সরকারের ত্রি-অঙ্গের মূল উৎস সন্ধান: 'The Spirit of Laws' গ্রন্থের একটি বিশ্লেষণাত্মক পাঠ (৬)


ব্যারন ডি মন্টেস্কু ১৭৪৮ সালে প্রকাশিত তার কালজয়ী গ্রন্থ 'The Spirit of the Laws' (ফরাসি: De l'esprit des loix) এ রাষ্ট্রবিজ্ঞান, আইন এবং সমাজতত্ত্বের এক বিশাল আকর তৈরি করেছেন। ৩১টি খণ্ডে বিভক্ত এই বিশাল গ্রন্থটির মূল বিষয়বস্তু ও অধ্যায়ভিত্তিক সারসংক্ষেপ নিচে আলোচনা করা হলো।

মন্টেস্কু মূলত দেখিয়েছেন যে, আইন কোনো দৈব বিষয় নয়; বরং জলবায়ু, ধর্ম, অর্থনীতি এবং শাসনব্যবস্থার প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে আইন পরিবর্তিত হয়।

১. আইনের সাধারণ সংজ্ঞা (বই ১)

মন্টেস্কু শুরুতেই আইনের সংজ্ঞা দিয়েছেন। তার মতে, আইন হলো প্রকৃতির আবশ্যিক সম্পর্ক। তিনি তিন ধরনের আইনের কথা বলেছেন:

  • আর্ন্তজাতিক আইন (Law of Nations): রাষ্ট্রসমূহের মধ্যকার সম্পর্ক।

  • রাজনৈতিক আইন (Political Law): শাসক ও শাসিতের সম্পর্ক।

  • নাগরিক আইন (Civil Law): নাগরিকদের পারস্পরিক সম্পর্ক।


২. সরকার বা শাসনব্যবস্থার প্রকৃতি ও নীতি (বই ২ - ৮)

মন্টেস্কু শাসনব্যবস্থাকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন এবং প্রতিটির জন্য একটি করে 'চালিকাশক্তি' বা 'নীতি' (Principle) চিহ্নিত করেছেন:

শাসনের ধরন প্রকৃতি (Nature) মূল নীতি (Principle)
প্রজাতন্ত্র (Republic) জনগণ বা জনগণের অংশবিশেষের হাতে ক্ষমতা। দেশপ্রেম বা পুণ্য (Virtue): নাগরিকরা স্বার্থের চেয়ে দেশ বড় ভাববে।
রাজতন্ত্র (Monarchy) একজনের হাতে ক্ষমতা, তবে নির্দিষ্ট আইন মেনে। মর্যাদা (Honor): রাজা ও অভিজাতদের সম্মানবোধ।
স্বৈরতন্ত্র (Despotism) একজনের ইচ্ছা বা খেয়ালখুশিতে দেশ চলে। ভয় (Fear): ত্রাসের মাধ্যমে শাসন কায়েম।


৩. রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও ক্ষমতার পৃথকীকরণ(বই ১১ - ১৩)

এটি এই বইয়ের সবচেয়ে আলোচিত অংশ। মন্টেস্কু ইংল্যান্ডের সংবিধান বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে, রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে ক্ষমতার পৃথকীকরণ জরুরি।

  • তিনটি বিভাগ: আইন (Legislative), নির্বাহী (Executive) ও বিচার (Judicial) বিভাগকে সম্পূর্ণ আলাদা হতে হবে।

  • বিখ্যাত উক্তি: "যদি আইন বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগ একই ব্যক্তির হাতে থাকে, তবে সেখানে স্বাধীনতা থাকে না; কারণ সেখানে স্বৈরাচারী আইন প্রণয়ন ও তা নিষ্ঠুরভাবে প্রয়োগের ভয় থাকে।"

৪. জলবায়ু ও ভূগোলের প্রভাব (বই ১৪ - ১৮)

মন্টেস্কু একটি অদ্ভুত কিন্তু যুগান্তকারী তত্ত্ব দেন। তিনি বলেন, মানুষের চরিত্র ও রাষ্ট্রের আইন জলবায়ু দ্বারা প্রভাবিত হয়।

  • শীতল জলবায়ু: মানুষ সাহসী ও পরিশ্রমী হয়, তাই সেখানে স্বাধীনতা বেশি থাকে।

  • উষ্ণ জলবায়ু: মানুষ অলস ও ভীরু হয়, যা স্বৈরতন্ত্র ও দাসপ্রথার জন্ম দেয়।

৫. বাণিজ্য, ধর্ম ও সমাজ (বই ১৯ - ২৬)

এখানে তিনি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছেন:

  • বাণিজ্য: বাণিজ্য যুদ্ধের প্রবণতা কমায় এবং জাতিগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ায়।

  • ধর্ম: তিনি ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্মের সাথে শাসনব্যবস্থার সম্পর্কের তুলনা করেছেন। তার মতে, ধর্ম নৈতিকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

৬. আইনের বিবর্তন ও ইতিহাস (বই ২৭ - ৩১)

শেষের দিকের অধ্যায়গুলোতে তিনি রোমান আইন এবং ফরাসি সামন্ততান্ত্রিক (Feudal) আইনের ইতিহাস বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে সমাজ পরিবর্তনের সাথে সাথে পুরনো আইনগুলো বিবর্তিত হয়েছে।

বইটির মূল সারাংশ (Summary Points)

১. আইনের আপেক্ষিকতা: কোনো নির্দিষ্ট দেশের আইন অন্য দেশের জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। আইন হতে হবে ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী।

২. ব্যক্তি স্বাধীনতা: সরকারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নাগরিকের স্বাধীনতা রক্ষা করা।

৩. নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য (Checks and Balances): ক্ষমতাকে কেবল ক্ষমতাই রুখতে পারে। তাই প্রতিটি বিভাগের ওপর অন্য বিভাগের নজরদারি থাকতে হবে।

মন্টেস্কুর এই বইটি আধুনিক গণতান্ত্রিক সংবিধানের ভিত্তি। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান এবং বর্তমান সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারণা এই 'স্পিরিট অফ লজ' থেকেই উৎসারিত।


 

বিস্তারিতঃ একাদশ খন্ডের ষষ্ঠ অধ্যায় (তিন অংগের স্বতন্ত্রীকরণ)



মঁতেস্কুর 'The Spirit of the Laws' (১৭৪৮) গ্রন্থের একাদশ খণ্ডের ষষ্ঠ অধ্যায়ে (Book XI, Chapter 6) মূলত সরকারের তিনটি বিভাগের স্বতন্ত্রতা এবং ক্ষমতার পৃথকীকরণ (Separation of Powers) নীতিটি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই অধ্যায়টির শিরোনাম হলো "Of the Constitution of England"



রাজনৈতিক দর্শনের ইতিহাসে ব্যারন ডি মঁতেস্কুর 'The Spirit of the Laws' একটি কালজয়ী গ্রন্থ। এই গ্রন্থের একাদশ খণ্ডে তিনি স্বাধীনতার স্বরূপ বিশ্লেষণ করেছেন। মঁতেস্কুর মতে, রাজনৈতিক স্বাধীনতা মানে যা খুশি তা করা নয়, বরং আইনের শাসনের অধীনে নিরাপদ বোধ করা। আর এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র পথ হলো সরকারের ক্ষমতাকে তিনটি স্বতন্ত্র বিভাগে ভাগ করা।



Make it stand out

তিনটি বিভাগের সংজ্ঞা

মঁতেস্কু সরকারের কাজকে তিনটি সুনির্দিষ্ট ভাগে ভাগ করেছেন। তিনি লিখেছেন:

"In every government there are three sorts of power: the legislative; the executive in respect to things dependent on the law of nations; and the executive in regard to matters that depend on the civil law."

পরবর্তীতে তিনি এই তিনটি বিভাগকে আইন (Legislative), নির্বাহী (Executive) এবং বিচার (Judicial) বিভাগ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

বিভাগীয় স্বতন্ত্রতার অপরিহার্যতা (মূল কোটেশন)

মঁতেস্কু অত্যন্ত কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন যে, এই তিনটি বিভাগ যদি একে অপরের সাথে মিশে যায়, তবে নাগরিকের কোনো স্বাধীনতা অবশিষ্ট থাকে না।

১. আইন ও নির্বাহী বিভাগের একত্রীকরণ:

যদি আইন প্রণয়নকারী এবং আইন প্রয়োগকারী একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী হয়, তবে সেখানে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম হয়। তিনি লিখেছেন:

"When the legislative and executive powers are united in the same person, or in the same body of magistrates, there can be no liberty; because apprehensions may arise, lest the same monarch or senate should enact tyrannical laws, to execute them in a tyrannical manner."



২. বিচার বিভাগের স্বতন্ত্রতা:

মঁতেস্কুর মতে, বিচার বিভাগ যদি অন্য দুই বিভাগের প্রভাবমুক্ত না হয়, তবে মানুষের জীবন ও স্বাধীনতা বিপন্ন হবে। তিনি বলেন:

"Again, there is no liberty, if the judiciary power be not separated from the legislative and executive. Were it joined with the legislative, the life and liberty of the subject would be exposed to arbitrary control; for the judge would be then the legislator. Were it joined to the executive power, the judge might behave with violence and oppression."



৩. তিন শক্তির একত্রীকরণ (চরম স্বৈরতন্ত্র):

যদি একজন ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠান এই তিনটি কাজই করে, তবে সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে:

"To prevent this abuse, it is necessary from the very nature of things that power should be a check to power."

ক্ষমতার ভারসাম্য: Power should be a check to power

মঁতেস্কু কেবল বিভাগগুলোকে আলাদা করতে বলেননি, বরং তিনি 'Checks and Balances' বা নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্যের কথা বলেছেন। তার বিখ্যাত উক্তি:

"Constant experience shows us thatevery man invested with power is apt to abuse it... to prevent this abuse, it is necessary from the very nature of things that power should be a check to power."

অর্থাৎ, ক্ষমতাকে কেবল ক্ষমতা দিয়েই রুখতে হবে। আইনসভা যদি শক্তিশালী না হয় এবং তার নিজস্ব সচিবালয় বা গবেষণা সক্ষমতা না থাকে, তবে সে নির্বাহী বিভাগকে 'চেক' বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।



মঁতেস্কুর এই দর্শন আধুনিক গণতান্ত্রিক সংবিধানের ভিত্তি। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আইনসভা হবে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন, কিন্তু তা যদি নির্বাহী বিভাগের আজ্ঞাবহ হয়ে পড়ে, তবে সংবিধান কেবল একটি কাগজের দলিলে পরিণত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে আইনসভাকে শক্তিশালী করার যে দাবি আপনি তুলছেন, তার মূল শেকড় প্রোথিত আছে মঁতেস্কুর এই আড়াইশ বছর আগের দর্শনে।

প্রবন্ধের গুরুত্ব:

এই প্রবন্ধটি আপনি যখন সংসদ সদস্যদের বা নীতিনির্ধারকদের দেওয়া হবে, তখন এটি প্রমাণ করবে যে— আইনসভাকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রকে স্বৈরতন্ত্র থেকে বাঁচানোর একমাত্র বৈজ্ঞানিক পথ।


 

ক্ষমতার পৃথকীকরণ মডেল: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট


বাংলাদেশের বর্তমান সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষিতে একটি আধুনিক ও কার্যকর 'ক্ষমতার পৃথকীকরণ মডেল' (Power Separation Model) নিচে বর্ণনা করা হলো। এই মডেলটি মঁতেস্কুর মূল দর্শনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, তবে বাংলাদেশের সুশাসনের অভাব এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করার জন্য এতে কিছু 'জবাবদিহিমূলক নিয়ন্ত্রণ' (Accountability Checks) যোগ করা হয়েছে। এই মডেলটি একটি সুনির্দিষ্ট 'সংস্কার প্রস্তাব' (Reform Proposal) হিসেবে কাজ করবে।


বাংলাদেশের বর্তমান ব্যবস্থায় নির্বাহী বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে কোনো স্পষ্ট দেয়াল নেই। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরাই সংসদের মূল চালিকাশক্তি। এই অবস্থায় ক্ষমতার সম্পূর্ণ পৃথকীকরণ সম্ভব না হলেও, একটি 'কার্যকর ভারসাম্য' (Functional Balance) প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

নিচে একটি ডায়াগ্রামের বিবরণ দেওয়া হলো যা এই মডেলটি ব্যাখ্যা করবে:


১. ডায়াগ্রামের কাঠামো (Visualizing the Model)

কল্পনা করুন একটি ত্রিভুজ, যার তিনটি কোণে তিনটি বিভাগ (আইন, নির্বাহী ও বিচার) অবস্থান করছে। কিন্তু প্রথাগত মডেলের মতো তারা বিচ্ছিন্ন নয়, বরং একে অপরের সাথে শক্তিশালী 'জবাবদিহিতার তীরের' (Arrows of Accountability) মাধ্যমে সংযুক্ত।


ক) আইন বিভাগ (The Core): শক্তিশালী ও স্বতন্ত্র সংসদ

  • পরিচয়: জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রতীক।

  • সংস্কার: সংসদ সচিবালয় সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত হবে। প্রেষণে আসা আমলাদের পরিবর্তে নিজস্ব 'পার্লামেন্টারি ক্যাডার' থাকবে। একটি বিশাল 'সংসদীয় গবেষণা সেল' প্রতিটি বিল ও বাজেটের নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ করবে।

  • জবাবদিহিতার তীর: এটি নির্বাহী বিভাগকে বাজেট ও নীতির মাধ্যমে এবং বিচার বিভাগকে নিয়োগ বা অভিশংসন বিধির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করবে।


খ) নির্বাহী বিভাগ (The Executor): জবাবদিহিমূলক সরকার

  • পরিচয়: প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা, যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন।

  • সংস্কার: মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকবে (অনুচ্ছেদ ৫৫)। নির্বাহী বিভাগের প্রতিটি বিধি (Rule) বা প্রবিধান (Regulation) সংসদীয় কমিটির বাধ্যতামূলক নিরীক্ষার আওতায় থাকবে। আমলাতন্ত্রের ওপর একক কর্তৃত্ব কমবে।

  • জবাবদিহিতার তীর: এটি আইনসভার পাস করা আইন বাস্তবায়ন করবে এবং বিচার বিভাগের রায় মেনে চলবে।


গ) বিচার বিভাগ (The Arbiter): স্বাধীন ও নিষ্কলুষ বিচার ব্যবস্থা

  • পরিচয়: সংবিধান ও আইনের ব্যাখ্যাদাতা।

  • সংস্কার: নিম্ন আদালত সম্পূর্ণভাবে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে থাকবে, আইন বা নির্বাহী মন্ত্রণালয়ের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। বিচারক নিয়োগে একটি 'স্বতন্ত্র জুডিশিয়াল কমিশন' থাকবে।

  • জবাবদিহিতার তীর: এটি নির্বাহী বা আইনসভার কোনো সিদ্ধান্ত সংবিধানবিরোধী হলে তা বাতিল (Judicial Review) করতে পারবে।


২. বাংলাদেশে এই মডেল প্রয়োগের রোডম্যাপ (Action Plan)

মঁতেস্কুর দর্শনে "Power should be a check to power"—এই নীতিটি বাংলাদেশে প্রয়োগ করতে হলে নিচের সংস্কারগুলো অপরিহার্য:


পদক্ষেপ ১: সংসদীয় ক্ষমতার পুনরুদ্ধার

  • রিসার্চ সেন্টার স্থাপন: আইন পাসের আগে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে এমপিদের নিরপেক্ষ তথ্যের ব্যবস্থা করা।

  • ৭০ অনুচ্ছেদের সংস্কার: অন্তত সাধারণ বিল ও বাজেটের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া।

  • দেশ বিদেশের বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার সাথে যৌথ চুক্তি স্বাক্ষরঃ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে বিভিন্ন চুক্তি স্বাক্ষর করা যেতে পারে, যাতে সাংসদরা বিভিন্ন পর্যায়ের মান-সম্পন্ন গবেষণা দ্বারা নিজেদেরকে সমৃদ্ধ করতে পারে, এবং দেশের বিদ্যমান আইন ও বিধিকে সংশোধন করতে পারে, এবং জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ আইন ও বিধি প্রণয়ণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে।

পদক্ষেপ ২: আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা

  • সংসদীয় সচিবালয়ের ক্যাডার: সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের কারিগরি সহায়তা দেওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞ স্টাফ নিয়োগ দেওয়া।

  • বিধি অডিট উইং: নির্বাহী বিভাগ যখন কোনো বিধি তৈরি করে, তা যেন সংবিধান বা মূল আইনের ফাঁকফোকর তৈরি না করে, তা নিরীক্ষার জন্য সংসদে একটি বিশেষজ্ঞ উইং থাকবে।

পদক্ষেপ ৩: বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা

  • নিয়োগ প্রক্রিয়া সংস্কার: বিচারক নিয়োগে নির্বাহী বিভাগের একক কর্তৃত্ব কমিয়ে একটি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতি চালু করা।

ক্ষমতার পৃথকীকরণ মানে তিনটি বিভাগ যুদ্ধ করা নয়, বরং একে অপরের ওপর পাহারাদারি করাআইনসভা যদি তথ্য ও গবেষণায় দুর্বল থাকে, তবে মঁতেস্কুর 'সুপ্রিমেসি' বা 'চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স' ভূমিকা—কোনোটিই কার্যকর হবে না। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে আইনসভাকে একটি স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড় করানো ছাড়া বিকল্প নেই।

Previous
Previous

গণতন্ত্রঃ গ্রহণযোগ্য সংগা, আব্রাহাম লিংকন প্রদত্ত সংগার বিশ্লেষণ ও গেটিসবার্গ এ্যাড্রেস (৭)

Next
Next

পাঠ্য তালিকাঃ স্বতন্ত্র ও জবাবদিহিতার ক্ষমতাসম্পন্ন আইনসভা (৫)