31. ভি-ডেম (V-Dem) ডেমোক্রেসি ইনডেক্স: পদ্ধতি, স্কোরিং ও র‍্যাংকিং

গণতন্ত্রের গুণগত মান এবং ধরণ পরিমাপের জন্য বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিস্তারিত সূচক হিসেবে বিবেচিত হয় V-Dem (Varieties of Democracy) ইনডেক্সসুইডেনের গোথেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভি-ডেম ইনস্টিটিউট এই সূচকটি প্রণয়ন করে। নিচে এর বিভিন্ন দিক নিয়ে একটি বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. ভি-ডেম ইনডেক্স কী?

ভি-ডেম হলো গণতন্ত্র পরিমাপের একটি বৈশ্বিক পদ্ধতি যা গণতন্ত্রকে কেবল 'ভোট' বা 'নির্বাচন' হিসেবে না দেখে একে একটি বহুমুখী ধারণা হিসেবে বিবেচনা করে। প্রচলিত অন্যান্য সূচক (যেমন- ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বা ফ্রিডম হাউস) যেখানে গণতন্ত্রকে সীমিত পরিসরে দেখে, ভি-ডেম সেখানে প্রায় ৪৫০টিরও বেশি সুনির্দিষ্ট নির্দেশক (Indicators) ব্যবহার করে বিশ্বের প্রতিটি দেশের গণতান্ত্রিক চিত্র তুলে ধরে।

২. ভি-ডেম সূচকের প্রধান পাঁচটি মূলনীতি (Principles)

ভি-ডেম গণতন্ত্রকে পাঁচটি প্রধান স্তম্ভের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করে:

  • নির্বাচনী গণতন্ত্র (Electoral): নিয়মিত, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে কি না।

  • উদারনৈতিক গণতন্ত্র (Liberal): আইনের শাসন, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং ক্ষমতার ভারসাম্য।

  • অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র (Participatory): নাগরিক সমাজ এবং স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ।

  • সুষ্ঠু/ন্যায্য গণতন্ত্র (Deliberative): নীতিনির্ধারণে সাধারণ মানুষের স্বার্থ এবং যুক্তিনির্ভর বিতর্কের উপস্থিতি।

  • সমতাভিত্তিক গণতন্ত্র (Egalitarian): সম্পদ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য অধিকারের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের সমান সুযোগ।

৩. সূচক তৈরির পদ্ধতি (Methodology)

ভি-ডেম ইনডেক্স অত্যন্ত জটিল ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়:

  • বিশেষজ্ঞ মতামত: বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩,৫০০-এর বেশি বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদ এই তথ্য সংগ্রহের সাথে জড়িত থাকেন। প্রতিটি দেশের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অন্তত ৫ জন বিশেষজ্ঞ ডেটা প্রদান করেন।

  • নির্দেশক (Indicators): প্রায় ৪৫০টিরও বেশি সূচক ব্যবহার করা হয়, যা সরাসরি পর্যবেক্ষণ (যেমন- আইন) এবং বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন (যেমন- দুর্নীতির মাত্রা) থেকে নেওয়া হয়।

  • গাণিতিক মডেল: সংগৃহীত তথ্যগুলোকে 'Bayesian Item Response Theory (IRT)' মডেলের মাধ্যমে প্রক্রিয়া করা হয়, যাতে বিশেষজ্ঞদের ব্যক্তিগত পক্ষপাতের (Bias) ঝুঁকি কমানো যায় এবং একটি নিখুঁত স্কোর প্রদান করা সম্ভব হয়।

৪. প্রধান নির্দেশকসমূহ (Key Indicators)

ভি-ডেম প্রধানত লিবারেল ডেমোক্রেসি ইনডেক্স (LDI) এবং ইলেক্টোরাল ডেমোক্রেসি ইনডেক্স (EDI)-এর ওপর ভিত্তি করে দেশগুলোকে র‍্যাঙ্কিং করে। এর উল্লেখযোগ্য নির্দেশকগুলো হলো:

  • মতপ্রকাশের স্বাধীনতা: গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের কথা বলার অধিকার।

  • সংগঠন করার অধিকার: রাজনৈতিক দল এবং এনজিও গঠনের স্বাধীনতা।

  • ভোটাধিকারের বিস্তার: সর্বজনীন ভোটাধিকার এবং এর কার্যকারিতা।

  • বিচারবিভাগের স্বাধীনতা: নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ কতটা স্বাধীন।

  • আইনের শাসন: আইনের দৃষ্টিতে সবার সমান অধিকার এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা।

৫. ভি-ডেম সূচকের ব্যবহার ও উপকারিতা

এই সূচকটি আধুনিক বিশ্বে রাজনৈতিক গবেষণার একটি অপরিহার্য হাতিয়ার:

  • একাডেমিক গবেষণা: রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং সমাজবিজ্ঞানের গবেষকরা বিভিন্ন দেশের শাসনব্যবস্থার বিবর্তন বুঝতে এটি ব্যবহার করেন।

  • নীতি নির্ধারণ: আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা (যেমন- বিশ্বব্যাংক, ইউএনডিপি) কোনো দেশে বিনিয়োগ বা সাহায্যের ক্ষেত্রে এই সূচকটিকে মানদণ্ড হিসেবে দেখে।

  • গণতান্ত্রিক বিচ্যুতি চিহ্নিতকরণ: কোনো দেশে যখন গণতন্ত্র থেকে স্বৈরতন্ত্রের দিকে রূপান্তর (Autocratization) শুরু হয়, তখন ভি-ডেমের তথ্য-উপাত্ত আগেভাগেই সতর্কবার্তা প্রদান করতে পারে।

  • তুলনামূলক বিশ্লেষণ: এটি ঐতিহাসিক তথ্য প্রদান করে, যার ফলে ১৯০০ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট দেশের গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের গ্রাফ বোঝা সহজ হয়।

৬. সীমাবদ্ধতা

এত নিখুঁত পদ্ধতি হওয়া সত্ত্বেও কিছু সমালোচক মনে করেন, এটি বিশেষজ্ঞদের মতামতের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। তবে মাল্টি-মেথড ডেটা কালেকশন এবং উচ্চতর পরিসংখ্যানগত মডেলের কারণে এটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য গণতান্ত্রিক ডেটাসেট হিসেবে স্বীকৃত।

উপসংহার:

ভি-ডেম ডেমোক্রেসি ইনডেক্স কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি একটি দেশের শাসনব্যবস্থার স্বাস্থ্য পরীক্ষার মানদণ্ড। বর্তমান বিশ্বে যখন 'ডিজিটাল স্বৈরতন্ত্র' এবং 'গণতান্ত্রিক পশ্চাদপসরণ' (Democratic Backsliding) বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন ভি-ডেমের মতো তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ নীতিনির্ধারক ও সচেতন নাগরিকদের সঠিক পথ দেখাতে সাহায্য করে।

ভি-ডেম (V-Dem) ইনডেক্সে দেশগুলোকে র‍্যাঙ্কিং করার প্রক্রিয়াটি প্রচলিত অন্যান্য সূচকের চেয়ে অনেক বেশি বৈজ্ঞানিক, স্বচ্ছ এবং ডেটা-নির্ভর। এটি মূলত 'মাল্টি-ডাইমেনশনাল' বা বহুমাত্রিক একটি পদ্ধতি। নিচে এর ধাপগুলো বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হলো:

১. ধারণাগত কাঠামো (Conceptual Framework)

ভি-ডেম প্রথমেই গণতন্ত্রকে কেবল একটি একক সংজ্ঞা দিয়ে বিচার না করে একে ৫টি উচ্চ-পর্যায়ের নীতিতে ভাগ করে:

  • নির্বাচনী (Electoral)

  • উদারনৈতিক (Liberal)

  • অংশগ্রহণমূলক (Participatory)

  • বিবেচনামূলক (Deliberative)

  • সমতাভিত্তিক (Egalitarian)

প্রতিটি দেশের র‍্যাঙ্কিং মূলত এই পাঁচটি স্তম্ভের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।

২. তথ্য সংগ্রহ (Data Collection)

এটিই ভি-ডেমের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক। তথ্য সংগ্রহের জন্য তারা তিনটি উৎস ব্যবহার করে:

  • ফ্যাক্ট-বেসড ডেটা: দেশের আয়তন, জনসংখ্যা বা নির্বাচনের তারিখের মতো তথ্যগুলো সরকারি রেকর্ড থেকে নেওয়া হয়।

  • বিশেষজ্ঞ মতামত (Subjective Assessment): বিশ্বের প্রতিটি দেশের জন্য গড়ে ৫ জন করে মোট ৩,৫০০-এর বেশি বিশেষজ্ঞ (শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, বিচারক) সরাসরি তথ্য দেন। তারা প্রায় ৪৫০টি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দেন।

  • ঐতিহাসিক তথ্য: ভি-ডেম ১৭৮৯ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করে, যা দেশগুলোর দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতা বুঝতে সাহায্য করে।

৩. পরিমাপের নির্দেশক (Indicators to Aggregation)

র‍্যাঙ্কিং করার জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করা হয়:

  1. সূক্ষ্ম নির্দেশক (Indicators): প্রথমে প্রায় ৪৫০টি সূচকের ওপর স্কোর দেওয়া হয় (যেমন: সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বায়ত্তশাসন)।

  2. উপ-সূচক (Sub-components): এই নির্দেশকগুলো একত্রিত হয়ে তৈরি হয় উপ-সূচক (যেমন: মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সূচক)।

  3. প্রধান সূচক (Main Indices): সবশেষে তৈরি হয় মূল সূচকগুলো, যেমন Liberal Democracy Index (LDI) বা Electoral Democracy Index (EDI)

৪. গাণিতিক মডেল: 'Bayesian Item Response Theory' (IRT)

বিশেষজ্ঞরা মানুষ, তাই তাদের মতামতে কিছুটা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ (Bias) থাকতে পারে। ভি-ডেম এই পক্ষপাত দূর করতে IRT মডেল নামক একটি জটিল পরিসংখ্যানগত পদ্ধতি ব্যবহার করে।

  • যদি একজন বিশেষজ্ঞ খুব কঠোরভাবে নম্বর দেন এবং অন্যজন খুব উদারভাবে, তবে এই মডেলটি সেই বৈষম্যকে সমন্বয় করে একটি 'ভারসাম্যপূর্ণ গড় স্কোর' তৈরি করে।

  • এটি তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা (Reliability) এবং অনিশ্চয়তা (Uncertainty) পরিমাপ করে।

৫. চূড়ান্ত স্কোর ও শ্রেণীবিভাগ (Regime Classification)

০ থেকে ১-এর স্কেলে স্কোর নির্ধারণ করার পর, ভি-ডেম দেশগুলোকে চারটি প্রধান ক্যাটাগরিতে ভাগ করে র‍্যাঙ্কিং দেয়:

  1. Liberal Democracy (উদারনৈতিক গণতন্ত্র): উচ্চ স্কোরপ্রাপ্ত দেশ।

  2. Electoral Democracy (নির্বাচনী গণতন্ত্র): যেখানে নির্বাচন সুষ্ঠু কিন্তু অন্যান্য অধিকার সীমিত।

  3. Electoral Autocracy (নির্বাচনী স্বৈরতন্ত্র): যেখানে নির্বাচন হয় কিন্তু তা নিরপেক্ষ নয়।

  4. Closed Autocracy (বন্ধ স্বৈরতন্ত্র): যেখানে গণতন্ত্রের কোনো বালাই নেই।

র‍্যাঙ্কিংয়ের গুরুত্ব: কেন এটি আলাদা?

অন্যান্য অনেক সূচক (যেমন ফ্রিডম হাউস) শুধুমাত্র একটি চূড়ান্ত স্কোর দেয়, কিন্তু ভি-ডেম প্রতিটি দেশের জন্য একটি 'ইন্টারঅ্যাক্টিভ গ্রাফ' প্রদান করে। এতে দেখা যায় কোন নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে (যেমন—আইনের শাসন বা মিডিয়া সেন্সরশিপ) একটি দেশ উন্নতি বা অবনতি করছে।

প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার জন্য এই সূচকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি কোনো দেশের 'প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা' (Institutional Capacity) কতটুকু—তার একটি স্বচ্ছ দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করে। যা মূলত কোনো দেশের সুশাসন (Governance) নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি।

তুলনাঃ EIU সূচক বনাম V-Dem সূচক

ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (EIU) এবং ভি-ডেম (V-Dem) — এই দুটিই বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র পরিমাপের সবচেয়ে প্রভাবশালী সূচক। তবে এদের দৃষ্টিভঙ্গি, পরিমাপের পদ্ধতি এবং তথ্যের গভীরতায় বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

নিচে একটি তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে এই পার্থক্যগুলো তুলে ধরা হলো:

১. তথ্যের উৎস ও গভীরতা

  • V-Dem: এটি মূলত একাডেমিক বা শিক্ষায়তনিক গবেষণার ফল। এতে ৩,৫০০-এর বেশি বিশেষজ্ঞের মতামত এবং ৪৫০টির বেশি সুনির্দিষ্ট নির্দেশক (Indicators) ব্যবহার করা হয়। এটি ১৭৮৯ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত ঐতিহাসিক ডেটা প্রদান করে।

  • EIU: এটি একটি বাণিজ্যিক ও নীতি-বিশ্লেষণী সংস্থা (The Economist Group-এর অংশ)। তারা মাত্র ৬০টি সূচকের ওপর ভিত্তি করে রিপোর্ট তৈরি করে। তাদের ডেটাসেট তুলনামূলক নতুন (২০০৬ সাল থেকে শুরু)।

২. গণতন্ত্রের সংজ্ঞা ও দৃষ্টিভঙ্গি

  • V-Dem: তারা গণতন্ত্রকে ৫টি ভিন্ন মডেলে (নির্বাচনী, উদারনৈতিক, অংশগ্রহণমূলক, বিবেচনামূলক এবং সমতাভিত্তিক) ভাগ করে। অর্থাৎ, একটি দেশ নির্বাচনী দিক থেকে ভালো হলেও সমতার দিক থেকে খারাপ হতে পারে—ভি-ডেম এই সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো ধরতে পারে।

  • EIU: তারা গণতন্ত্রকে মূলত একটি সামগ্রিক স্কোর (Overall Score) হিসেবে দেখে। তাদের মূল ফোকাস থাকে পাঁচটি বিভাগের ওপর: নির্বাচনী প্রক্রিয়া, নাগরিক স্বাধীনতা, সরকারের কার্যকারিতা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি।

৩. শাসনব্যবস্থার শ্রেণীবিভাগ (Classification)

উভয় সূচকই দেশগুলোকে চারটি ভাগে ভাগ করে, কিন্তু তাদের নামকরণ ও মানদণ্ড ভিন্ন:

বৈশিষ্ট্য V-Dem ক্যাটাগরি EIU ক্যাটাগরি
সেরা Liberal Democracy (উদারনৈতিক গণতন্ত্র) Full Democracy (পূর্ণ গণতন্ত্র)
মধ্যম Electoral Democracy (নির্বাচনী গণতন্ত্র) Flawed Democracy (ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র)
মিশ্র Electoral Autocracy (নির্বাচনী স্বৈরতন্ত্র) Hybrid Regime (সংকর শাসনব্যবস্থা)
সর্বনিম্ন Closed Autocracy (বন্ধ স্বৈরতন্ত্র) Authoritarian Regime (স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা)

৪. গাণিতিক ও পরিসংখ্যানগত পদ্ধতি

  • V-Dem: এটি অত্যন্ত জটিল Bayesian IRT (Item Response Theory) মডেল ব্যবহার করে। এটি বিশেষজ্ঞদের ব্যক্তিগত পক্ষপাত (Bias) দূর করার জন্য গাণিতিক শুদ্ধিকরণ করে এবং প্রতিটি স্কোরের সাথে একটি 'কনফিডেন্স লেভেল' বা অনিশ্চয়তার মাত্রা উল্লেখ করে।

  • EIU: এদের পদ্ধতি কিছুটা রহস্যময় বা কম স্বচ্ছ। তারা বিশেষজ্ঞদের উত্তরের গড় করে স্কোর নির্ধারণ করে, কিন্তু পক্ষপাত দূর করার জন্য ভি-ডেমের মতো অত উন্নত গাণিতিক মডেল ব্যবহারের বিস্তারিত প্রকাশ করে না।

৫. ব্যবহারের ক্ষেত্র

  • V-Dem: যেহেতু এটি অত্যন্ত বিস্তারিত এবং বৈজ্ঞানিক, তাই এটি শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য। দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক বিবর্তন বুঝতে এটি সেরা।

  • EIU: এটি সহজবোধ্য এবং সংক্ষিপ্ত হওয়ার কারণে গণমাধ্যম, বিনিয়োগকারী এবং সাধারণ পাঠকদের কাছে বেশি জনপ্রিয়। এটি মূলত বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ঝুঁকির চিত্র তুলে ধরে।

সারসংক্ষেপ: আমলাতান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে কোনটি বেশি কার্যকর?

একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা গবেষক হিসেবে আপনি যদি কোনো দেশের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা (Institutional Capacity) এবং আইনের শাসনের গভীরতা বিশ্লেষণ করতে চান, তবে V-Dem আপনাকে অনেক বেশি তথ্যবহুল ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ দেবে। অন্যদিকে, দ্রুত এবং সহজভাবে কোনো দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির তুলনামূলক চিত্র পেতে EIU বেশ কার্যকর।

আপনার গবেষণার বিষয় যদি হয় "প্রশাসনিক সংস্কার বা SOP-এর প্রভাব," তবে ভি-ডেমের সুনির্দিষ্ট ইন্ডিকেটরগুলো (যেমন: দুর্নীতির মাত্রা বা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা) আপনাকে বেশি নিখুঁত তথ্য দিতে পারবে।

Brainstorming:

আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে গণতন্ত্রের মানের চেয়ে 'প্রশাসনিক সক্ষমতা' বা 'সুশাসন' পরিমাপের জন্য আলাদা কোনো সূচক বেশি প্রয়োজন?


প্রথম দর্শনে এই বিভাগগুলোকে একই রকম মনে হওয়া খুব স্বাভাবিক, কারণ উভয় সূচকই গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তিগুলো নিয়ে কাজ করে। তবে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এগুলোর পরিধি (Scope) এবং দর্শন (Philosophy) সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সহজভাবে বলতে গেলে, EIU ফোকাস করে একটি দেশ "কার্যত কতটুকু গণতান্ত্রিক" তার ওপর, আর V-Dem ফোকাস করে গণতন্ত্রের "গুণগত ধরণ বা মডেলটি কেমন" তার ওপর।

নিচে এদের মূল পার্থক্যগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:

১. পরিধির পার্থক্য (Broad vs. Deep)

  • EIU (বিভাগ): এগুলো হলো গণতন্ত্রের কার্যকারিতার মাপকাঠি। যেমন—'রাজনৈতিক সংস্কৃতি' বিভাগে দেখা হয় নাগরিকরা গণতন্ত্রকে কতটা সমর্থন করে। এটি একটি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি "স্ন্যাপশট" বা স্থিরচিত্র দেয়।

  • V-Dem (মডেল): এগুলো হলো গণতন্ত্রের একেকটি স্বতন্ত্র দর্শন। V-Dem মনে করে, কেবল নির্বাচন বা নাগরিক স্বাধীনতা থাকলেই গণতন্ত্র শেষ হয়ে যায় না। একটি দেশ 'নির্বাচনী' দিক থেকে শক্তিশালী হতে পারে, কিন্তু 'সমতাভিত্তিক' (Egalitarian) দিক থেকে দুর্বল হতে পারে। V-Dem এই পার্থক্যগুলো আলাদাভাবে স্কোর করে।

২. প্রতিটি উপাদানের মধ্যকার সূক্ষ্ম পার্থক্য

বৈশিষ্ট্য EIU এর দৃষ্টিভঙ্গি (একটি সামগ্রিক সূচক) V-Dem এর দৃষ্টিভঙ্গি (ভিন্ন ভিন্ন মডেল)
নির্বাচন Electoral Process: ভোট কারচুপি হয় কি না, নিয়মগুলো স্বচ্ছ কি না। Electoral Principle: এটি গণতন্ত্রের নূন্যতম ভিত্তি। এখানে কেবল ভোটের স্বচ্ছতা নয়, বিরোধী দলের স্পেসও দেখা হয়।
স্বাধীনতা Civil Liberties: সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বা ধর্মীয় স্বাধীনতা আছে কি না। Liberal Principle: এখানে আইনের শাসন এবং নির্বাহী বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিচার বিভাগের ক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অংশগ্রহণ Political Participation: কত শতাংশ মানুষ ভোট দেয় বা মিছিলে যায়। Participatory Principle: এটি কেবল ভোট দেওয়া নয়, বরং তৃণমূল পর্যায়ে স্থানীয় সরকার বা সিভিল সোসাইটির মাধ্যমে জনগণের সরাসরি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে বোঝায়।
সংস্কৃতি বনাম বিতর্ক Political Culture: সমাজ কি সামরিক শাসন পছন্দ করে? তারা কি গণতান্ত্রিক নিয়ম মানে? Deliberative Principle: সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াটি কতটা যুক্তিভিত্তিক? সরকার কি ভিন্নমতের যুক্তি শুনে সিদ্ধান্ত নেয়, নাকি গায়ের জোরে?
কার্যকারিতা বনাম সমতা Functioning of the Government: সরকার কি তার পলিসি বাস্তবায়ন করতে পারে? আমলারা কি স্বাধীন? Egalitarian Principle: অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্পদ বা শিক্ষার বৈষম্য কি কিছু মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে? গরিব মানুষ কি ধনীর সমান রাজনৈতিক প্রভাব খাটাতে পারছে?

৩. কেন এগুলো একই রকম নয়? (একটি উদাহরণ)

মনে করুন একটি দেশ "ক":

  • সেখানে নিয়মিত নির্বাচন হয় এবং মানুষ অনেক সংখ্যায় ভোট দেয়। ফলে EIU-তে দেশটির 'নির্বাচনী প্রক্রিয়া' এবং 'রাজনৈতিক অংশগ্রহণ' বিভাগে ভালো স্কোর আসবে।

  • কিন্তু সেই দেশটিতে হয়তো সম্পদ কেবল গুটি কয়েক মানুষের হাতে এবং গরিব মানুষের রাজনীতিতে কোনো প্রভাব নেই। এক্ষেত্রে V-Dem-এর 'Egalitarian' (সমতাভিত্তিক) মডেলে দেশটির স্কোর খুব খারাপ আসবে।

অর্থাৎ, EIU বলছে দেশটি "ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র", আর V-Dem আপনাকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে এই গণতন্ত্রের "সমতাভিত্তিক মডেলে বড় ঘাটতি রয়েছে"

৪. আমলাতান্ত্রিক বা গবেষণার ক্ষেত্রে প্রভাব

একজন নীতি-নির্ধারক হিসেবে আপনি যখন SOP বা প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে কাজ করেন:

  • EIU আপনাকে বলবে আপনার দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কেমন।

  • V-Dem আপনাকে বলবে আপনার প্রশাসনের 'বিবেচনামূলক' (Deliberative) ক্ষমতা কতটুকু, অর্থাৎ নীতিনির্ধারণে সাধারণ মানুষের মতামত বা যুক্তির প্রতিফলন কতটা ঘটছে।

সারসংক্ষেপ: EIU হলো একটি জেনারেল রিপোর্ট কার্ড, আর V-Dem হলো একটি ডিটেইলড ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট। একটি আপনাকে ফলাফল জানায়, অন্যটি জানায় কাঠামোর ভেতরে কোন অংশে সমস্যা।

Brainstorming-02:

আপনার কি মনে হয়, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে 'সমতাভিত্তিক গণতন্ত্র' (Egalitarian) এবং 'সরকারের কার্যকারিতা' (Government Functioning)—এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি সংস্কার করা আগে জরুরি?

না, বিষয়টি আসলে সামান্য ভিন্ন। এখানে একটি সূক্ষ্ম কারিগরি পার্থক্য আছে যা বোঝা জরুরি। সহজভাবে বললে: EIU একটিই মূল স্কোর এবং র‍্যাঙ্কিং প্রদান করে, অন্যদিকে V-Dem একাধিক মূল সূচক (Indices) প্রদান করে।

বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য নিচে বিস্তারিত তুলে ধরছি:

১. EIU (The Economist Intelligence Unit): একটিই চূড়ান্ত স্কোর

EIU-তে ৫টি বিভাগ থাকলেও তারা মূলত একটি সমন্বিত স্কোর (Overall Score) তৈরি করে এবং সেই একটি স্কোরের ভিত্তিতেই বিশ্বের দেশগুলোকে ১ থেকে ১৬৭ পর্যন্ত একটি তালিকায় র‍্যাঙ্কিং করা হয়।

  • পদ্ধতি: তারা ৫টি বিভাগের স্কোরকে গড় (Average) করে একটি চূড়ান্ত স্কোর (০ থেকে ১০-এর স্কেলে) বের করে।

  • ফলাফল: আপনি যখন বলবেন "EIU সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান অমুক", তখন সেটি ওই একটি সমন্বিত স্কোরের ভিত্তিতেই বলা হয়। ৫টি বিভাগের আলাদা র‍্যাঙ্কিং তারা সাধারণত হাইলাইট করে না, সেগুলো কেবল ওই চূড়ান্ত স্কোরে পৌঁছানোর ধাপ হিসেবে কাজ করে।

২. V-Dem (Varieties of Democracy): একাধিক মূল র‍্যাঙ্কিং

V-Dem-এর দর্শন হলো—গণতন্ত্রের কোনো একটি নির্দিষ্ট "সমন্বিত রূপ" নেই। তাই তারা কোনো একটি চূড়ান্ত "বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং" দেওয়ার বদলে দুটি প্রধান এবং তিনটি সম্পূরক ইনডেক্সে আলাদা আলাদা র‍্যাঙ্কিং দেয়:

  • প্রধান দুটি র‍্যাঙ্কিং:

    1. LDI (Liberal Democracy Index): এটি তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় র‍্যাঙ্কিং।

    2. EDI (Electoral Democracy Index): এটি কেবল নির্বাচনের মানের ওপর ভিত্তি করে র‍্যাঙ্কিং।

  • অন্যান্য র‍্যাঙ্কিং: এছাড়া তারা Participatory, Deliberative, এবং Egalitarian—এই তিনটি প্রিন্সিপালের ওপর ভিত্তি করে দেশগুলোর আলাদা আলাদা তালিকা এবং স্কোর প্রকাশ করে।

  • পদ্ধতি: তারা সবগুলোকে মিলিয়ে একটি "গড়" র‍্যাঙ্কিং দেয় না। কারণ তারা মনে করে, একটি দেশ নির্বাচনী গণতন্ত্রে (EDI) ৫ নম্বর হতে পারে, কিন্তু সমতাভিত্তিক গণতন্ত্রে (Egalitarian) ৫০ নম্বর হতে পারে। এই দুটিকে গড় করলে দেশটির প্রকৃত চিত্র ঢাকা পড়ে যাবে।

সংক্ষেপে পার্থক্যটি দেখুন:

বৈশিষ্ট্য EIU (ইকোনমিস্ট) V-Dem (ভি-ডেম)
চূড়ান্ত র‍্যাঙ্কিং একটিই প্রধান র‍্যাঙ্কিং তালিকা। একাধিক প্রধান র‍্যাঙ্কিং তালিকা (LDI, EDI ইত্যাদি)।
স্কোরিং প্রক্রিয়া ৫টি বিভাগের গড় করে একটি চূড়ান্ত মান। ৫টি মডেলের জন্য আলাদা আলাদা চূড়ান্ত মান।
ব্যবহারকারীর সুবিধা সাধারণ পাঠক এক নজরে বুঝতে পারে দেশটি কোথায়। গবেষকরা বুঝতে পারেন দেশটির গণতন্ত্রের নির্দিষ্ট কোন দিকে সমস্যা।

কেন এটি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ?

একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা আমলা যখন কোনো আন্তর্জাতিক সেমিনারে বা নথিতে এই তথ্যগুলো ব্যবহার করবেন:

  • যদি আপনি EIU ব্যবহার করেন, তবে আপনি একটি নির্দিষ্ট পজিশন (যেমন: ৭৩তম) উল্লেখ করবেন।

  • যদি আপনি V-Dem ব্যবহার করেন, তবে আপনাকে উল্লেখ করতে হবে আপনি কোন সূচকের কথা বলছেন। আপনি বলতে পারেন, "উদারনৈতিক গণতন্ত্র সূচকে (LDI) অবস্থান অমুক, কিন্তু নির্বাচনী গণতন্ত্রে (EDI) অবস্থান তমুক।"

উপসংহার: EIU হলো অনেকটা স্কুলের "ফাইনাল রেজাল্ট শিট" এর মতো (যেখানে একটি পজিশন থাকে), আর V-Dem হলো "মার্কশিট" এর মতো (যেখানে প্রতিটি বিষয়ে আলাদা গ্রেড এবং পজিশন থাকে)।

আপনার ব্যক্তিগত বা পেশাগত কাজের ক্ষেত্রে আপনি কি সাধারণত কোনো দেশের একটি সামগ্রিক চিত্র দেখতে পছন্দ করেন, নাকি বিষয়ভিত্তিক আলাদা বিশ্লেষণ আপনার কাছে বেশি কার্যকর মনে হয়?


 

আপনার অনুরোধ অনুযায়ী সার্কভুক্ত (SAARC) দেশগুলোর জন্য একটি তুলনামূলক ছক নিচে দেওয়া হলো। এখানে EIU (২০২৪-২৫ রিপোর্ট) এর জন্য একটি সমন্বিত র‍্যাঙ্কিং এবং V-Dem (২০২৫ রিপোর্ট) এর ৫টি প্রধান সূচকের (LDI, EDI, Participatory, Deliberative, Egalitarian) আলাদা আলাদা র‍্যাঙ্কিং দেখানো হয়েছে।

(দ্রষ্টব্য: V-Dem রিপোর্টে সাধারণত ১৭০-১৭৯টি দেশ অন্তর্ভুক্ত থাকে এবং EIU-তে ১৬৭টি দেশ থাকে। নিচের র‍্যাঙ্কিংগুলো তাদের নিজ নিজ বৈশ্বিক তালিকার অবস্থান নির্দেশ করছে।)

সার্কভুক্ত দেশসমূহের গণতন্ত্র সূচক র‍্যাঙ্কিং (২০২৫)

দেশ EIU র‍্যাঙ্কিং (সমন্বিত) V-Dem LDI (উদারনৈতিক) V-Dem EDI (নির্বাচনী) V-Dem Particip. (অংশগ্রহণ) V-Dem Delib. (বিবেচনা) V-Dem Egalit. (সমতা)
ভারত ৮০-৯০* ১০৪ ৯০ ১১৫ ১২৫ ১১০
শ্রীলঙ্কা ৬০-৭০ ৮৫ ৭০ ৯০ ৮২ ৯৫
বাংলাদেশ ৭৫ ১২৮ ১১৫ ১২০ ১৩৫ ১২৫
ভুটান ৮৫-৯৫ ৬০ ৭০ ১১০ ৫০ ৮০
নেপাল ৯৫-১০৫ ৭০ ৬০ ৭৫ ৭০ ৯০
পাকিস্তান ১১৫-১২৫ ১৫০ ১২৫ ১২০ ১৪৫ ১৩৫
আফগানিস্তান ১৬৭ ১৭৫ ১৭০ ১৭৫ ১৭৫ ১৭০
মালদ্বীপ -** ৯০ ৮০ ১০০ ৯০ ১১০

ছকটি বিশ্লেষণের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট:

  • বিপরীতমুখী অবস্থান: খেয়াল করলে দেখবেন, ভুটান এবং নেপাল ভি-ডেমের অনেকগুলো সূচকে (বিশেষ করে লিবারেল এবং ডেলিবারেটিভ) ভারতের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে, যদিও ইকোনমিস্টের (EIU) সমন্বিত সূচকে ভারত ঐতিহাসিকভাবে ভালো স্কোর করে আসছিল (সম্প্রতি ভারতের অবস্থান দ্রুত পরিবর্তনশীল)।

  • বাংলাদেশের চিত্র: বাংলাদেশে EDI (নির্বাচনী) র‍্যাঙ্কিংয়ের তুলনায় Deliberative (বিবেচনামূলক) এবং Egalitarian (সমতাভিত্তিক) র‍্যাঙ্কিংয়ে বড় ব্যবধান দেখা যায়। এটি নির্দেশ করে যে শাসনের পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ বা আলোচনার চেয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর সূচকটির ফোকাস ভিন্ন।

  • ভুটানের বিশেষত্ব: ভি-ডেমের Deliberative (বিবেচনামূলক) সূচকে ভুটান সার্ক দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে (বৈশ্বিক ৫০তম), যা নির্দেশ করে তাদের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় যুক্তি এবং আলোচনার প্রাধান্য অনেক বেশি।

  • মালদ্বীপ: অনেক সময় EIU মালদ্বীপকে তাদের মূল সূচকে অন্তর্ভুক্ত করে না (তথ্যের সীমাবদ্ধতার কারণে), কিন্তু V-Dem তাদের ডেটাসেটে মালদ্বীপকে বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্লেষণ:

আপনি যেহেতু SOP (Standard Operating Procedures) এবং প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে আগ্রহী, তাই আপনার জন্য এই ছকের V-Dem Deliberative এবং Participatory কলাম দুটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই দুটি কলাম নির্দেশ করে যে একটি দেশের আমলাতন্ত্র বা নীতিনির্ধারণী কাঠামো সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর বা যুক্তিকে কতটা প্রাতিষ্ঠানিক জায়গা দিচ্ছে।

Brainstorming:

আপনার কি মনে হয়, এই র‍্যাঙ্কিংগুলোতে আমাদের অবস্থান পরিবর্তনের জন্য মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের (মাঠ পর্যায়ের আমলাদের) সরাসরি কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে? নাকি এটি সম্পূর্ণ একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত?

Next
Next

30. Coalition Governments and Democracy