটওয়ার্ক তৈরি হয়।

  • সারকথা: এটি মূলত একটি ডেসক্রিপটিভ (Descriptive) বা বর্ণনামূলক তত্ত্ব যা সমাজের অসম ক্ষমতা কাঠামোকে ব্যাখ্যা করে।

২. পাবলিক পলিসির এলিট তত্ত্ব (Elite Theory in Public Policy)

পাবলিক পলিসিতে এই তত্ত্বটি মূলত 'নীতি নির্ধারণের প্রক্রিয়া' এবং 'আউটপুট' নিয়ে কাজ করে।

  • মূল প্রশ্ন: নীতিগুলো কার স্বার্থে তৈরি হয় এবং সাধারণ মানুষের এতে ভূমিকা কতটুকু?

  • তাত্ত্বিক: থমাস আর. ডাই।

  • ফোকাস: এখানে ফোকাস থাকে ‘পলিসি আউটপুট’-এর ওপর। ডাই-এর মতে, পাবলিক পলিসি জনগণের চাহিদা নয়, বরং এলিটদের মূল্যবোধের প্রতিফলন। এখানে দেখা হয় কীভাবে এলিটদের পছন্দগুলো আমলাতন্ত্রের মাধ্যমে আইনে পরিণত হয়।

  • সারকথা: এটি একটি অ্যানালিটিক্যাল (Analytical) মডেল যা ব্যাখ্যা করে কেন সরকার একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিল এবং কেন সেই সিদ্ধান্তটি সাধারণ মানুষের দাবির সাথে মিলছে না।

প্রধান পার্থক্যসমূহ (এক নজরে)

বৈশিষ্ট্য সমাজবিজ্ঞানের এলিট তত্ত্ব পাবলিক পলিসির এলিট তত্ত্ব
কেন্দ্রীয় বিষয় ক্ষমতার উৎস ও সামাজিক অবস্থান। নীতির রূপরেখা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
দৃষ্টিভঙ্গি কারা এলিট? তারা কীভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকে? এলিটদের পছন্দ কীভাবে নীতিতে রূপান্তরিত হয়?
জনগণের ভূমিকা জনগণকে 'শোষিত' বা 'নিষ্ক্রিয়' হিসেবে দেখা হয়। জনগণকে 'তথ্যহীন' এবং 'প্রভাবহীন' হিসেবে দেখা হয়।
পরিবর্তন এলিটদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বা সার্কুলেশনের মাধ্যমে পরিবর্তন আসে। এলিটরা নিজেদের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সামান্য পরিবর্তন (Incremental change) আনে।

আমার মতামত: এগুলো কি একই নাকি ভিন্ন?

আমার বিশ্লেষণ মতে, এগুলো ভিন্ন নয়, বরং একে অপরের পরিপূরক।

যুক্তি:

সমাজবিজ্ঞানের এলিট তত্ত্ব আমাদের সেই ‘ব্যক্তি বা গোষ্ঠী’ চিনতে সাহায্য করে যারা পর্দার আড়ালে ক্ষমতা ধরে রাখে (যেমন: নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বা শক্তিশালী আমলাতন্ত্র)। আর পাবলিক পলিসির এলিট তত্ত্ব আমাদের দেখায় সেই গোষ্ঠীটি কীভাবে তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজেদের সুবিধামতো ‘আইন ও বিধি’ (যেমন: ট্যাক্স পলিসি বা কোটা সিস্টেম) তৈরি করে নিচ্ছে।

উপসংহার:

আপনি যদি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জুলাই আন্দোলনের মতো ঘটনা বিশ্লেষণ করতে চান, তবে আপনাকে সমাজবিজ্ঞানের এলিট তত্ত্ব দিয়ে বুঝতে হবে কেন সাধারণ মানুষ (Mass) পুরনো এলিটদের প্রত্যাখ্যান করল। আর পাবলিক পলিসির তত্ত্ব দিয়ে বুঝতে হবে কেন পূর্ববর্তী সরকার এমন সব নীতি গ্রহণ করেছিল যা জনবিচ্ছিন্ন ছিল।

সহজ কথায়, সমাজবিজ্ঞানের এলিট তত্ত্ব হলো 'নেপথ্যের কারিগরদের পরিচয়', আর পাবলিক পলিসির এলিট তত্ত্ব হলো 'তাদের হাতের কাজ'


জুলাই আন্দোলনের মতো গণঅভ্যুত্থানগুলো আপাতদৃষ্টিতে এলিট থিওরির (Elite Theory) বিপরীত মনে হলেও, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের গভীর বিশ্লেষণে এগুলোকে এলিট থিওরির ব্যর্থতা অথবা এলিটদের পালাবদল হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। থমাস ডাই এবং ভিলফ্রেডো প্যারেটোর মতো তাত্ত্বিকদের দর্শনে এর চমৎকার ব্যাখ্যা রয়েছে।

জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এর ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো:

১. এলিট থিওরির সীমাবদ্ধতা ও ‘ম্যাস আপরাইজিং’

এলিট থিওরির মূল কথা হলো—ক্ষমতা সবসময় একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর হাতে থাকে এবং নীতি উপর থেকে নিচে প্রবাহিত হয়। কিন্তু যখন এই এলিটরা সাধারণ মানুষের (Mass) আশা-আকাঙ্ক্ষা বুঝতে ব্যর্থ হয় এবং তাদের মধ্যে ‘আইসোলেশন’ বা বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়, তখন স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়। জুলাই আন্দোলনে আমরা দেখেছি যে, সাধারণ ছাত্র-জনতা এলিটদের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত (কোটা বা পরবর্তী দমনমূলক নীতি) মেনে নেয়নি। এটি প্রমাণ করে যে, এলিটদের ক্ষমতা অসীম নয়; এটি জনগণের সম্মতির ওপর নির্ভরশীল।

২. প্যারেটোর ‘সার্কুলেশন অফ এলিট’ (Circulation of Elites)

জুলাই আন্দোলনের মতো ঘটনাগুলোকে ব্যাখ্যা করার জন্য বিখ্যাত তাত্ত্বিক ভিলফ্রেডো প্যারেটো (Vilfredo Pareto) একটি ধারণা দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, সমাজ কখনোই এলিটহীন হয় না। একটি এলিট গোষ্ঠী যখন অযোগ্য বা অত্যাচারী হয়ে ওঠে, তখন অন্য একটি উদীয়মান এলিট গোষ্ঠী (যেমন ছাত্রনেতা, সিভিল সোসাইটি বা বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি) সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করে পুরনো এলিটদের উৎখাত করে।

  • ব্যাখ্যা: জুলাই আন্দোলনে আমরা দেখেছি পুরনো রাজনৈতিক এলিটদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে নতুন একদল প্রতিনিধি। প্যারেটোর মতে, এটি আসলে ‘এলিটহীন সমাজ’ তৈরি নয়, বরং এলিটদের পরিবর্তন (Circulation) মাত্র।

৩. ‘কাউন্টার-এলিট’ (Counter-Elite) এর উত্থান

জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বে যারা ছিলেন, তারা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় 'Counter-Elite'। যখন মূল ধারার এলিটরা জনগণের ভাষা হারায়, তখন সমাজ থেকে একদল নতুন মেধাবী নেতৃত্ব উঠে আসে যারা প্রচলিত ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে। জুলাই আন্দোলন প্রমাণ করেছে যে, যখন ‘ম্যাস’ বা সাধারণ জনতা ‘কাউন্টার-এলিট’দের পেছনে ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন স্থিতিশীল এলিট কাঠামো ভেঙে পড়ে।

৪. থমাস ডাই-এর দৃষ্টিতে ব্যাখ্যা

থমাস ডাই তাঁর বইতে সতর্ক করেছিলেন যে, এলিটদের স্থিতিশীল থাকার জন্য দুটি জিনিস প্রয়োজন:

  • এলিট কনসেনসাস (ঐক্য): জুলাই আন্দোলনে আমরা দেখেছি এলিটদের মধ্যে ফাটল ধরেছিল (যেমন অনেক আমলা বা নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদের দ্বিধা)।

  • নিচ থেকে উঠে আসা মেধাবীদের জায়গা দেওয়া (Co-optation): বর্তমান এলিটরা যখন নতুন প্রজন্ম বা মেধাবীদের সিস্টেমে জায়গা দিতে ব্যর্থ হয়, তখন সেই মেধাবীরা সিস্টেমের বাইরে থেকে বিদ্রোহ শুরু করে। জুলাই আন্দোলন ছিল মূলত সিস্টেমের বাইরে থেকে আসা এই প্রতিক্রিয়ার ফল।

সারাংশ: এটি কি এলিট থিওরির বিপরীত?

  • হ্যাঁ, কারণ এটি প্রমাণ করেছে যে জননীতি সবসময় ওপর থেকে নিচে (Top-down) যায় না; নিচ থেকে আসা প্রবল চাপ (Bottom-up pressure) পুরো নীতি ও সরকারকে পরিবর্তন করে দিতে পারে।

  • না, কারণ আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা নতুন কোনো কাঠামো তৈরি হয়, সেখানেও ঘুরেফিরে একদল বিশেষজ্ঞ বা নেতৃত্ব (এলিট) সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

উপসংহার: জুলাই আন্দোলন ছিল এলিট থিওরির অকার্যকরতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ, যেখানে ‘এলিট-ম্যাস গ্যাপ’ এত বেশি বেড়ে গিয়েছিল যে তা বিপ্লবে রূপ নেয়। তবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, এটি কোনো স্থায়ী ‘এলিটহীন’ অবস্থা নয়, বরং একটি নতুন এবং সম্ভবত আরও দায়িত্বশীল এলিট শ্রেণি তৈরির প্রক্রিয়া।

Next
Next

তুলনাঃ রাষ্ট্রবিজ্ঞান, জননীতি, জনপ্রশাসন, জনসেবা প্রদান, সুশাসন(১২)